মেইন ম্যেনু

জেএমবির ‘আত্মঘাতী’ তিন নারী রিমান্ডে

জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে টাঙ্গাইলের কালিহাতী থেকে আটক তিন নারীকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এই তিন নারীকে জেএমবির আত্মঘাতী দলের সদস্য বলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

‘জেএমবি’র এই তিন নারী সদস্য হলেন, গাইবান্ধার শাঘাটা উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের রোজিনা বেগম, পঞ্চগড়ের দেবগঞ্জ উপজেলার সোনাহর ইউনিয়নের গজপুরি গ্রামের সাহজাদা আক্তার সাথী ও বগুড়ার শেরপুরের বাগড়া গ্রামের জান্নাতী ওরফে জেমি।

গত ৫ জুলাই ওই তিন নারীকে আটক করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ এনেছে পুলিশ। আটকের সময় তাদের কাছ থেকে দুইটি চাপাতি, একটি ছোরা, মানুষ জবাই করার জিহাদি ভিডিওচিত্র ও বোমা তৈরির কলাকৌশল লেখা একটি খাতাও উদ্ধার করা হয়।

আটকের পর এই ‘জঙ্গি’ নারীদেরকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হলেও প্রথম দফায় তা নাকচ করে কারাগারে পাঠায় আদালত। পরে সোমবার দুপুরে দ্বিতীয় দফায় আদালতে তুলে আবার তিন দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন গোয়েন্দারা।

পুলিশ কর্মকর্তারা আদালতে বলেন, এই তিন জঙ্গি নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। তাদের সহযোগী কারা, কার নেতৃত্বে তারা সক্রিয়- এসব বিষয়ে তথ্য জানতে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। পরে শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আবদুল্লা আল মাসুম রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

পুলিশ জানায়, রিমান্ডে নেয়া তিন নারীই বিবাহিত। তাদেরকে কারা এই তৎপরতায় জড়িয়েছেন, পরিবারের আর কেউ এতে জড়িত কি না, এসব বিষয়ে তথ্য পাওয়া জরুরি। এদেরকে আটকের পর পরিবারের অন্য সদস্যদের কেউ কেউ আত্মগোপনে গেছেন বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশের দাবি, উত্তরাঞ্চলে এই তিন নারীর হাত ধরে জেএমবি বড় ধরনের নাশকতার চেষ্টা করেছিল। গত ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের অভিজাত রেস্টুরেন্ট হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। পুলিশের দাবি এই হামলায় জড়িত জেএমবি।

এক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই ঈদের দিন ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জে দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাত শোলাকিয়া ময়দানে হামলার চেষ্টা করে জঙ্গিরা। সেখানে ঢুকতে না পেরে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলা করে দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে তারা, আহত হয় আরও নয় পুলিশ। পরে পুলিশের গুলিতে মারা যায় এক হামলাকারী। আর ধরা পড়ে একজন। আর দুই পক্ষের গোলাগুলির মাঝে পড়ে নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এক নারী। এই ঘটনার জন্যও জেএমবিকে দায়ী করছে পুলিশ।

এই দুই হামলার সঙ্গে এই তিন নারীর নাশকতা চেষ্টা একইসূত্রে গাঁথা বলে মনে করছে পুলিশ। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এর সব তথ্য উদঘাটনের আশা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।






মন্তব্য চালু নেই