মেইন ম্যেনু

জেনে নিন, কী আছে ৫৪ ও ১৬৭ ধারায়?

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা অনুযায়ী পুলিশ বিনা পরোয়ানায় ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়াই নয়টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যেকোন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারতো এবং আজকের আপিলের সংক্ষিপ্ত রায়ের পর তা বন্ধ হয়ে গেল।

পুলিশ এই ধারায় যে কোনও সময় যে কোন স্থান থেকে যে কাউকে গ্রেপ্তারের করতে পারতো।৭০ দশকের শুরুর দিকে এই ধারাটি আইনে সন্নিবেশিত হওয়ার পর থেকেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠতে থাকে। সরকার বরাবর বলে আসছে, রাষ্ট্র পরিচালনায় এই ক্ষমতা থাকা জরুরি। তবে মানবাধিকার কর্মী আর বিরোধী দলগুলো (যে দলই বিরোধী দলে থাকে) বরাবর অভিযোগ করে আসছে, এই ধারার অপব্যবহার করে সরকার বিরোধীদের দমন করছে।

৫৪ ধারায় যা আছে

কোন ব্যক্তি কোন মামলাযোগ্য অপরাধের সাথে জড়িত থাকলে বা জড়িত বলে বিশ্বাসযোগ্য খবর বা অভিযোগ থাকলে।

আইনগত কোন অজুহাত (যুক্তি) ছাড়া কারো কাছে ঘর ভাঙার সরঞ্জাম থাকলে।

আইন অনুসারে বা সরকার আদেশ দ্বারা কাউকে অপরাধী বলে ঘোষণা করলে।

কারো কাছে থাকা মালপত্র চোরাই বলে সন্দেহ করার যুক্তি সঙ্গত কোন কারণ থাকলে।

পুলিশের কাজে বাধা দিলে, বা কেউ পালাতে চাইলে বা চেষ্টা করলে।

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে পালিয়েছেন বা এ বিষয়ে যৌক্তিক সন্দেহ থাকলে।

যে কাজ বাংলাদেশে করা হলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচনা করা হত তা তিনি দেশের বাইরে করেছেন বা এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য বা যুক্তিসঙ্গত তথ্য সন্দেহ থাকলে।

মুক্তিপ্রাপ্ত আসামি কার্যবিধির ৫৬৫ (৩) উপধারার নিয়ম লংঘন করলে।

কাউকে গ্রেপ্তারের জন্য অন্য কোন পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে রিকুইজিশন পাওয়া গেলে।

১৬৭ ধারায় যা আছে-

২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করা না গেলে তখনকার পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে ১৬৭ ধারায়। ১৬৭(১) ধারা বলা হয়েছে, যখন কোন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে আটক রাখা হয় এবং ইহা প্রতিয়মান হয় যে, ৬১ ধারায় নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে তদন্ত সমাপ্ত করা যাবে না এবং এরূপ বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে যে, অভিযোগ বা সংবাদ দৃঢ় ভিত্তিক, তখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তিনি যদি সাব-ইনসপেক্টর পদের নিন্ম পর্যায়ের না হন তাহলে সঙ্গে সঙ্গে নির্ধারিত ডায়েরিতে লিখিত ঘটনা সম্পর্কিত নকল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন।

১৬৭ (২) ধারায় বলা হয়েছে- এই ধারার অধীন আসামিকে যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করা হয়, সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার করার এখতিয়ার থাকুক বা না থাকুক, তিনি উপযুক্ত মনে করলে আসামিকে হেফাজতে আটক রাখার জন্য সময়ে সময়ে ক্ষমতা প্রদান করবেন। তবে এরূপ আইনের মেয়াদ সর্বসাকুল্যে ১৫ দিনের বেশি হবে না। তার যদি মামলাটি বিচার করার বা বিচারের জন্য পাঠাবার এখতিয়ার না থাকে এবং তিনি যদি আরও আটক রাখা অপ্রয়োজনীয় মনে করেন তাহলে তিনি আসামিকে এরূপ এখতিয়ারবান ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণের আদেশ দিতে পারবেন।

তবে শর্ত এই যে, তৃতীয় শ্রেণীর কোন ম্যাজিস্ট্রেট এবং সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত নহেন এরূপ কোন দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে পুলিশ হেফাজতে আটক রাখার আদেশ দিবেন না।

১৬৭ (৩) ধারায় বলা হয়েছে- এই ধারার অধীন আসামিকে পুলিশ হেফাজতে আটক রাখার ক্ষমতাদানকারী ম্যাজিস্ট্রেট তার এরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন।

১৬৭ (৪) ধারায় বলা হয়েছে- চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেজ, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতিত অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেট এরূ আদেশ দিলে তিনি আদেশ দিবার কারণসহ আদেশের একটি নকল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন, তিনি যার অব্যবহিত অধস্তন।

১৬৭(৫) ধারায় বলা হয়েছে- অপরাধ সংঘটন সম্পর্কিত সংবাদপ্রাপ্তির তারিখ অথবা এরূপ তদন্তের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশেপ্রাপ্তির তারিখ হতে একশত বিশ দিনের মধ্যে যদি তদন্ত সমাপ্ত না হয় তাহলে-

(ক) অপরাধটি আমলেনিতে ক্ষমতাসম্পন্ন বা তদন্তের আদেশদানকারী ম্যাজিস্ট্রেট, তদন্ত সম্পর্কিত অপরাধটি যদি মৃত্যুদণ্ডে, যাবজ্জীবন কারদণ্ডে বা দশ বছরের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ না হয় তবে তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে আসামিকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন এবং

(খ) তদন্ত সম্পর্কিত অপরাধটি যদি মৃত্যুদণ্ডে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা দশ বছরের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ না হয় তবে দায়রা আদালত ইহার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে আসামিকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন।

তবে শর্ত এই যে, আসামিকে যদি এই অপধারার অধীন জামিনে মুক্তি দেয়া না হয় তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট অথবা ক্ষেত্র বিশেষ দায়রা আদালত ইহার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন।

আরও শর্ত এই যে, যেক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচারে সোপর্দ করার জন্য সংশ্লিষ্ট অনুমোদন গ্রহণ করা প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে অনুমোদন গ্রহণ করতে যে সময় লাগিবে এই উপধারায় নির্ধারিত সময় হতে তা বাদ দিতে হবে।






মন্তব্য চালু নেই