মেইন ম্যেনু

জিপিএ জোয়ারে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা!

এত্তো জিপিএ! বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আসন সংখ্যার তিন চারগুণের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে আসন সংখ্যার ছয় সাত গুণ বেশি পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণের ফলে আন্তরিকতা থাকলেও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব হয়না। প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা ঝুঁকি থেকেই যায়।

গত বছরের চেয়ে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীও সংখ্যা ১৬ হাজার বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্য শুনে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের সাথে জড়িত একাধিক চিকিৎসা শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এমন কথা বলেন।

এবার প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায় চলতি বছর জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ও পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর জিপিএ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীও সংখ্যা ৪২ হাজার থাকলেও এবার এ সংখ্যা ৫৮ হাজারেরও বেশি সংখ্যায় দাঁড়িয়েছে।

আজ প্রকাশের সাথে সাথে এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা কবে অনুষ্ঠিত হবে তা নিয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে। শুধু দিনক্ষণ নয়, কি পদ্ধতিতে পরীক্ষা হবে, এমবিবিএস ও বিডিএস একই প্রশ্নে অভিন্ন দিনে নাকি পৃথক পৃথক দিনক্ষণে গ্রহণ করা হবে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ন্যূনতম জিপিএ কত হবে এমন নানা প্রশ্ন দানা বাঁধছে তাদের মনে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণসহ পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কিত নানা বিষয়ে চুড়ন্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে আগামী রোববার বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠক বসছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বিগত বহু বছর যাবত এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন, কার্জন হল ও ইডেন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুক্রবার দিন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

অক্টোবরের আগে মেডিকেল কিংবা ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের জন্য এ ভেন্যুগুলো শূন্য পাওয়া যায়নি। সেই কারণে প্রাথমিকভাবে ৭ ও ১৫ সেপ্টেম্বর এ দুই দিনের যে কোনো একদিনে নেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটি ও সার্বিক প্রস্তুুতি সম্পন্ন করে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের উপযুক্ত দিন ১৫ অক্টোবর বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের চূড়ান্ত দিনক্ষণ এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে তারা নিশ্চিত করেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৫ অনুসারে দেশে বর্তমানে ১০০টি মেডিকেল (সরকারি ৩০, বেসরকারি ৬৪ ও আমর্ড ফোর্সেস ৬টি) ও ৩৩টি ডেন্টাল (৯টি সরকারি ও ২৪টি বেসরকারি) রয়েছে।

এমবিবিএসে মোট আসন সংখ্যা ৯ হাজার ৬শ’৭৯ ও বিডিএসে ১ হাজার ৮শ’৩২টি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা পূর্ণ হলেও গত কয়েক বছর ধরে ডেন্টাল কলেজে আসন সংখ্যা শূন্য থাকছে।

বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কাশেম সম্প্রতি বলেন, ২০১১ সালের আগ পর্যন্ত ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হতো। এমবিবিএস ও বিডিএস পরীক্ষা পৃথকভাবে গ্রহণের ফলে ডেন্টাল কলেজে ভর্তি বিশেষত বেসরকারি ডেন্টাল কলেজের আসন প্রতি বছর শূন্য থাকছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণে পৃথকভাবে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ এখন সময়েরই দাবি।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) রেজিস্ট্রার জেড এইচ বসুনিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখনো পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার দিনক্ষণ চূড়ান্ত কিম্বা পরীক্ষা গ্রহণ পদ্ধতি কি হবে সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী রোববার ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত বৈঠকে এ ব্যাপারে আলোচনা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. আবদুর রশীদ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে এ ব্যাপারে কিছু বলতে রাজি হননি।খবর জাগো নিউজের।






মন্তব্য চালু নেই