মেইন ম্যেনু

জাতীয় পার্টিতে “চলিতেছে তামাশা”

সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিতে কদিন পর পর ঘটে নানা ঘটনা। এ নিয়ে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে হাস্যরসও করেন অনেকে। দুদিন ধরে আবারও দলের ভেতরে এমন সব ঘটনা ঘটছে যা নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

একদিকে দলের চেয়ারপারসন এরশাদ, অন্যদিকে তারই সহধর্মিনী রওশন এরশাদ। দুই পক্ষেই আছেন দলের সংসদ সদস্য আর স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। একে অন্যের সিদ্ধান্ত মানছেন না, কিন্তু দুই পক্ষই দলে আছেন। জাতীয় পার্টির বিরোধী দলে থেকেও মন্ত্রিসভায় থাকার মতো অবস্থা যেন এটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক গোবিন্দ চক্রবর্তী বলেন, ‘জাতীয় পার্টিতে তামাশা নতুন কিছু নয়। এই দলটি আসলে মানুষের জন্য রাজনীতির চেয়ে ক্ষমতার আশেপাশে থাকার চেষ্টা করে। এর এ নিয়েই বিরোধ হয় নেতাদের মধ্যে। এ কারণেই নানা সময় নানা হাস্যরসাত্মক ঘটনা ঘটে’।

রবিবার হঠাৎ দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক না করেই নিজের ভাই জিএম কাদেরকে দলের কো চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি, মধ্যযুগে সম্রাটদের মতো দলে নিজের উত্তরসূরিও ঘোষণা করেন তার ভাইকে।

দলের গঠনতন্ত্রে কো চেয়ারম্যানের কোনও পদ নেই। তবু কেন এরশাদ এই কাজ করেছেন প্রশ্ন তুলে পরদিন দলের একাংশ রওশন এরশাদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করে বসেন। তবে এরশাদ দেশে থাকতে কেন রওশনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করতে হবে- সে প্রশ্নের জবাব অবশ্য দেননি রওশনপন্থিরা।

শুধু ভাঙন, আর বিশ্বাস ও অবিশ্বাস নিয়ে নানা সময়ে বিভিন্ন খবর দিয়ে বহুবার আলোচনায় ছিল জাতীয় পার্টি। বিশেষ করে একই বিষয়ে এরশাদের একেকবার একেক রকম বক্তব্য, বিরোধী দলে থেকেও মন্ত্রী হওয়ায় আপত্তি জানিয়ে বহুবার মন্ত্রিত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি। কিন্তু নিজের দলের নেতাদেরকে রাজি করাতে পারেননি এরশাদ।

তবে এমন ঘটনা নতুন নয়। ৯০ সালে স্বৈরাচারি সরকারের পতনের পর থেকে বহুবার ভাঙনের কবলে পড়তে হয়েছে এরশাদের জাতীয় পার্টিকে।

এরশাদের দলে প্রথম ভাঙন ধরে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর হাত ধরে। ১৯৯৬ সালে তিনি জাপা দেন। থেকে হয়ে নতুন দল ঘোষণা করেন। এরপর দলে ভাঙন ধরে ২০০১ সালে। ওই নির্বাচনের আগে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নামে জাতীয় পার্টি। একসঙ্গে নির্বাচনও করার ঘোষণা ছিল এরশাদের। কিন্তু নির্বাচনের আগে জোট ভেঙে বের হয়ে যান তিনি। কিন্তু চলে যেতে রাজি হননি এরশাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নাজিউর রহমান মঞ্জুর ও এম এ মতিন। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি নামে আলাদা দল গঠন করে চারদলীয় জোটে থেকে যান তারা।

এরপর এর যুগ আর ভাঙন ধরেনি জাতীয় পার্টির। কিন্তু দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টির নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারে যোগ দেয়া এবং ভোটে অংশ নেয়া নিয়ে দলের ভেতর তৈরি হয় দুটি ধারা। আর দল থেকে বের হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ গঠন করেন আরেক জাতীয় পার্টি। বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে ২০ দলে যোগও দেয় সে দল।

দলের ভেতর এরশাদ-রওশদ দ্বন্দ্বও আসলে এক ভাঙনের মতোই। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের শুরু। এরশাদ চেয়েছিলেন ভোট বর্জন করুক জাতীয় পার্টি। কিন্তু রওশদ ভোটে যেতে আগ্রহী। এ নিয়ে দলে দুটি বলয় তৈরি হয়। যা এখন প্রকাশ্যে।

জিএম কাদেরকে কো চেয়ারম্যান করা আর রওশনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার পাল্টা ঘোষণা এই দ্বন্দ্বেরই বহিপ্রকাশ।

রোববার রংপুরে বসে এরশাদ যখন ভাইকে একক সিদ্ধান্তে পদোন্নতি দিলেন তখন আর নীরব থাকতে পারেননি রওশনপন্থিরা।

যদিও এরশাদ বলছেন, রওশনের বৈঠক অবৈধ। তার পদও অবৈধ। কারণ তিনি ছাড়া কেউ সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠক ডাকতে পারেন না। আর ওই বৈঠকে সভাপতিমণ্ডলীর বেশিরভাগ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন না। ঢাকায় ফিরেই রওশনপন্থিদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে মহাসচিব পদ থেকে জিয়াউদ্দিন বাবলুকে অব্যাহতি দিয়ে সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারকে দিয়ে মহাসচিব পদ পূরণ করে দেন সাবেক এরশাদ।

এই সংবাদ সম্মেলনের কিছু সময় পর বিকালে সংসদে রওশন এরশাদের সভাপতিত্বে জাতীয় পার্টির সংসদীয় কমিটি বৈঠক হয়। এরশাদও যোগ দেন বৈঠকে। বৈঠক শেষে বের হয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, এরশাদ গত কয়েকদিন এককভাবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা দলের সংসদীয় বোর্ড প্রত্যাখ্যান করেছে। পরে অবশ্য সে কথা অস্বীকারও করেছেন তাজুল ইসলাম।ঢাকাটাইমস






মন্তব্য চালু নেই