মেইন ম্যেনু

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করেই এগুচ্ছে বিএনপি

বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের রাজনৈতিক সমঝোতা পুরোটাই রয়েছে। তাদের মধ্যে কোন দূরত্ব তৈরি হয়নি। লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য তারা নানাভাবেই কাজ করে যাচ্ছে। দুই দলই আশাবাদী এখন তারা যেভাবে কাজ করছে তা করতে থাকলে সফল হতে পারবে। সরকার এক সময়ে তাদের দাবিও মেনে নিবে। আর এই জন্য কর্ম পরিকল্পনা ও কৌশলও ঠিক করেই তা এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোন দলই সেই সমঝোতা ও সখ্যতার বিষয়টি সামনে আনতে চায় না। আড়ালেই রাখতে চায় বিএনপি ও জামায়াত। এটা তাদের রাজনৈতিক কৌশল।

বিএনপির সূত্র জানায়, জামায়াতের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযোগ ছিলো জামায়াতের কয়েকজন নেতা মানবতাবিরোধি অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সরকার সেই সব নেতাদের বিচারও শুরু করেছে। ইতোমধ্যে শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে রায়ও কার্যকর করেছে। এখনও মীর কাসেম বাকি। সরকারের হাতে সব ক্ষমতা। চাইলে জামায়াতের আরো কোন কোন নেতারও বিচার করতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী জামায়াত নেতাদের বিচার হওয়ায় ও রায় কার্যকর হওয়ার পর জামায়াত এখন মানবতাবিরোধি অপরাধী মুক্ত। জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে আর অভিযোগ না থাকার কারণে এখন জামায়াতকেও নিষিদ্ধ করতে চাইছে। তবে কাজটা সরকারের জন্য সহজ হচ্ছে না। এই কারণে পারছে না। জামায়াতের বিচার করার জন্য আইন সংশোধন করারও সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এখন কেবল মন্ত্রী পরিষদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। যে কোন মাসেই তা মন্ত্রী পরিষদে অনুমোদনের জন্য উঠবে বলে শুনে আসছি। কিন্তু সরকার তা করতে পারছে না।

বিএনপির সিনিয়র একজন নেতা বলেন, বিএনপিকে জামায়াত ছাড়া করার জন্য সরকার নানা রকম ষড়যন্ত্র করেছে। এমনকি জামায়াতের কয়েকজন নেতাও সরকারি দলে যোগ দিয়েছে। এনিয়ে সমালোচনার মুখেও পড়েছে। এই অবস্থায় সরকারি দলের পক্ষ থেকে জামায়াত নেতাদের আর দলে না ভেড়ানোর জন্য মাঠ পর্যায়ের নেতারা অনুরোধ করেন। এই অবস্থায় সরকারি দল জামায়াত নেতাদের দলে ভেড়ানো বন্ধ করে দেয়। কিন্তু আমরা জানি, বিএনপি জামায়াত ছাড়লেই সরকারি দল তাদেরকে জোটে ভিড়াবে। আর আনুষ্ঠানিকভাবে না ভেড়ালেও পর্দার আড়ালে সমঝোতা করে জামায়াতের যে ভোট ব্যাংক রয়েছে ওই ব্যাংকের ভোট তারা নিয়ে নিবে। এতে করে বিএনপির আগামী দিনে ক্ষমতাসীন হওয়ার ক্ষেত্রেও সরকার বাঁধা তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু জামায়াত না থাকলেও বিএনপি ক্ষমতাসীন ছিলো এটা প্রমাণিত। তারপরও খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান জামায়াতের ভোটকে গুরুত্ব দিয়েই বিচার করছেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তিনি জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। এই ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথাবার্তা বলছি, আলোচনা শুরু করেছি। সরকার ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে সচেতন ও সুচতুরভাবে বিরোধী দলকে নির্মূলের নীলনকশা করে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। সম্পূর্ণ বেআইনি ও অনৈতিকভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে তার বাড়ি থেকে বের হতে বাধ্য করে। গ্রহণযোগ্য নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থাকে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন পদ্ধতি চালু করে। সরকার যা করছে তাতে করে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সংকটের দিকে যাচ্ছে। বাস্তবতা বিবেচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসনের ঐক্যর ডাক দেওয়া নিয়ে সরকার বিদ্রুপ করছে। জঙ্গিবাদ জাতীয় সমস্যা। এটাকে সবাই মিলে মোকাবিলা করতে হবে। এখানে বিদ্রুপের কিছু নেই। জঙ্গিবাদ নির্মূল, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার নয়, সরকারের উদ্দেশে যেকোনোভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকা। সরকারকে এই পথ থেকে সরে আসতে হবে।

