মেইন ম্যেনু

জেনে নিন বিভিন্ন ধরনের রক্তের গ্রুপ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

রক্ত কিংবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের প্রয়োজনে আমরা প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের রক্তের গ্রুপের কথা জানতে পারি। তবে রক্তের এ গ্রুপগুলো নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।

১৯০০ সালে অস্ট্রিয়ান চিকিৎসক কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার রক্তের বিভিন্ন গ্রুপের বিষয়টি আবিষ্কার করেন এবং এজন্য নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। এরপর থেকে এ বিষয়ে নানা গবেষণা হয়েছে এবং বিষয়টি ক্রমে উন্নতি লাভ করেছে। এতে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর রক্তের ধরনের বহু প্রভাব লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

কিন্তু কী কারণে রক্তের গ্রুপগুলো আলাদা। এ বিষয়ে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বায়োলজিস্ট অজিত ভার্কি বলেন, ‘রক্তের গ্রুপ আবিষ্কারের পর নোবেল অর্জনের প্রায় এক শতাব্দী পার হয়ে গিয়েছে। এখনও আমরা জানি না, কেন এগুলো আলাদা।’
মানুষের জীবন রক্ষার জন্য রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা রক্তের ধরন অনুযায়ী যে কোনো ব্যক্তিকে অন্যজনের রক্ত প্রদান করতে পারি। তবে আগে এ বিষয়টি যখন আবিষ্কৃত হয়নি তখন তা মোটেই সম্ভব হয়নি। সে সময় অনেক চিকিৎসকই রক্তের মারাত্মক অভাব পূরণের জন্য বিভিন্ন প্রাণীর রক্ত দিয়ে চেষ্টা করেছিলেন। একজন ফরাসী চিকিৎসক গরুর রক্ত মানুষের দেহে সঞ্চালনের চেষ্টা করেন। তবে তাকে সে রক্ত দেওয়ার পর দ্রুত তিনি ঘামতে ও বমি করতে শুরু করেন। এরপর তার প্রস্রাব কালো হয়ে যায় এবং তিনি মারা যান।

তবে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের পর এ বিষয়টি সহজ হয়ে আসে। অবশ্য ১৯ শতকেও অল্প কয়েকজন চিকিৎসক এ কাজে সাহস করে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন ব্রিটিশ চিকিৎসক জেমস ব্লানডেল। সে সময় সন্তান জন্মগ্রহণ করাতে গিয়ে বহু নারী দেহের রক্তশূন্যতায় মারা যেতেন। অন্য চিকিৎসকদের মতো এ বিষয়ে পিছিয়ে না থেকে তিনি সে সময় রক্ত সঞ্চালনে এগিয়ে আসেন। তিনি জানান, মানুষকে শুধু মানুষের রক্তই দিতে হবে, অন্য কোনো প্রাণীর নয়। এরপর তিনি রক্ত সঞ্চালনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণও তৈরি করেন, যা ব্যবহার করে বহু মানুষের জীবন রক্ষা সম্ভব হয়।

download

১৯৯৬ সালে পিটার ডি’অ্যাডামো নামে একজন গবেষক বিভিন্ন ধরনের রক্তের ধরনকে আমাদের অতীতকালের বিভক্তির ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করেন। ‘ইট রাইট ফর ইওর টাইপ’ নামে বইতে তিনি লিখেছেন আমাদের রক্তের ধরন অনুযায়ী খাবার খাওয়া উচিত। এটি আমাদের বিবর্তনের ইতিহাসের সঙ্গেও মানানসই বলে তিনি মনে করেন। তিনি দাবি করেন এটি অতীতে মানুষের ইতিহাসকে প্রতিনিধিত্ব করে। তার মতে ‘ও’ টাইপ রক্ত যাদের তারা আফ্রিকাতে শিকারী জীবনযাপনকারীদের প্রতিনিধিত্ব করেন, ‘এ’ টাইপ রক্ত যাদের তারা কৃষিজীবীদের প্রতিনিধিত্ব করেন, ‘বি’ টাইপ রক্ত যাদের তারা হিমালয়ের উচ্চ অঞ্চলে জীবনযাপনকারীদের প্রতিনিধিত্ব করেন অন্যদিকে টাইপ এবি হলো এ ও বি-এর মিশ্রণ। এছাড়া তিনি এ রক্তের ধরন অনুযায়ী খাবার খেতে উৎসাহিত করেছেন।

পিটারের মতে এ টাইপ রক্ত যাদের তাদের শুধু সবজি খাওয়া উচিত। অন্যদিকে যাদের ‘ও’ টাইপের রক্ত রয়েছে তাদের আমিষ খাওয়া উচিত বেশি করে। এ ধরনের খাবার পছন্দ করা হলে তা নানা রোগের ঝুঁকি কমাবে বলেও তিনি মনে করেন। তার বইটি সারা বিশ্বে প্রায় ৭০ লাখ বিক্রি হয়েছে এবং ৬০টিরও বেশি ভাষায় অনুদিত হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই