মেইন ম্যেনু

জবাই করা গরুর উপরে উঠে সেলফি! সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়

জবাই করা কুরবানির গরুর ওপর উঠে ছবি তোলায় সামাজিক মাধ্যমে (সোশ্যাল মিডিয়া) তোলপাড় শুরু হয়েছে। এমন উদ্ভট আচরণে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা লজ্জিত, অবাক এবং মর্মাহত বলে মন্তব্য করেছেন।

সবচেযে বেশি দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে একটি গরুকে পাঁচবার জবাই করায়। অথচ শুধু কুরবানির পশুই নয়, যে কোনো পশু জবাইয়ের আগে অস্ত্রটি ধারালো কিনা তা পরীক্ষা করে নেয়া উচিত।

কুরবানির পশু গরু জবাইয়ের পর তার ওপর বসে ছবি তুলে ফেসবুকে প্রকাশ করায় কয়েকটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। তবে এসব ছবির মধ্যে দুটি ছবি নিয়ে আলোচনা বেশি হয়েছে। ছবি দুটি নিয়ে অনেকের মতো মিম আফরোজা নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, অমানুষের বাচ্চাদের কাণ্ডজ্ঞান দেখুন। নিথর অবলার গায়ে একপাল পশুই সাক্ষ্য দিচ্ছে, পশুত্বের কুরবানি হয়নি।

মো. মনিরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘কিছু না লিখে পারলাম না। আসলে ওরা জানে না কুরবানি মানে কি? এই ছবিই বলে দেবে এরা কি কুরবানির নিয়তে গরু জবাই করছে না গোস্ত খাবার ধান্দায় মাতাল হয়ে আছে। আল্লাহু তুমি এই নির্বোধদের জ্ঞান দাও।’

জগলুল হোসেন লিখেছেন, ‘একবার চিন্তাও করল না যে কি করছি। আসলে কুরবানি দেওয়ার জন্য নয়, এটা করার জন্যই বোবা প্রাণিটাকে হত্যা করা হয়েছে মাত্র।’

রায়হান বাবু লিখেছেন, ‘বিবেক হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত। যার বিবেকই নাই, তার তো কুরবানির দরকার নাই। এই সব অমানুষদের আসলে কি করা উচিত তাই ভেবে পাচ্ছি না। শয়তানের বংশধর।’

সাঈদ আনাম লিখেছেন, ‘ওরা গরু নিয়ে সময় কাটাতে গিয়ে নিজেদের মাঝে পশুর চরিত্র আপলোড হয়ে গেছে। মাইন্ড কইরেন না।’

ত্যাগ ও ইবাদত কবুলের ঈদ হলো ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় মুসলমানদের তাকওয়ার পরিচয় দিতেই পশু জবাই করা হয়। কুরআন এবং হাদিসে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহর কাছে কুরবানির পশুর রক্ত, মাংস কিছুই পৌঁছে না। পৌঁছে শুধু নিয়্ত এবং তাকওয়া।

জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ঈদুল আজহা উদযাপিত হলেও পরের দুদিন অর্থাৎ ১১ ও ১২ জিলহজও পশু কুরবানির বিধান রয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেকে ওই দুদিনও পশু কুরবানি করে থাকেন। কুরবানির মধ্য দিয়ে নিজের ভেতরের পশুত্বকে পরিহার করা ও হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মঙ্গলবার সকালে মুসল্লিরা ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করেছেন। কিন্তু কুরবানির ঈদের এই দিনে পশু জবাই করার পর এবং জবাই করার সময় পশুকে কে কষ্ট দেওয়া হয়েছে মহান আল্লাহ ক্ষমা করবেন কিনা তিনিই ভালো জানেন। এসব বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে এমন ছবি আপলোড করা ন্যক্কারজনক।






মন্তব্য চালু নেই