মেইন ম্যেনু

জেনে নিন কালো মুক্তোর গোপন রহস্য!

কালো মুক্তো প্রকৃতির সবচেয়ে মহৎ সৃষ্টির মধ্যে একটি। ফরাসি পলিনেশিয়া দ্বীপপুঞ্জের পার্শ্ববর্তী ফিরোজা উপহ্রদের মধ্যে এর ফ্যাশন রয়েছে। এখানের মুক্তোদের প্রায়ই তাহিতি সন্তান হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এর ফলে এরা তাহিতিয়ান মুক্তো নামে পরিচিত হয়। এই মুক্তোগুলো ঝিনুক বা শুক্তিসমূহ দ্বারা গঠিত হয়। এদের প্রাকৃতিক কালো রঙ তাদের অনন্য করে তোলে। এদের মধ্যে অধিকাংশই কালো রংয়ের হয় না। কিন্তু বেশিরভাগই গাঢ় ধূসর, রূপালি বা গাড় সবুজ রংয়ের হয়।

এই জটিল বর্ণের দরুন এবং কম উৎপন্ন হবার কারণে কালো মুক্তো সহজে চেনা যায়। যার ফলে এই অন্ধকার তাহিতিয়ান রত্ন আরো মূল্যবান হয়ে ওঠে। সত্যিকারের কালো মুক্তো অত্যন্ত বিরল। যে ঝিনুকের মাঝে কালো মুক্তো থাকে তা অনেক বেশী সুন্দর হয়। বিংশ শতাব্দী থেকে এই কালো মুক্তোর প্রচলন শুরু হয়।

কালো মুক্তোর চাষ তাহিতিদের অর্থনীতি, পর্যটন ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা এবং সেখানকার মানুষের জীবনে একটি বড় অংশ। যার ফলে এর কার্যাদি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে ও মান নিয়ন্ত্রণের অধীনে সম্পন্ন করা হয়।

সাগর থেকে প্রাপ্ত অলংকার দীর্ঘদিন যাবত কিংবদন্তীদের একটি অংশ। গান এবং কবিতায় এর বিশেষ ব্যবহার রয়েছে। শত শত বছর ধরে তাহিতি এবং আশেপাশের দ্বীপপুঞ্জের একটি অবাস্তব জান্নাতের সুনাম রয়েছে। তাহিতিয়ান কালো মুক্তো বিশুদ্ধতা এবং উপসংহারের একটি প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। অনেক আগে, পশ্চিমা সভ্যতার দ্বারা আবিষ্কৃত হয়েছিল এই অন্ধকার রত্ন। কালো মুক্তোকে আভিজাত্য এবং সৌন্দর্যের পরিপূর্ণ নিদর্শন হিসাবে সম্মানিত করা হয়।

ইম্পেরিয়াল চীনে ব্ল্যাক পার্ল বা কালো মুক্তোকে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। তাই, অনেকেই এটা তাদের দাঁতের মধ্যে পরিধান করতেন।হিন্দু লেখকরা মেঘ, হাতি ও সাপের সঙ্গে মুক্তো যুক্ত করতেন। ওরিয়েন্টদের ধারণা ছিল মুক্তো পরীদের চোখের পানি দিয়ে তৈরি হয়। বিশেষ করে, পানির নিচে যে মৎস্যকুমারী থাকে তাদের দ্বারা মুক্তো তৈরি হয়।

সিংহলে একটি জনপ্রিয় কিংবদন্তি আছেন যিনি বলেন, আদম এবং ইভ এর অশ্রুজল দিয়ে নির্মিত একটি হ্রদ রয়েছে। সেই হ্রদে এ সকল মুক্তো পাওয়া যায়। সাদা ও গোলাপি মুক্তো ইভের অশ্রু থেকে এসেছে এবং দুর্লভ কালো বা ধূসর মুক্তো আদমের পুরুষালী অশ্রু থেকে এসেছে।–সূত্র: জুয়েলারি প্যাশন।






মন্তব্য চালু নেই