মেইন ম্যেনু

জাতীয় দৈনিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রতারণা!

দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক সংবাদপত্রে বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। বলা হয়, জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত একটি বেসরকারি সংস্থা। নেওয়া হবে ৭৩০ জন লোক।

ওই বিজ্ঞাপন দেখে আবেদন করে প্রতারণার শিকার হয়েছেন অন্তত দুই হাজার ব্যক্তি। তাঁদের অভিযোগ, আবেদনের পর পরীক্ষার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে পে অর্ডার বাবদ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষার কথা বললেও নেওয়া হয়নি। এমনকি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কেউই সেখানে ছিলেন না। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও পরীক্ষার বিষয়টি জানে না।

তাই চাকরিপ্রত্যাশীরা নিয়োগকারী ওই প্রতিষ্ঠানের শাস্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।

চাকরিপ্রার্থী বেশ কয়েকজন জানান, জনকল্যাণ সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (জেএসডিও) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা গত ২৫ আগস্ট দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার ৮ নম্বর পৃষ্ঠায় একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে জোনাল ম্যানেজার, সহকারী জোনাল ম্যানেজার, এরিয়া ম্যানেজার, সহকারী এরিয়া ম্যানেজার, শাখা ব্যবস্থাপক, শাখা হিসাবরক্ষক, ফিল্ড অফিসার ও সহকারী ফিল্ড অফিসার পদে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। ওই সব পদে মোট ৭৩০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি মতে, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার প্রার্থীদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে। একই দিনে ওই কেন্দ্রে মৌখিক পরীক্ষা হওয়ার কথা। ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে তাঁরা জেএসডিওর ঢাকার মিরপুরের একটি ঠিকানায় আবেদন করেন। আবেদনের পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জোনাল ম্যানেজার, সহকারী জোনাল ম্যানেজার, এরিয়া ম্যানেজার, সহকারী এরিয়া ম্যানেজার, শাখা ব্যবস্থাপক ও শাখা হিসাবরক্ষক পদের জন্য ১৫০ টাকা করে এবং ফিল্ড অফিসার ও সহকারী ফিল্ড অফিসার পদের জন্য ১০০ টাকা করে পে অর্ডার পাঠাতে বলা হয়। সেই অনুযায়ী তাঁরা মিরপুরের ওই ঠিকানায় পে অর্ডার করে পাঠান।

বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক অন্তত দুই হাজার বেকার তরুণ-তরুণী শুক্রবার সকাল ৯টার আগেই সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে উপস্থিত হন। কিন্তু ৯টা পেরিয়ে গেলেও জেএসডিওর কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর হদিস না পেয়ে এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের কোনো কক্ষ খোলা না পেয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিক তাঁরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারে, এ ধরনের কোনো নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা তাদের জানা নেই। ফলে নিয়োগপ্রার্থীরা একজোট হয়ে জেএসডিওর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে সৈয়দপুর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক অবরোধ করে। সেই সঙ্গে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার অভিযোগ এনে প্রথম আলোর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।

চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে পঞ্চগড়ের রেজাউল করিম, দিনাজপুরের খোরশেদ আলম, চিরিরবন্দরের শাহানাজ ও নীলফামারীর ডোমার উপজেলার রাকিবসহ অনেকে জানান, তাঁরা অনেক আশা নিয়ে টাকা খরচ করে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। এসেই বোঝেন প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল হক বলেন, ‘পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে জেএসডিওর পক্ষে অ্যাডমিন পরিচয়ে এক ব্যক্তি এসেছিলেন সপ্তাহ খানেক আগে। আমি ওই ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠানের বরাবরে আবেদন করতে বলেছি। এর পর আমার সঙ্গে আর কেউ যোগাযোগ করেনি।’

জেএসডিও কর্তৃপক্ষ তাদের বিজ্ঞাপনে কোনো মুঠোফোন নম্বর উল্লেখ না করায় তাদের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের কোনো ওয়েবসাইটও নেই।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, প্রতারণার শিকার বেকার তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে কথা বলার পর তাঁরা অবরোধ তুলে নেন। অপরদিকে প্রতারণার সঙ্গে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেএসডিওর বিজ্ঞাপনে অসঙ্গতি

জেএসডিও তাদের বিজ্ঞাপনের ঠিকানায় উল্লেখ করেছে : হাউস : ১৮, রোড : ২, ব্লক : বি, সেকশন : ৬, মিরপুর-২, ঢাকা ১২১৬। মিরপুরে সেকশন ৬ ও সেকশন ২ দুটিই আছে। এই সংস্থাটি ঠিক কোন সেকশনে অবস্থিত তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। জেএসডিও তাদের বিজ্ঞাপনের শুরুতেই উল্লেখ করেছে যে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত একটি বেসরকারি সংস্থা এবং পিকেএসএফের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত। অধিকাংশ চাকরিপ্রার্থী জানিয়েছেন, জেএসডিও নামে তারা আগে কোনো সংস্থার নাম শোনেননি।

আর পিকেএসএফের (পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন) ওয়েবসাইটে তাদের সহযোগী সংগঠনের তালিকায় জেএসডিওর নাম নেই।

বিজ্ঞাপনের নিচের অংশে আবেদনের নিয়মাবলিতে উল্লেখ আছে, ১-৬ নম্বর পদের জন্য ১৫০ টাকা, ৭ ও ৮ নম্বর পদের জন্য ১০০ টাকা পরীক্ষার ফি বাবদ দিতে হবে। কিন্তু টাকা কীভাবে পরিশোধ করতে হবে সেটা উল্লেখ ছিল না।

প্রতিষ্ঠানটি পাঁচটি স্থানে পরীক্ষা নেবে জানিয়ে কেন্দ্রের নাম ও তারিখ বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করেছে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় বগুড়া সেন্ট্রাল হাইস্কুলে পরবর্তী পরীক্ষা হবে বলে উল্লেখ করেছে।

সবশেষে উল্লেখ করেছে, নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগদানের সময় ৫ নম্বর পদের (শাখা ব্যবস্থাপক) জন্য ১৫ হাজার টাকা, ৬ নম্বর পদের (শাখা হিসাবরক্ষক) জন্য ১৩ হাজার টাকা, ৭ ও ৮ নম্বর পদের (ফিল্ড অফিসার ও সহকারী ফিল্ড অফিসার) জন্য ১০ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে (ফেরতযোগ্য)।

niyog



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই