মেইন ম্যেনু

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন জয়

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন ।

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। দেশকে এগিয়ে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হই। উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ হই, কাজ করি। জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত আর জাতীয় স্লোগান নিয়ে এগিয়ে যাই।

শুক্রবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ‘জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার’ শীর্ষক এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ডাক দেন। সুচিন্তা বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন এ সভার আয়োজন করে ।

জয় বলেন, শুধু তাদের বাদ দেবো যারা রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস যুদ্ধাপরাধী। সেই সঙ্গে সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদ। তাদের আমি চাই না। আর যারা যুদ্ধাপারাধীদের ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় পতাকা দিয়েছেন, জঙ্গিদের আশ্রয় দেয় প্রশ্রয় দেন তাদের আমি চাই না। এছাড়া আসুন, সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।

তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় এসে দু’টো কাজ করলো। জয় বাংলা আওয়ামী লীগের স্লোগান নয়- কিন্তু তারা আরেকটা স্লোগান দাঁড় করালো। সেই পাকিস্তানের স্লোগান জিন্দাবাদ দাঁড় করালো। বিএনপি ক্ষমতায় এসে জোর করে, নতুনভাবে জাতির পিতা দাঁড় করানোর চেষ্টাও করলো। জাতীয় পতাকা যে পাল্টে ফেলেনি, জাতীয় সংগীত যে পাল্টে ফেলেনি এ জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত তাদের! কেননা, বিএনপি আরও ক্ষমতায় যদি থাকতো, তবে ঊর্দুতে জাতীয় সংগীত গাইতে হতো আমাদের।

স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে কোনো আপোস নয় উল্লেখ করে জয় বলেন, যুদ্ধাপারাধীদের বিচার নিয়ে কোনো আপোস হবে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের মধ্যেই কতো সন্দেহ! কাদের মোল্লার যখন যাবজ্জীবন হলো- আমাদের মধ্যেই এতো মানুষ হতাশ হলেন। অনেকেই বলতে লাগলেন যে- আওয়ামী লীগের জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। এটি কি বিশ্বাস করা সম্ভব আওয়ামী লীগ, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করে ফাঁসি দেবে না?

‘সবচেয়ে বেশি সাকার বিচার নিয়ে হতাশা ছিল, ভয় ছিল অনেকের। কেননা, এতে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ছিল। আমরা অপেক্ষায় ছিলাম বিচার কবে হবে, রায় করে হবে। একবার যখন ফাঁসির রায় এসে গেছে, তখন বোধহয় আর সন্দেহ ছিল না, এবার ফাঁসি হবেই হবে। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা ফাঁসির রায় কার্যকর করবেনই। পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই সেটা রুখে দেবে।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জয় বলেন, সাকা-মুজাহিদ পাকিস্তানের এজেন্ট ছিলেন, এটা পাকিস্তান প্রমাণ করে দিয়েছে। একাত্তরে মানুষ হত্যার জন্য পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত। এজন্য তাদের কাছে অফিসিয়ালি দাবিও করা উচিত।

আর স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি বেশি দিন ক্ষমতায় থাকলেও দেশ এগোয়নি উল্লেখ করে জয় বলেন, আজ স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় আছে বলেই দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি বাংলাদেশ চায়নি, তাই উন্নয়ন করেনি। তাই আমি ডাক দিতে চাই- স্বাধীনতার চেতনায় যারাই আছেন, এর বাইরে সুশীল যারা আছেন- আসুন বাংলাদেশের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হই।

সবাই মিলে ঐক্যের পথে থাকি এমন আহ্বান জানিয়ে জয় বলেন, এদেশের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, নাস্তিক সবাই বাংলাদেশের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হই। জাতীয় প্রশ্নে আমাদের ঐক্যের ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে হবে। শুধু দোষ খুঁজলে হবে না। আওয়ামী লীগের ভুল হচ্ছে, দেশ গেলো-গেলো, এসব বলার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।

এ সময় দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ঐক্য ধরে রাখতে অনুরোধ- স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় রাখুন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুচিন্তা বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যন মোহাম্মদ এ আরাফাত। অন্যদের মধ্যে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী, শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধকালীন ক্রিকেটার রকিবুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।






মন্তব্য চালু নেই