মেইন ম্যেনু

জেনে নিন কোরিয়ান সুন্দরীদের রূপের রহস্য

কোরিয়ানরা ত্বক সচেতন বলেই পরিচিত। তাদের ত্বকের সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বের সব মানুষই তাদের ঈর্ষা করে। কোরিয়ান অভিনেত্রী গো হাইউন জাং তার সৌন্দর্যের রহস্য নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করেন যার নাম “গো হাইউন জাং টেক্সচার”। এটি ২০১১ সালে প্রকাশিত হয় এবং প্রকাশিত হওয়ার দুইদিনের মধ্যে সব কপি বিক্রি হয়ে যায়। কোরিয়ানরা শিশুকাল থেকেই ত্বকের যত্ন নিতে শিখে। সঠিকভাবে ত্বকের যত্ন নিলে ত্বকের অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া যায় এবং ত্বক হয়ে উঠে দীপ্তিময়। চলুন তাহলে জেনে নিই কোরিয়ান সুন্দরীদের বিউটি সিক্রেটগুলো।

১। ডাবল ক্লিঞ্জিং

কোরিয়ান নারীরা ডাবল ক্লিঞ্জিং মেথড ব্যবহার করে যেমন – তারা প্রথমেই মুখের মেকআপ ভালো করে উঠিয়ে ফেলে এবং তরল ক্লিঞ্জার ব্যবহার করে তেল দূর করার জন্য। এরপর ব্যাকটেরিয়া, ঘাম ও অন্যান্য দূষণ দূর করার জন্য ক্লিঞ্জিং অয়েল ব্যবহার করে। মুখ পরিষ্কার করার পরে উষ্ণ পানি দিয়ে মুখ ধোয়। দীপ্তিময় ত্বকের জন্য তারা মুখ পরিষ্কার করাটাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। এজন্য তারা হালকা ধরণের ফেনা সৃষ্টিকারী ক্লিঞ্জার ব্যবহার করে।

২। এক্সফলিয়েটিং

এক্সফলিয়েট করলে ত্বকের মৃত চামড়া দূর হয় ও ছিদ্রগুলো উন্মুক্ত হয়। ফলে ত্বক কোমল ও সতেজ হয়। তবে নিয়মিত মুখে স্ক্রাব করার প্রয়োজন নেই।

৩। টোনিং

ক্লিঞ্জিং ও এক্সফোলিয়েটিং করার পরে টোনিং করলে ত্বক ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজার শোষণ করতে পারে। টোনিং এর ফলে ত্বক পরিপুষ্ট হয় এবং আস্তে আস্তে ত্বকের ছিদ্রগুলো সংকুচিত হয়। টোনিং সত্যিকার ভাবেই ত্বক সতেজ করতে সাহায্য করে।

৪। এসেন্স

ক্লিঞ্জিং ও টোনিং এর পর কোরিয়ানরা এসেন্স ব্যবহার করতে পছন্দ করে। এসেন্স হচ্ছে এসেনশিয়াল নারিশিং লিকুইড যা লোশনের চেয়ে পাতলা হয়। এটি ত্বককে নতুনের মত হয়ে উঠতে সাহায্য করে। তারা এই এসেন্স মুখে ও ঘাড়ে ব্যবহার করে। তারা এসেন্সের পরিবর্তে এম্পুলও ব্যবহার করে। এই ঘন তরলটি ভিটামিনে সমৃদ্ধ যার একটি ফোঁটাই ত্বকের সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট।

৫। ময়েশ্চারাইজিং

কোরিয়ান রমণীরা হালকা ধরণের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে। ময়েশ্চারাইজার লাগানোর সময় মুখে বৃত্তাকারে ম্যাসাজ করে যাতে মুখের ত্বকের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। হালকা ধরণের ময়েশ্চারাইজার দ্রুত ত্বকের সাথে মিশে যায়।

৬। ন্যাচারাল ফেস মাস্ক

কোরিয়ানরা বিশ্বাস করে যে ত্বকের জন্য সবচেয়ে ভালো ও কার্যকরী উপাদানটি প্রকৃতিতেই পাওয়া যায়। তাই তারা প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই ফেস মাস্ক তৈরি করে থাকে। মাস্ক তৈরিতে তারা সাধারণত ফারমেন্টেড ইষ্ট, গ্রিনটি এবং শামুকের লালা ব্যবহার করে থাকে। এছাড়াও মধু ব্যবহার করে তারা। মুখে কাঁচা মধু লাগিয়ে ১ মিনিট যাবত ম্যাসাজ করুন। ৫ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন। তারা সপ্তাহে ২ দিন ফেস মাস্ক ব্যবহার করে। কোরিয়ান নারীদের আরেকটি জনপ্রিয় ফেস মাস্ক হচ্ছে ডিমের সাদা অংশের সাথে মধু মিশিয়ে ব্যবহার করা।

৭। এসপিএফ

কোরিয়ান নারীরা সানব্লক লাগানো ছাড়া ঘরের বাহিরে যান না। সব ঋতুতেই তারা এসপিএফ ব্যবহার করেন। এটির ব্যবহারে ত্বকের বলিরেখা ও দাগ দূর হতেও সাহায্য করে।

৮। আই ক্রিম

চোখের চারপাশের অংশ বেশ সংবেদনশীল হয়, তাই এই অংশের বিশেষ যত্ন নেয়া প্রয়োজন। চোখের চারপাশের অংশ আর্দ্র রাখার জন্য তারা ঘুমাতে যাওয়ার আগে আই ক্রিম ব্যবহার করে। এটি ডার্ক সার্কেল, বলিরেখা ও ফোলাভাব প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৯। সঠিক খাবার

আপনি কী খাচ্ছেন তার উপর আপনার ত্বকের যত্ন অনেকাংশে নির্ভর করে এবং কোরিয়ান সুন্দরীরা খুব ভালোভাবে এটি মেনে চলে। তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে কিমচি যা ফারমেন্টেড বাঁধাকপি এবং এটি ভিটামিন সি ও বিটা-ক্যারোটিন এ সমৃদ্ধ থাকে। এটি ত্বকের স্বাস্থ্যকে উদ্দীপিত করে। কোরিয়ানরা বিশ্বাস করে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। দিনের শুরুতেই তারা পানি পান করে এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে কয়েক মিনিট যাবত মুখে ছিটা দেয়। তাদের খাবারের প্রধান অংশে ফল ও সবজি থাকে এবং কম সোডিয়াম যুক্ত খাবার খায় তারা।

সৌন্দর্য রক্ষার ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা কোরিয়ান নারীরা খুব ভালোভাবেই মেনে চলেন। আপনি যদি সুন্দর দাগহীন উজ্জ্বল ত্বক চান তাহলে যত ব্যস্তই থাকুন না কেন আপনাকে ত্বকের যত্ন করতে হবে। আপনার ত্বক আপনার অমূল্য সম্পদ তাই আজই এর সঠিক যত্ন নেয়া শুরু করুন এবং হাইড্রেটেড থাকুন।প্রিয়.কম






মন্তব্য চালু নেই