মেইন ম্যেনু

জুতা সেলাইয়ের আড়ালে মদের কারবার করে কোটিপতি!

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জুতা সেলাইয়ের আড়ালে চোলাইমদের ব্যবসা করে কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন গোপাল রবিদাস (৫০)! এক এক গড়ে তুলেছেন একাধিক বহুতল ভবন। তার তৈরি চোলাইমদ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যাচ্ছে মির্জাপুরসহ টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলায়।

অবৈধভাবে ঘরে তৈরি চোলাইমদের ব্যবসা করে গোপাল রবিদাস মির্জাপুর পৌর সদরে গড়ে তুলেছেন তিন তিনটি বহুতল ভবন। রয়েছে বিপুল অংকের ব্যাংক ব্যালেন্সও। তবে ভাবখানা এমন যে-ভাজা মাছটা উল্টে খেতে জানেন না।
গোপাল রবিদাসের বাড়ি পৌর সদরের বাইমহাটি গ্রামে। তার পিতার নাম সুরেশ রবিদাস।

সোমবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ গোপাল রবিদাসের চোলাই মদের কারখানায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ হাজার লিটার চোলাই মদ উদ্ধার এবং গোপাল রবিদাসসহ তিনজনকে আটক করে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে রাতে পুলিশ গোপালকে ছেড়ে দেয়। এ নিয়েও রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুই ছেলে এক মেয়ের পিতা গোপাল রবিদাস পেশায় মুচি। তার দুই ছেলেই প্রতিবন্ধী। সদরের মেইন রোডে দুই ভাই নামে তার রয়েছে একটি জুতা সেলাইয়ের দোকান রয়েছে।

যেখানে প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি জুতা সেলাইয়ের কাজ করছেন। তবে জুতা সেলাইয়ের দোকানের আড়ালে তার রয়েছে একাধিক চোলাই মদের কারখানা।

আর এই কারবার করেই তিনি হয়েছেন কোটিপতি। পৌর সদরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, কলেজ রোডের সৈয়দ টাওয়ারের পেছনে ও মির্জাপুর কাঁচা বাজারের উত্তর পাশে গড়ে তুলেছেন তিনটি বহুতল ভবন। আর এইসব ভবনেই তৈরি হয় চোলাই মদ। এর মধ্যে বাজারের উত্তর পাশের ভবনে তিনি ঝুলিয়েছেন আদিবাসী সমাজ কল্যাণ সমিতির সাইন বোর্ড।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুতা সেলাইয়ের আড়ালে গোপাল পৌর সদরের কাঁচা বাজারের পেছনে, কলেজ রোডের সৈয়দ টাওয়ারের পেছনে, পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে ও মির্জাপুর ডাক বাংলোর উত্তর পাশে গড়ে তুলেছেন কয়েকটি মদের কারখানা। ওইসব কারখানায় গড়ে প্রতিদিন পাঁচ হাজার লিটার মদ তৈরি ও বিক্রি হয়। যার মূল্য প্রতি লিটার ৫০০ টাকা দরে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এসব মদ মির্জাপুরসহ টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় ও গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সরবরাহ করা হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে সোমবার পুলিশের অভিযান চালানোর সময় আদিবাসী সমাজ কল্যাণ সমিতির সাইন বোর্ড সম্বলিত দু’তলা বাড়ির ঘরের ভেতর, রান্না ঘর, উঠানে, বাথরুমের সামনে মাটি খুঁড়ে পাওয়া যায় ১০ থেকে ৫০ লিটার ওজনের ক্যান ও ড্রাম বোঝাই চোলাই মদ। এসময় উপস্থিত পুলিশসহ উৎসুক এলাকাবাসী হতভম্ব হয়ে পড়েন।

মির্জাপুর বাজারের সিমেন্ট ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, মাটির নিচে রেখে চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রি দেখে তিনি হতবাক হয়ে গেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই মদের ব্যবসা করে মির্জাপুর পৌর সদরের প্রাণকেন্দ্রে গোপাল রবিদাস তার নিজের জায়গায় গড়ে তুলছেন একাধিক বহুতল ভবন। এর মধ্যে পুরাতন বাসস্টেশনের তিনতলা বাড়িটি করেছেন এক বছর আগে।

আর সৈয়দ টাওয়ারের পেছনের ভবনের দুইতলা ভবনের কাজ চলছে। এছাড়া মেইন রোডের যে ভাড়া দোকানে জুতা সেলাইয়ের কাজ চলে সেই দোকান কেনার জন্য ১ কোটি ১০ লাখ টাকা দামও হাকিয়ে ছিলেন তিনি। কিন্ত ১০ লাখ টাকা বেশি দিয়ে মির্জাপুর বাজারের অপর এক ব্যবসায়ী সেটা কিনে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

সোমবার দুপুরে গোপাল রবিদাসের সঙ্গে তার জুতা সেলাইয়ের দোকানে বসে কথা হলে তিনি বলেন, জুতা সেলাই করে প্রতিদিন ৬০০-৭০০ টাকা আয় হয় তার। এনিয়ে প্রতিবন্ধী দুই ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে চলতে হয়। এসময় এত বড় বড় বিল্ডিং করলেন কিভাবে জানতে চাইলে তিনি নীরব থাকেন।

জুতার দোকান করে একাধিক বহুতল ভবনের মালিক হওয়ার ব্যাপারে মির্জাপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি গোলাম ফারুক সিদ্দিকী বলেন, গোপাল তার দোকান থেকে রড সিমেন্ট নিয়েছিল। যখন সে রড সিমেন্ট নেয় তখন আমিও হতবাগ হয়েছি।

তবে গোপাল যে এতবড় ভবন করেছে তা বিস্ময়কর। পুলিশের অভিযানের পর জানতে পারলাম সে মদ তৈরি ও বিক্রির সাথেও জড়িত। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা না নেয়ায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে পড়বেন।

মির্জাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. মাইন উদ্দিন বলেন, আমি মির্জাপুর থানায় সদ্য যোগদান করেছি। অভিযোগের ব্যাপারে অনুসন্ধান করে গোপালের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।






মন্তব্য চালু নেই