মেইন ম্যেনু

জেএমবি সম্পৃক্ততায় সালামের মনোনয়ন বাতিল

বাগমারার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আব্দুস সালামের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত এই চিঠি নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মে) রাতে পাঠানো ওই চিঠি গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন নির্বাচন রিটার্নিং অফিসারও পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ মে) সন্ধ্যার পর পরই তিনি ফ্যাক্স বার্তায় আব্দুস সালামের মনোনয়ন বাতিল ও আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতিপত্র নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দেন।

নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, সালামের দলীয় মনোনয়ন বাতিল হলেও প্রার্থীতা বহাল থাকবে। তিনি প্রতীক পাওয়ার কারণে তার প্রার্থিতা বাতিলেরও কোনো সুযোগ নেই। যেহেতু তিনি দলীয় প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন, সেক্ষেত্রে তিনি ওই প্রতীকেরই প্রার্থী। প্রতীক বরাদ্দের আগে এই চিঠি পেলে ব্যবস্থা নেয়া যেতো।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ বুধবার দুপুরে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুস সালামের দলীয় মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। আগামী ৭ মে নির্বাচন হওয়ায় ওই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো দলীয় প্রার্থী থাকছে না। আব্দুস সালামের দলীয় মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে।’

বাগমারা উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাটর গোয়ালকান্দি ও শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত একটি ফ্যাক্স বার্তা তিনি পেয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র বিরোধী ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকায় আব্দুস সালামকে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তার দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘তার মনোনয়ন বাতিলের চিঠি পাবার পর বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আইনের আলোকে মতামত দেবে।’

রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত ডিআইজি নিশারুল আরিফ বলেন, ‘আব্দুস সালাম পুলিশের তালিকাভুক্ত একজন শীর্ষ জেএমবি সদস্য। তার কর্মকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ খোঁজ খবর নিচ্ছে।’

এদিকে এই মনোনয়নের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই প্রকাশ্যে আন্দোলন করে আসছিলেন তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। মনোনয়ন বাতিলের সংবাদ পেয়ে তিনি বলেন, ‘এটা তৃণমূল আওয়ামী লীগের বিজয়। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির পরাজয় হয়েছে।’

আবুল কালাম আজাদ আরো বলেন, ‘আব্দুস সালাম কোনোভাবেই মনোনয়ন পাবার যোগ্য ছিলেন না। তথ্য গোপন করে স্থানীয় সংসদ সদস্য এনামুল হক ও জেলা আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা তার মনোনয়ন এনে দেন। এতে ক্ষুব্দ হন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা।’

গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর সরকারকে বিদ্রোহী প্রার্থী করে দলীয় নেতা-কর্মীরা তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নামেন। তিনি আরো জানান, জেএমবির সদস্য হিসেবে মানুষকে নির্যাতন করায় আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে এখনো একাধিক মামলা চলমান আছে। তিনি জানান, মনোনয়ন পাবার পর পরই আব্দুস সালাম জেএমবি সদস্যদের এলাকায় ফিরিয়ে এনে আবারো সংগঠিত করছিলো।

এ ব্যাপারে বাগমারা আসনের এমপি এনামুল হক বলেন, ‘মনোনয়ন দেয়ার মালিক প্রধানমন্ত্রী। সেখানে স্বাক্ষর করেছে উপজেলা, ইউনিয়ন ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক। এরপর প্রধানমন্ত্রী তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আব্দুস সালাম জেএমবির কোনো সদস্য না। এটা মিথ্যা বিভ্রান্তিকর। খালি নিউজ করলেই হবে না। ২০০৮ সালে আব্দুস সালাম নৌকার ভোট করেছেন।’

এব্যাপারে বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু বলেন, ‘সাংসদ এনামুল হক আওয়ামী লীগের একটি সাদা ফরম্যাটে আমাদের স্বাক্ষর নিয়েছিলেন। পরে সেখানে আমাদের অগোচরে প্রার্থীর নাম বসায়। আমরা কখনোই জানতাম না সেখানে জেএমবি সদস্য আব্দুস সালামের নাম রয়েছে।’

এব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘সালাম জেএমবি সদস্য এটা আমাদের জানা ছিলো না। সাংসদ এনামুল হক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনিসহ স্থানীয়রা নেতাদের স্বাক্ষর করা একমাত্র সুপারিশকৃত প্রার্থী ছিলেন আব্দুস সালাম। তাই জেলা আওয়ামী লীগও তাকে সুপারিশ করেছে।’






মন্তব্য চালু নেই