মেইন ম্যেনু

জেনে নিন ৪ ধরণের ক্ষতিকর ঘুম সমস্যা ও এর প্রতিকার

ঘুমের সমস্যা কি শুধুই অনিদ্রা সমস্যাকে বোঝায়? মোটেই নয়, বরং ঘুম না আসার চাইতেও ঘুমের আরও মারাত্মক কিছু সমস্যা রয়েছে যার সম্পর্কে অনেকেই পরিচিত নন। এর কারণ হচ্ছে যিনি ঘুমুতে পারেন না তিনি অন্তত বুঝতে পারেন যে তার অনিদ্রা সমস্যা রয়েছে অর্থাৎ ইনসমনিয়া রয়েছে কিন্তু ঘুম সংক্রান্ত এমন অনেক সমস্যা রয়েছে যাতে আক্রান্ত অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তার এই সমস্যা হচ্ছে। অবাক হচ্ছেন? যিনি নাক ডাকেন তিনি কখনোই স্বীকার করে না তিনি নাক ডাকেন, এমনই আরেকটি সমস্যা হচ্ছে ঘুমের মধ্যে হাঁটা। এছাড়াও আরও অনেক ক্ষতিকর সমস্যা রয়েছে। আজকে ডাক্তারের ভাষাতেই জেনে নিন ঘুম সংক্রান্ত এমনই ক্ষতিকর কিছু সমস্যার কথা এবং জেনে নিন ডাক্তারের পরামর্শেই এর প্রতিকার।

১) দুঃস্বপ্ন দেখা

অনেকেই ভাবেন দুঃস্বপ্ন দেখা একেবারেই স্বাভাবিক ব্যাপার এবং এটি ঘুম সংক্রান্ত কোনো সমস্যাই নয়। কিন্তু ডঃ রানা চৌধুরী জানান, ‘দুঃস্বপ্ন দেখা মোটেও স্বাভাবিক কিছু নয়। খুব হঠাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা খারাপ কিছু নয়, কিন্তু ঘন ঘন দুঃস্বপ্ন দেখা এবং একই স্বপ্ন বারবার দেখা সত্যিই চিন্তার বিষয়। কারণ এটি প্রকাশ করে আপনার মানসিক সমস্যার কথা’। তিনি আরও জানান এই অতিরিক্ত দুঃস্বপ্ন দেখার কারণ হতে পারে অতিরিক্ত মানসিক চাপ, কোনো ভয় অথবা মারাত্মক বিষণ্ণতা। তাই অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। এর বাইরে মানসিক চাপ কম নেয়া, সকলের সাথে মিলে মিশে হাসিখুশি থাকা এবং নিজের ভয়ের কথা প্রকাশ করে মন হালকা করার পরামর্শ দেন ডঃ রানা।

২) ঘুমের মধ্যে হাঁটা

খুবই মারাত্মক একটি ঘুম সমস্যা এই স্লিপ ওয়াকিং। ‘ঘুমিয়ে পড়ার এক থেকে দুই ঘণ্টা পর স্লিপ ওয়াকিংয়ের সমস্যা দেখা দেয়, যা কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। মাঝে মধ্যে স্লিপ ওয়াকিং করার সমস্যা খুব বেশী দুশ্চিন্তার কিছু নয়, কিন্তু এটি যদি খুব ঘন ঘন এমনকি প্রতিদিনই ঘটতে থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত’, ভলে প্রিয়.কমকে জানান ডঃ রানা। ঘুমের মধ্যে হাঁটার এই সমস্যার জন্য অনেকাংশে দায়ী মানসিক অবস্থা। ঘুম কম হওয়া, অনিয়ন্ত্রিত ঘুমের সময়, মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা এবং কোনো ধরণের ড্রাগের কারণে এটি হতে পারে। ঘুমের সাইকেল ঠিক রেখে সঠিক সময়ে ঘুমানো, মানসিক চাপ কম নেয়া এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঘুমানো উচিত এই সমস্যা থেকে বাঁচতে। এছাড়াও মারাত্মক সমস্যায় অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ সেবন করা উচিত বলে জানান ডঃ রানা।

৩) স্লিপ প্যারালাইসিস বা বোবায় ধরা

ঘুমের মধ্যে এই অস্বস্তিকর অবস্থার সম্মুখীন হতে পারেন যে কেউ। ভারী কিছু বুকের উপরে চেপে বসে থাকার মতো অস্বস্তিকর অনুভূতি এবং নিজেকে পুরো সচেতন অনুভব করেও শরীর নড়াতে না পারার মতো ভয়ের পরস্থিতি হয় এই সমস্যায়। অনেকে একে জীন ভুতের আসর বলে মনে করলেও এটি আসলে ঘুমের সমস্যা যার নাম ‘narcolepsy’। মানসিক অবস্থা, ঘুম না হওয়া, অসময়ে ঘুমানো, চিৎ হয়ে ঘুমানো এবং অন্যান্য ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে এই সমস্যা হয়ে থাকে। ঘুমের সময় ঠিক রেখে মানসিক চাপ কমানো এবং একদিকে পাশ করে ঘুমানোর মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব। আর যদি অতিরিক্ত সমস্যা দেখা দেয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

৪) ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা

নাক ডাকার সমস্যাকে সাধারণ ভাবা উচিত নয় একেবারেই বলে জানান ডঃ রানা। তিনি প্রিয়.কমকে জানান, ‘ঘুমের মাঝে নাক ডাকার সমস্যা হৃৎপিণ্ড, কার্ডিওভ্যস্কুলার সমস্যা প্রকাশ করে থাকে। এছাড়াও অতিরিক্ত ওজনের কারণে শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা হওয়ার কারণে এই সমস্যা হয়ে থাকে’। তাই অবহেলা না করে নাক ডাকা সমস্যার সমাধান করা উচিত ডাক্তারের পরামর্শে।

পরামর্শ দিয়েছেন
ডঃ রানা চৌধুরী
মেডিসিন ডাক্তার, এমবিবিএস
জনসেবা স্বাস্থ্য ক্লিনিক
দক্ষিণ আজমপুর
উত্তরা, ঢাকা-১২৩০

আরও তথ্যdrugs.com ও webmd.com

http://www.drugs.com/slideshow/sleep-disorders-what-are-they-and-how-can-they-be-treated-1109

http://www.webmd.com/sleep-disorders/guide/sleepwalking-causes

http://www.webmd.com/sleep-disorders/guide/sleep-paralysis?page=2






মন্তব্য চালু নেই