মেইন ম্যেনু

জাম থেকে বিদ্যুৎ তৈরি!

সবাই জানে, ডায়াবেটিস বা হার্টের অসুখ থেকে শুরু করে ক্যান্সার কিংবা আর্থাইটিসে জামের কদর জমজমাট৷ পাকস্থলী ও অগ্ন্যাশয়জনিত একাধিক শারীরিক সমস্যাও জাম খেলে নিয়ন্ত্রণে থাকে৷ এই জাম থেকে বিদ্যুৎও তৈরি হয়৷

একটি ৫ গ্রামের প্রমাণ সাইজের জাম থেকে ২ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে৷ তাই একটি জামগাছের গড় আয়ু ৮০ বছর এবং জীবনকালে গড় উৎপাদন ৮ হাজার কেজি ধরলে এর থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারে তা দিয়ে ৪ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব৷

বেশি পরিমাণে উৎপাদন করলে ইউনিটপিছু উৎপাদন খরচ মাত্র ৮০ পয়সায় নেমে আসবে৷ এমনটাই দাবি করছেন উত্তরাখণ্ডের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, রুরকির একদল গবেষক৷

অধ্যাপক সৌমিত্র শতপথীর নেতৃত্বাধীন এই গবেষকদল জামের মধ্যে থাকা অ্যানথ্রোসায়ানিন রঞ্জককে ব্যবহার করে ‘ডাই সেনসাইটজড সোলার সেল ’ নামে এক অপ্রচলিত সৌরশক্তির ডিভাইস বানিয়েছেন৷ যার পেটেন্টের জন্যও আবেদনও করা হয়েছে৷ তাদের এই গবেষণা আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্র, জার্নাল অফ ফটোভোল্টাইকস রিসার্চস -এ সম্প্রতি প্রকাশিতও হয়েছে৷

জাম থেকে কীভাবে তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ? সোলার সেল আদতে এক ডিভাইস যা সরাসরি সৌরশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিবর্তিত করে৷ ডাই সেনসাইটজড সোলার সেল (সংক্ষেপে DSSC) বা গ্রাটজেল সেল গাছের সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া থেকে উদ্বুদ্ধ হওয়া এই ধরনের এক বিকল্প সোলার সেল টেকনোলজিতে কাজ করে৷ এখানে টাইটেনিয়াম -ডাই -অক্সাইড নামক একটি সেমি -কন্ডাক্টরের আস্তরণ থাকে৷ এই সেমি -কন্ডাটরের আস্তরণে নিমজ্জিত থাকে রুথেনিয়াম কমপ্লেক্স নামক রঞ্জক কণা যা সৌরালোকের ফোটন কণা শোষণ করে৷ যার থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়৷ এইখানেই মজার কাণ্ডটা ঘটিয়েছেন ওই গবেষকরা৷

রুথেনিয়ামঘটিত রঞ্জক কণা খুবই উদ্বায়ী, ক্ষয়কারক এবং খরচবহুল৷ এই রুথেনিয়ামের জায়গায় জাম নিঃসৃত অ্যানথ্রোসায়ানিন নামক রঞ্জক ব্যবহার করেছেন তারা৷ গাছ থেকে পাড়া জামকে ইথানলের সাহায্যে প্রসেস করে তারা বের করেছেন অ্যানথ্রোসায়নিন রঞ্জক যা সৌরালোক শোষণ করতে খুবই উপযোগী৷ যার থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে অত্যন্ত কম খরচে৷ ‘অল্প খরচায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে এই প্রযুক্তি যথেষ্ট ফলপ্রদ,’ বলছেন গবেষকদলের প্রধান অধ্যাপক শতপথী৷

অবশ্য বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আরও অনেক গবেষণা জরুরি বলে মনে করেন এই প্রবাসী বাঙালি গবেষক৷ নগরোন্নয়ন এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন কয়লা বা প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে৷ উপরন্ত্ত কার্বন সমৃদ্ধ এই সব জ্বালানির ক্রমাগত দহন বাতাসে কার্বন -ডাই -অক্সাইডের পরিমাণ বাড়িয়ে জন্ম দিচ্ছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর মতো সংকটের৷ বিকল্প শক্তি সন্ধানে উঠে এসেছে সৌরশক্তি, জলবিদ্যুৎ, বায়ু এবং পরমাণুশক্তি৷ এদের মধ্যে কার্বন -মুক্ত সবুজ শক্তি হিসেবে সৌরশক্তির গুরুত্ব অপরিসীম৷ বিশেষত, পাহাড়ি এলাকা বা প্রত্যন্ত দুর্গম গ্রামে যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ কঠিন এবং ব্যয়সাপেক্ষ, সেখানে এই ধরনের বিদ্যুৎ অন্যতম বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হতেই পারে৷ পাশাপাশি জাম থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন হলে তা বিদুৎ সংকট কাটাতে অনেকাংশে সাহায্য করবে বলেই আশাবাদী রুরকির ওই গবেষক দল৷






মন্তব্য চালু নেই