মেইন ম্যেনু

জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করবেন ট্যানারি মালিকরা

চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প প্রতিষ্ঠান ট্যানারি রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তর না করা পর্যন্ত প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ মানতে নারাজ ট্যানারি শিল্প মালিকরা। হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে তারা সুপ্রিমকোর্টে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হাইকোর্টের আদেশের রায়ের কপি হাতে এলেই আপিল করবে বলে জানিয়েছে ট্যানারি মালিকরা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ট্যানারিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক মো. শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ের বিষয়ে আমরা শুনেছি। আমরা হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো।’

কবে নাগাদ হাইকোর্টের আদেশের কপি পাবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজকেই হয়তো আমরা আদেশের কপি পাবো। আদেশের কপি পেলে আমার এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করবো। ৫০ হাজার টাকা করে প্রতিদিন জরিমান গুনতে পারবো না।’

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চামড়া ব্যাবসায়ীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে। এরই মধ্যে হাইকোর্টের রায় তাদের কাজে আরো চাপ সৃষ্টি হবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যানারিগুলোর সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে আদালতের জিজ্ঞাসার জবাবে ১৫৫ ট্যানারির তালিকা বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) আদালতে দাখিল করেছিলো শিল্প মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে কেবল রিলায়েন্স ট্যানারি লিমিটেড ইউনিট-২ নামের একটি প্রতিষ্ঠান সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানান শিল্পসচিব। বাকি ১৫৪টি ট্যানারি স্থানান্তরিত হয়নি।

এরপর জরিমানার আদেশ দিয়ে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।

গত (১৯ জুন) রোববার দীর্ঘদিন ধরে ওই আদেশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় অন্য এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প সরিয়ে নিতে ২০০৯ সালের ২৩ জুন হাইকোর্ট ফের নির্দেশ দেন। সরকারপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরে ওই সময়সীমা কয়েক দফা বাড়িয়ে ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যেও ট্যানারি স্থানান্তরিত না হওয়ায় আদালত অবমাননার মামলা করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

এ মামলার প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল আদালত অবমাননার রুল জারি করেন হাইকোর্ট। পরে গত বছরের ২১ এপ্রিল আদালতের তলবে হাইকোর্টে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন শিল্পসচিব।

এর আগে গত ১৩ এপ্রিল রাজধানীর হাজারীবাগে এখনো যেসব ট্যানারি ব্যবসা পরিচালনা করছে তাদের তালিকা চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। আদালতের এ আদেশ অনুসারে শিল্পসচিবের পক্ষে আইনজীবী রইস উদ্দিন ১৫৫টি ট্যানারির তালিকা হস্তান্তর করেন। এর মধ্যে মাত্র একটি ট্যানারি স্থানান্তরিত হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, ‘আদালতের আদেশ অমান্য করায় আমি আদালত অবমাননার আবেদন করি। সে আবেদনের ওপর ভিত্তি করেই আদালত প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে নির্দেশ দেন।






মন্তব্য চালু নেই