সূত্র জানায়, বিএনপির তরফ থেকে জামায়াতকে বলা হয়েছে তাদের সঙ্গে যে নির্বাচনী জোট আছে তা ভাঙ্গবে না। সরকার জামায়াত নিষিদ্ধ করার সব পথ তৈরি করেছে। তা করে যদি জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয় তাহলেও বিএনপি তাদেরকে বাদ দিবে না। কিভাবে পাশে রাখা যায়, নির্বাচনে রাখা যায় সেই চেষ্টা করবে। দলীয় ব্যানারে না হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে জামায়াতের নেতারা প্রার্থী হলে বিএনপি সমর্থন দিবে এবং নির্বাচনে জয়ী করে আনবে। আর বিএনপি যে সব আসনে নিজ দলের ব্যানারে প্রার্থী দিবে সেখানে জামায়াত বিএনপিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে। নির্বাচন নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত ভেতরে ভেতরে কাজ করছে।

তারেক রহমানের ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার যে সব কথা বলে ও কাজ করে তাদের প্রেক্ষাপটে বিএনপি জামায়াতকে পথ চললে হবে না। নিজেদের মতো করে চলতে হবে। এই জন্য মাঠ পর্যায়ের নেতাদের মনোবল ধরে রাখতে হবে। বিএনপি প্রকাশ্যে চেষ্টা করতে পারলেও জামায়াত তা পারছে না। তবে তারা বসে নেই। কাজ করে যাচ্ছে।

জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির কোন দূরত্ব তৈরি হয়নি বলেও নিশ্চিত করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতা। তিনি বলেন, চারিদিক থেকে সরকার জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড করছে বলেও অভিযোগ করছে। কিন্তু প্রমাণ দিতে পারছে না। এই কারণে জঙ্গিবাদের কোন ঘটনায় জামায়াতের কোন নেতার নামও কখনো আসেনি। আসলে সরকার জানে যে জামায়াত ও বিএনপি এক সঙ্গে থাকলে আগামী দিনে সরকারের ক্ষমতায় থাকা সহজ হবে ও একাদশ নির্বাচনেও মহাজোট ক্ষমতায় আসতে চাইছে। সরকারের পরিকল্পনা সফল করার জন্য বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এটা বুঝতে পেরে বিএনপি ইচ্ছে করেই জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছে। আসলে এটা তাদের লোক দেখানো। এর বাইরে কিছু নয়। কারণ ২০ দলীয় জোটের ঐক্য হয়েছিলো নির্বাচনী জোট হিসাবে। জোটকে ক্ষমতায় নেওয়ার জন্য একে অপরের জন্য কাজ করবে। এই কারণে যতদিন না আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ভাঙ্গার কোন সিদ্ধান্ত না হচ্ছে ততোদিন জামায়াত বিএনপির সঙ্গে থাকছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপিকে জড়িয়ে জামায়াতে ইসলাম ইস্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ যে বক্তব্য দিয়েছেন তা তার ব্যক্তিগত অভিমত। তিনি স্পষ্ট করেছেন জামায়াত ছাড়ছে না বিএনপি।

প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ মঙ্গলবার বলেছিলেন, জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অসুবিধা একটি রাজনৈতিক দল। দলটি একটি বোঝায় পরিণত হয়েছে। এটি এখন আর সম্পদ নয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২০ দলের মধ্যে এ দলটিকে আর রাখার প্রয়োজন নেই। কিন্তু জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে জামায়াত কোনো বাধা কি না এই প্রসঙ্গে ফখরুল বলেছেন, এটি প্রেডিকশন, চিন্তা-ভাবনা করার। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের নেত্রী। তিনি দেশের ও জনগণের কথা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।






মন্তব্য চালু নেই