মেইন ম্যেনু

জেনে নিন, পৃথিবীর অন্যতম এক ‘যৌন পর্যটন’ সম্পর্কে অজানা তথ্য

ডেনমার্কের কোপেনহেগেন হাসপাতালের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্যানিশ নারীদের সন্তান জন্মদান হার গত দশ বছরে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে যা দেশটির স্বাভাবিক জনসংখ্যা ধরে রাখার ক্ষেত্রে এক মারাত্মক হুমকি। অপর এক জরিপে দেখা গেছে, ২০০৮ সালে যেখানে প্রায় ৬৫ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করেছিল সেখানে ২০১২ সালে মাত্র ৫৭ হাজার ৯১৬ শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। সন্তান জন্মদানের এই নিম্নগতির কারণ হিসেবে শারীরিক ত্রুটির পাশাপাশি কারো কারো ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকে এবং বিলম্বে সন্তান নেয়ার ইচ্ছাকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে নানামুখি পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন দেশটির সরকার। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি উদ্যোগও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

অনেক দম্পতি কমপক্ষে দুই থেকে তিনটি সন্তান প্রত্যাশা করলেও শেষপর্যন্ত দেখা যায় প্রতি পাঁচ দম্পতির মধ্যে একটিকেই নিঃসন্তান থাকতে হয়। জরিপে আরও জানা যায়, ডেনমার্কে প্রতি পরিবারে সন্তান জন্মদানের হার ১ দশমিক ৭০ যা নিতান্তই কম। দেশটির পর্যাপ্ত জনসংখ্যা বজায় রাখতে এই হার আরও অনেক বাড়াতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই সমস্যার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে ডেনমার্কে এই মুহূর্তে সন্তান লালনে উপযুক্ত বয়সের নারীর অভাব। এছারাও দেশের বেশিরভাগ নারীই পরিকল্পনা করেন উপযুক্ত বয়সে পৌঁছে তারা সন্তান নেবেন। কিন্তু সেই বয়সে পৌঁছার পর বেশিরভাগ নারীই তাদের গর্ভধারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। এছাড়াও ড্যানিশ পুরুষদের নিম্নমানের শুক্রাণুও এর একটি অন্যতম কারণ বলে দাবি করেন বিশেষজ্ঞরা।

একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য অধিক জনসংখ্যা যেমন কাম্য নয় তেমনি জনসংখ্যার বজায় রাখতে কম জনসংখ্যাও কাম্য হতে পারে না। ইউরোপের অন্যতম শিল্পোন্নত দেশ ডেনমার্কের এরূপ পরিস্থিতিতে দেশটির একটি ভ্রমণ কোম্পানি এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্পাইস রেৎজার নামের একটি কোম্পানি বিভিন্ন চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিষয়টিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। এই কোম্পানি নানী বা দাদী হতে চান এমন নারীদের ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে আহ্বান করছেন তারা যেন তাদের উপযুক্ত সন্তানদের গ্রীষ্মের ছুটির সময়টায় বিভিন্ন অবকাশযাপন কেন্দ্রে তাদের সঙ্গীদের সাথে লম্বা সময়ের জন্য পাঠান। যাতে তারা ওই সময়টায় মিলিত হওয়ার বেশি সময় পান এবং সন্তান জন্মদান করতে পারেন। এজন্য তারা বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা ও প্যাকেজেরও ব্যবস্থা রেখেছেন বলে জানা যায়। কোম্পানিটি এই বিশেষ অবকাশ যাপনকে ‘সফল অবকাশ’ বলে তাদের বিজ্ঞাপনে প্রচার করছে।

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে সন্তান জন্মদানের সঙ্গে গ্রীষ্মের কী সম্পর্ক? কেনই বা ওই কোম্পানি অবকাশযাপনের জন্য গ্রীষ্মকালকেই বেছে নিল। এক গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রীষ্মে মানুষের শরীরে এন্ডরফিন এবং রক্তসংবহন প্রক্রিয়া গ্রীষ্মে পুরুষ এবং নারী জননাঙ্গে বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। এতে জননাঙ্গ অধিক সতেজ এবং সক্রিয় হয়ে ওঠে যা অধিক যৌনমিলনের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। ফলে এতে দম্পতিদের মধ্যে বারবার যৌনমিলনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা জাগে। গবেষণায় আরও বলা হয়, গ্রীষ্মে দম্পতিরা প্রায় ৫১ শতাংশ বেশিবার যৌনমিলন করে।

কোম্পানিটি সন্তান জন্মদানের বিষয়টিকে সামনে রেখে প্রথম দিকের বিজ্ঞাপনে প্রচারিত স্লোগান রেখেছিল, ‘ডু ইট ফর ডেনমার্ক’ অর্থাৎ ‘ডেনমার্কের জন্যই এটি কর’ কিন্তু তা পরিবর্তন করে এখন করা হয়েছে ‘ডু ইট ফর মম’ অর্থাৎ ‘মায়ের জন্য এটি কর’। দম্পতিরা যেন তাদের মায়েদের দাদী বা নানী হওয়ার সুযোগ দিয়ে নিজেরা সন্তান নেন। যদিও ২০০৯ সালে ডেনমার্কের পর্যটন শিল্প এক ভিডিওবার্তায় অভিযোগ করেছিল, ডেনমার্ককে একটি যৌন পর্যটন গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করছে এসব কোম্পানি।

আপাত অদ্ভূত ওই বিজ্ঞাপনে দেখানো হয়, একজন ড্যানিশ নারী কামুক দৃষ্টিতে বিশ্বব্যাপী তার অনাগত সন্তানের বাবাকে খুঁজে ফিরছে।

সরকারি উদ্যোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ডেনমার্কের মাধ্যমিক পাঠ্যপুস্তকে যৌনতা আর সন্তান জন্মদান বিষয়ক অধ্যায় সংযোজন। এছাড়াও শ্রেণিকক্ষে কিশোর কিশোরীদের অধিক বয়সে সন্তান জন্মদানের ঝুঁকি সম্পর্কে খোলামেলা শিক্ষা প্রদানেরও নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার।



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই