মেইন ম্যেনু

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বুরুন্ডির সৈন্য নিষিদ্ধ

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অযথা হয়রানি ও নির্যাতনে লিপ্ত ছিলেন, সেনাবাহিনীর এমন সদস্যদের নিষিদ্ধ করা হচ্ছে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে। ইতোমধ্যেই বুরুন্ডির ৩ পদস্থ সেনা কর্মকর্তাকে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে অবস্থিত মিশন থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ জারি হয়েছে। আরও কয়েকটি দেশের ট্রুপস সম্পর্কেও উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত চলছে। জাতিসংঘ অবশ্য এ প্রসঙ্গে জানিয়েছে যে, শান্তিরক্ষা মিশনে যোগদানের প্রাক্কালে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র থেকে ওই অফিসারদের গুরুতর অপরাধে লিপ্ত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গোলযোগপূর্ণ অঞ্চলে জাতিসংঘের ১৬টি শান্তিরক্ষা মিশনে লক্ষাধিক ট্রুপস কাজ করছে। এজন্যে বার্ষিক ব্যয় হচ্ছে ৮ বিলিয়ন ডলার। এ অর্থের ২৫% আসে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া অনুদান থেকে।

জাতিসংঘ সদর দফতর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মিশনে নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্টদের অতীত কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে যাচাইয়ের তেমন কোন ব্যবস্থা জাতিসংঘের নেই বিধায় এমন অনেকে এ দায়িত্ব পাচ্ছে যারা নিজেরাই জনজীবনকে বিপর্যস্ত করতে অভ্যস্ত। এ কারণে, শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরতদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ বেড়েই চলেছে। ২০০৮ সাল থেকে তা সকলকে উদ্বিগ্ন করলেও এখন পর্যন্ত ব্যাকগ্রাউন্ড খতিয়ে দেখার জন্যে পর্যাপ্ত প্রক্রিয়া অবলম্বনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

জাতিসংঘ নিযুক্ত মানবাধিকার টিমের পক্ষ থেকেও গত সেপ্টেম্বরে বুরুন্ডিতে ক্ষমতাসীন সরকার কর্তৃক তার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক কর্মীদের নির্যাতন-হয়রানিতে দেশটির সেনাবাহিনীকে ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ করা হয়। এই টিমের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয় যে, বুরুন্ডির সেনাবাহিনীর সদস্য-কর্মকর্তারা বর্বরোচিত আচরণে লিপ্ত রয়েছে রাজনৈতিক কর্মীদের দমনে। এর আগে, গত জুনে মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক বলেছিলেন, বুরুন্ডির ট্রুপসকে আর নেয়া হবে না শান্তিরক্ষা মিশনে। সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে কর্মরত ২৮০ সৈন্য দায়িত্ব শেষ করার পর আর কাউকেই নেয়া হবে না। কারণ বুরুন্ডি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবতা লংঘনের অভিযোগ চরমে উঠেছে। ’

যদিও এখন পর্যন্ত বুরুন্ডির ট্রুপস নেয়া বন্ধ হয়নি। বর্তমানে সোমালিয়ায় আফ্রিকান ইউনিয়ন মিশনসহ সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে মোট ৫৪০০ জন রয়েছেন। জাতিসংঘ মিশন থেকে সরিয়ে দেয়া বুরুন্ডির ৩ সেনা কর্মকর্তা হলেন মেজর পিয়েরে নিয়নজিমা, লে. কর্ণেল আলফ্রেড মইয়ুয়ু এবং কর্নেল গ্যাসপার্ড বারাটুজা।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচে জাতিসংঘ বিষয়ক পরিচালক অক্ষয় কুমার এ প্রসঙ্গে বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে দুর্যোগ ও গোলযোগপূর্ণ এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পাচ্ছে জাতিসংঘ। ওইসব এলাকার বিপদগ্রস্ত মানুষ জাতিসংঘ মিশনের ওপর ভরসা করছেন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, মিশনের কর্মকর্তাদের অনেকেই নির্যাতনকারী।






মন্তব্য চালু নেই