মেইন ম্যেনু

জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে আরো ‘কঠোর’ হচ্ছে ভারত

ইসলামি বক্তা জাকির নায়েকের পিস টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধের পর এবার তার বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থার’ কথা ভাবছে ভারত।

ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জাকিরের বিপুল জনসমর্থনের বিষয়টি মাথায় রেখে আটঘাট বেঁধে এগোচ্ছে দেশটির সরকার। আর তাই জাকিরের বিরুদ্ধে তদন্তে ৯টি দল গঠন করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

৯টি দলের মধ্যে চারটি জাকিরের বক্তব্যের ভিডিও ও সিডি-র ফুটেজগুলি খতিয়ে দেখবে। তিনটি দল খতিয়ে দেখবে জাকিরের সোশ্যাল মিডিয়ার গতিবিধি। আর জাকিরের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দুটি দলের ওপর।

ওই দলগুলিতে থাকছেন এনআইএ, ইনটেলিজেন্স ব্যুরো, র এবং রেভিনিউ ইনটেলিজেন্সের প্রতিনিধিরা। জাকিরের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নামে পাঠানো অর্থ কোন খাতে খরচ করা হয়েছে বা বিদেশি অনুদান নেয়ার ক্ষেত্রে আইন মানা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত দশ বছরে জাকির কোন কোন দেশে গিয়েছেন, কাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং সেই সফরের জন্য কারা টাকা ঢেলেছে, সেটাও রয়েছে তদন্তের আওতায়। জাকিরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের কাজকর্মও যথেষ্ট সন্দেহজনক বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, সৌদি আরবের মতো মুসলিম দেশগুলি থেকে বিশেষ উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণে টাকা পাঠানো হচ্ছে জাকিরের সংস্থাকে। সমাজসেবার নামে যা ছড়িয়ে দেয়া হয় গোটা দেশে।

ঢাকার গুলশানে স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিসান বেকারিতে হামলাকারী দুই জঙ্গি ও হায়দরাবাদে ধরা পড়া আইএস জঙ্গি এই জাকির নায়েকের ভক্ত ছিল। এ খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশ অনুরোধ করলে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করা হবে বলে জানায় ভারত।

রোববার (১০ জুলাই) বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছে বিহার পুলিশ। তারা জানিয়েছে, পাটনার গান্ধি ময়দান ও বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণে আটক জঙ্গিদের কাছ থেকেও জাকিরের বক্তৃতার সিডি ও বই উদ্ধার করেছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)।

তদন্তে আটকরা জানিয়েছিল, তারা নিয়ম করে জাকিরের বক্তৃতা শুনত। সে সময়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণলয়ের কাছে একটি রিপোর্টও জমা দিয়েছিল এনআইএ।

জঙ্গিবাদে উৎসাহ জোগানের অভিযোগ নিয়ে এরই মধ্যে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে মহারাষ্ট্র সরকার। মুম্বাইয়ে তার অফিস ঘিরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ভারতের সম্প্রচারমন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নাইডু গত শুক্রবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, ‘আমরা অভিযোগ তদন্ত করছি। কারণ এটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, সেই সঙ্গে সামাজিক সম্প্রীতির জন্যও হুমকি।’

বাংলাদেশেও জাকির নায়েকের পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধের ইঙ্গিত এসেছে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর কথায়। শনিবার একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এই টিভিটি সম্পর্কে কিছু অভিযোগ আমাদের গোচরীভূত হয়েছে। এগুলো খতিয়ে দেখা হবে। মন্ত্রণালয়ের অফিস খুললেই কাজ শুরু হবে। অল্প সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে সরকারের স্ট্যান্ড আমরা স্পষ্ট করব।’

জাকির নায়েক তার নিজের প্রতিষ্ঠিত পিস টিভিতে ধর্ম নিয়ে যে আলোচনা করেন বাংলাদেশসহ বাংলাভাষী মানুষের কাছে তা পৌঁছাতে সেগুলো বাংলা ডাবিং করে সম্প্রচার করে চ্যানেলটি। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জাকির নায়েকের বক্তব্যে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী ওসামা বিন লাদেনকে সন্ত্রাসী বলতে অস্বীকার করেছিলেন তিনি। তার বক্তৃতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বহু তরুণ জঙ্গিবাদে ঝুঁকছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেছেন, পিস টিভি সম্প্রচারের বৈধ কোনো লাইসেন্স নেই। ২০০৯ সালে সম্প্রচারের অনুমতি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন জানালেও তা দেয়া হয়নি বলে জানান ওই কর্মকর্তা।






মন্তব্য চালু নেই