মেইন ম্যেনু

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন নতুন ফরাসি প্রেসিডেন্ট

জাতীয় এবং ইউরোপীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন নবনির্বাচিত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠতে চান নেপোলিয়ন-পরবর্তী যুগের কনিষ্ঠতম এই রাষ্ট্রপ্রধান।

প্রাথমিক ফলাফলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর প্যারিসের লুভ মিউজিয়ামের সামনের সমাবেশে বিভক্তির রাজনীতির বিপরীতে অবস্থান নেন ম্যাক্রন।

রবিবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ম্যাক্রন পেয়েছেন ৬৬.৬ শতাংশ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মেরিন লে পেন পেয়েছেন ৩৩.৯৪ শতাংশ ভোট। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ফ্রান্সের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনার আশ্বাস দিয়ে ম্যাক্রন বলেন, ‘আমি জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠতে চাই।’

দেশে বাম-ডান ধারার মধ্যে সম্পর্কের সেতু প্রতিষ্ঠা করতে চান ম্যাক্রন। থামাতে চান দেশজুড়ে গড়ে ওঠা রক্ষণশীল-জাতীয়তার হুজুগ। অন্য অনেকের মতো তিনিও মনে করেন, ওই হুজুগের কারণেই মার্কিনিরা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নিয়েছে। ব্রিটিশরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগের পক্ষে গেছে।

বিভক্তির বিপরীতে ঐক্যের প্রশ্নে ম্যাক্রন বলেন, ‘আমি আপনাদের ক্ষোভ, উৎকণ্ঠা, শঙ্কার কথা শুনেছি। যেসব শক্তি ফ্রান্সকে বিভক্ত করে পদানত করতে চায়, আমি তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাব। আমি জাতীয় ঐক্য নিশ্চিত করবো। ইউরোপের ঐক্য নিশ্চিত করবো। পুরো বিশ্ব আজ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।’

ম্যাক্রন আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রের বড় লড়াইয়ের পর ফ্রান্সের মানুষ আমাকে বিশ্বাস করে নির্বাচিত করেছে। এটা অনেক সম্মানের। আজ রাতে আপনারা জিতেছেন, জিতেছে ফ্রান্স।’

নির্বাচনী প্রচারণায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সুসম্পর্কের মধ্য দিয়েই ফ্রান্সকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন ম্যাক্রন। জনগণকে সাথে নিয়ে সন্ত্রাসবাদ ও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবেলায় কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি।

বিজয়ী ভাষণে ম্যাক্রন আরও বলেন, ‘আমাদের সামর্থ্য, শক্তি এবং আন্তরিকতা রয়েছে। আর তা আমরা ভয়ের কাছে বিসর্জন দেবো না।’

উল্লেখ্য, ফ্রান্সের রাজনীতিতে বাম ও ডানপন্থী রাজনৈতিক প্রধান দু’টি ধারার বাইরে ১৯৫৮ সালের পর তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। ম্যাক্রনের দলে কোন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকা সত্ত্বেও নতুন এক সরকার গঠন করবেন তিনি। আগামী জুন মাসে দেশটিতে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনের মাধ্যমেই রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করবেন তিনি।






মন্তব্য চালু নেই