মেইন ম্যেনু

জাসদকে নিয়ে আশরাফের মন্তব্য প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলকে (জাসদ) নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সমালোচনামূলক বক্তব্যকে তার ব্যক্তিগত বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা বলছেন- মঙ্গলবার (১৪ জুন) সংসদ অধিবেশন চলাকালীন দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

জাসদকে নিয়ে সৈয়দ আশরাফের কড়া সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এখন তো এসব কাদা ছোড়াছুড়ির সময় নয়।’ শুধু তাই নয়, শেখ হাসিনা আরও বলেছেন- আশরাফের ওই বক্তব্যে তার সমর্থন নাই। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে প্রসঙ্গক্রমে জাসদকে নিয়ে করা সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যের বিষয়টি উঠে আসলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সভাপতির ভূমিকাও কি আমাকে পালন করতে হবে, ‘সেক্রেটারিশিপ’ও আমি চালাব নাকি?’ তাহলে অন্য কারও দরকার নাই বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

কেন্দ্রীয় দুই নেতা আরও জানান, শেখ হাসিনা মন্তব্য করে বলেন- অনেক ষড়যন্ত্রের ভেতর দিয়ে সরকার পরিচালনা করছি। অনেক কষ্টে সবাইকে এক রাখার চেষ্টা করছি। এসময়ে এগুলো বলার কী প্রয়োজন ছিল আমি বুঝতে পারছি না। তিনি বলেন, আশরাফের এসব বক্তব্যে আমার সমর্থন নাই। এগুলো তার একান্তই ব্যক্তিগত। সেখানে উপস্থিত ওই দুই নেতার ভাষ্য নিয়ে বিরক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, যেখানে যেটা বলার দরকার সেটা বলে না। সেক্রেটারিশিপও কি আমি চালাব নাকি?

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা। সেখানে বোর্ডের অন্য সদস্যরা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নিজেও। সহকর্মীদের বিভিন্ন বক্তব্য শুনে সৈয়দ আশরাফ বলেন, আমি তো পার্ট অব হিস্ট্রি তুলে ধরেছি কেবল। অবশ্য বোর্ড সদস্যদের এ আলোচনা চলাকালীন পার্লামেন্টারি বোর্ডের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন না। শেখ হাসিনা যখন সভায় যোগ দেন এরপরে বিষয়টি নিয়ে আর কোনও আলোচনা হয়নি বলে বোর্ডে উপস্থিত একাধিক সদস্য নিশ্চিত করেন।

প্রসঙ্গত গত সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) দুই দিনব্যাপী ছাত্রলীগের বর্ধিত সভা ও কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, জাসদ ও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের ধারক বাহকেরা শতভাগ ভণ্ড বলে মন্তব্য করেছেন। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ছাত্রলীগের একটা অংশ হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র নিয়ে আসে। এর ধারক বাহকেরা দেশটাকে ছিন্ন-ভিন্ন করে দেয়। বঙ্গবন্ধু দেশে ফেরার আগেই তারা দেশকে ছিন্ন-ভিন্ন করার চেষ্টা করেছিল।

ওই অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে জাসদ এমন অভিযোগ করে আশরাফ আরও বলেন, তারা যদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সব পরিবেশ সৃষ্টি না করতো, তাহলে আজ বাংলাদেশ ভিন্ন বাংলাদেশ হতে পারতো। বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে দেশ আগেই অর্থনৈতিক অগ্রসরতা অর্জন করত। শুধু হঠকারীদের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

জাসদের বর্তমান দৈন্যদশা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তারা অতি বিপ্লবী ছিল। তারা অনেক প্রতিক্রিয়াশীল ছিল। কিন্তু এক সময় হারিয়ে গেল। এখন আওয়ামী লীগের লেজুড়বৃত্তি করে।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, পূর্বের ইতিহাস জেনে এই হঠকারীদের এড়িয়ে চলবেন। বিপ্লব বিপ্লব করলে বিপ্লব হয় না। কাজ করতে হবে। আপনাদের শিক্ষিত হতে হবে। আপনার মেধা জাতির জন্য কাজে লাগাতে হবে।

বর্তমানে সরকারের মন্ত্রী সভার সদস্য জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর প্রতি ইঙ্গিত করে আশরাফ বলেন, এদের একজনকে আবার মন্ত্রিত্বও দেওয়া হয়েছে, যার প্রায়শ্চিত্ত আওয়ামী লীগকে আজীবন করতে হবে।বাংলা ট্রিবিউন






মন্তব্য চালু নেই