মেইন ম্যেনু

জামায়াত-আইএসআইয়ের মদদে ব্লগার হত্যাকাণ্ড : আনন্দবাজার পত্রিকা

জামায়াতে ইসলামী এবং পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র এর মদদে একের পর এক ব্লগার ও মুক্তমনা হত্যাকাণ্ডে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএস নয় বরং জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবি জড়িত। জেএমবি দিয়ে এসব হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আইএস’র নাম ব্যবহারের তথ্য বাংলাদেশ ও ভারতের গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে বলে গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে দাবি করেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা দু’টি বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন।

এক, আইএস-এর নামে প্রায় সব হত্যাকাণ্ড ও নাশকতাই আসলে জেএমবি (জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ)-র কাজ।

দুই, এর পিছনে রয়েছে স্পষ্ট রাজনৈতিক চক্রান্ত, ভারতও যার স্বাভাবিক লক্ষ্যবস্তু। বিরোধী দল বিএনপি-র শরিক জামাতে ইসলামী ও তাদের শাখা ‘ইসলামী ছাত্র শিবির’ জেএমবি জঙ্গিদের সঙ্গে মিলে এই চক্রান্তে লিপ্ত। পুরো বিষয়টির তত্ত্বাবধানে রয়েছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই।

বাংলাদেশের গোয়েন্দারা বলছেন, দুই বাংলা জুড়েই জেএমবি ও ছাত্র শিবিরের জাল ছড়ানো থাকায় ভারতের নিরাপত্তাও বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশের গোয়েন্দারা তাদের আশঙ্কার কথা ইতিমধ্যেই ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দাপ্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আইএস খুঁজতে গিয়ে এখনও পর্যন্ত যে সব জঙ্গিদের ধরা গিয়েছে, তারা সকলেই জেএমবি-র সদস্য। এদের সংগঠিত করার কাজে ঢাকার কয়েকটি বিদেশি দূতাবাসও সক্রিয়।’’

আনন্দবাজারের মতে গোয়েন্দাদের ইঙ্গিত মূলত পাকিস্তান হাইকমিশন। সঙ্গে তুরস্ক ও সৌদি আরবেরও দূতাবাসও রয়েছে।

এই গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, ‘‘ব্লগার ও মুক্তমনাদের হত্যাকাণ্ড আদতে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। চক্রান্তকারীদের চিহ্নিত করা গিয়েছে।’’ এর পরে কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। গোয়েন্দারা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে জেএমবি ও ছাত্র শিবিরের ক্যাডাররা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গা-ঢাকা দিয়ে জঙ্গি কার্যকলাপ চালাতে পারে। ভিডিও বার্তায় ভারতে হামলা চালানোর যে হুমকি আইএস সম্প্রতি দিয়েছে, জেএমবি-র প্রশিক্ষিত জঙ্গিরা তাতেও অংশ নিতে পারে।

গত বছর ২১ এপ্রিল হওয়া সাভারের একটি ব্যাঙ্ক ডাকাতির তদন্তে নেমেও গোয়েন্দারা প্রমাণ পান আনসারুল্লা বাংলা টিম ও জেএমবি আদতে একই মুদ্রার দু’পিঠ। সে দিন ডাকাতি করতে দিয়ে আট জন ব্যাঙ্ককর্মীকে গুলি করে ও কুপিয়ে খুন করে জঙ্গিরা। মঙ্গলবার ঢাকার একটি আদালত যে ছয় ডাকাতকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, তারা সকলেই আনসারুল্লা বাংলা টিমের জঙ্গি। আবার একই সঙ্গে তারা জেএমবি-রও সদস্য।

জেএমবি-আইএস সংশ্লিষ্টার অন্য প্রমাণও এসেছে গোয়েন্দাদের হাতে। সিরিয়া থেকে প্রকাশিত আইএস-এর মুখপত্র ‘দাবিক’-এ সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে জেএমবি-র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আব্দুর রহমানকে ‘প্রকৃত মুজাহিদ ও শহিদ’ বলে উল্লেখ করা হয়। সেই প্রতিবেদনেই ঘোষণা করা হয়েছে— শুধু বাংলাদেশ নয়, দুই বাংলা জুড়ে খিলাফত প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য।

গোয়েন্দারা বলছেন, আইএস-এর এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে ভারতের পক্ষেও যথেষ্ট উদ্বেগের।এ ধরনের নাশকতার পিছনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে পত্রিকাটি লিখেছে,‘ গোয়েন্দারা বলছেন, প্রধানত দেশ ও সরকারের ভাবমূর্তিতে কালি ছেটানো। জঙ্গি অধ্যুষিত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে তুলে ধরা। শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় এসে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালত গড়ে একাত্তরে গণহত্যাকারী রাজাকার নেতাদের বিচার শুরু করে। পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রবল বিরোধিতা উড়িয়ে ইতিমধ্যে এক বিএনপি ও চার জামাত নেতার ফাঁসির রায়ও কার্যকর করা হয়েছে।

জামাতে ইসলামি আগাগোড়া অভিযোগ করে চলেছে, ভারতের পরামর্শেই হাসিনা সরকার এই কাজ করছে। পাকিস্তানের আইনসভায় নেওয়া নিন্দা প্রস্তাবেও বলা হয়েছে, ‘দিল্লির পরামর্শেই হাসিনা সরকার বিচারের নামে ইসলামি নেতাদের হত্যা করছে’।

গোয়েন্দাদের দাবি, নাশকতার মাধ্যমে সরকারের এই কর্মকাণ্ডের জবাব দেওয়ার জন্য ফুঁসছিল জামাতে ইসলামি ও তাদের ছাত্র সংগঠন, যাদের অনেক কর্মীই আবার জঙ্গি কাজে পারদর্শী। সঙ্গে পাওয়া যায় সরকারের অভিযানে কোণঠাসা হয়ে পড়া মুজাহিদদের সংগঠন জেএমবি-কে। সমগ্র চক্রান্তটির সমন্বয়ে এগিয়ে আসে আইএসআই। অর্থের জোগানও তারাই দেয়। গোয়েন্দাদের ধারণা, একই সঙ্গে ভারতকে শিক্ষা দেওয়াটাও তাদের লক্ষ্য।

তদন্তকারীদের বক্তব্য, জেএমবি আগাগোড়া আল কায়দার অনুসারী। পশ্চিম এশিয়ায় আইএস ও আল কায়দার সম্পর্ক মোটেও ভালো নয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আইএস জঙ্গিরা এখন সব চেয়ে পরিচিত নাম। গোয়েন্দারা বলছেন, বিচ্ছিন্ন খুন জখম বা নাশকতা করে আইএস-এর নাম তার সঙ্গে জুড়ে দিলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার যেমন জোরদার হয়, বাংলাদেশে এই আন্তর্জাতিক জঙ্গিদের উপস্থিতিও প্রমাণ করা যায়।

গোয়েন্দাদের দাবি, সেই কারণেই প্রথম দিকে বাংলাদেশ চষে বেড়ালেও আইএস-এর উপস্থিতির কোনও প্রমাণ মিলছিলো না। এখন দেখা যাচ্ছে, আইএস জঙ্গির নামে নাশকতা চালাচ্ছে জেএমবি-ই।






মন্তব্য চালু নেই