মেইন ম্যেনু

জৈশাকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করতে মরিয়া অ্যাথলেটিক্স সংস্থার কর্তারা

ম্যারাথন রানার ও পি জৈশাকে নিয়ে তৈরি রহস্য পরিষ্কার হওয়ার বদলে আরওই ঘনীভূত হতে শুরু করেছে। দাবি, পাল্টা দাবিতে মঙ্গলবার ভারতীয় অলিম্পিক স্পোর্টের হতাশ ছবিটাই আরও প্রকট হয়ে গেল।

ম্যারাথন রানার ও পি জৈশাকে নিয়ে তৈরি রহস্য পরিষ্কার হওয়ার বদলে আরওই ঘনীভূত হতে শুরু করেছে। দাবি, পাল্টা দাবিতে মঙ্গলবার ভারতীয় অলিম্পিক স্পোর্টের হতাশ ছবিটাই আরও প্রকট হয়ে গেল।
জৈশা দাবি করেছিলেন, রিওতে ম্যারাথন দৌড়ের সময় তাঁকে জল দেওয়ার জন্য ভারতের কোনও কর্তা উপস্থিত ছিলেন না। ফিনিশিং লাইনে এসে অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন তিনি। সেখানেই পড়ে যান। জৈশা এমনও বলেন যে, তাঁর মনে হয়েছিল মারাও যেতে পারেন।

ছোটবেলা থেকে প্রবল দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠা জৈশার এমন দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে কার্যত পাল্টা আক্রমণের ধ্বজা নিয়ে মঙ্গলবার নেমে পড়েন ভারতীয় অ্যাথলেটিক্স সংস্থার কর্তারা। নানারকম নিয়মকানুনের ফিকির তুলে তাঁরা বিবৃতি দেন, ম্যারাথনের নিয়ম অনুযায়ী, রানারকে বলতে হয় তাঁর জন্য আলাদা পানীয়ের ব্যবস্থা করতে হবে কি না। অ্যাথলেটিক্স কর্তাদের দাবি, জৈশা এবং কোচ নিকোলাই-কে জিজ্ঞেস করলে তাঁরা নাকি বলে দিয়েছিলেন, বাড়তি কোনও পানীয়ের দরকার নেই।

যা শোনার পর দুপুরের দিকে জৈশা আবার পাল্টা বক্তব্য দেন যে, তিনি কেন মিথ্যা কথা বলতে যাবেন? ‘‘ম্যারাথনের ভিডিও ফুটেজ তো নিশ্চয়ই থাকবে। সেটা দেখলেই তো যে কারও কাছে ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। সেটাই দেখে নিন না সকলে,’’ বলেন জৈশা। আরও যোগ করেন, ‘‘রিওতে আমার হাতে জল দেওয়ার জন্য কেউ ছিল না। এটাই সত্যি কথা।’’

জৈশা বলছেন, প্রচণ্ড গরমে ২১ কিলোমিটারের পরেই তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তার ওপর কেউ জল দেওয়ার জন্য না থাকায় অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। ম্যারাথন রেস ছিল ৪২ কিলোমিটারের। ‘‘ওরকম গরমের মধ্যে অতটা পথ দৌড়নোর জন্য অনেক জল বা পানীয় দরকার ছিল। আমি সে সব কিছুই পাইনি,’’ তাঁর অভিযোগ থেকে না সরে বলে চলেন জৈশা, ‘‘৮ কিলোমিটার অন্তর কমন ওয়াটার পয়েন্ট থাকে। সেটা থেকে আমি জল পেতে পারতাম। কিন্তু ওরকম গরমে অতটা পথ অতিক্রম করার জন্য প্রত্যেক কিলোমিটার অন্তর জল দরকার ছিল।’’

ম্যারাথনের নিয়ম অনুযায়ী, অলিম্পিক্সের আয়োজকদের ৮ কিলোমিটার অন্তর নিজেদের জল সরবরাহকারী বুথ রাখার কথা। এর বাইরে নিজের দেশের কর্তারা প্রত্যেক ২.৫ কিমি অন্তর তাঁদের প্রতিযোগীদের জন্য ‘হেল্প ডেস্ক’ বসানোর সুযোগ পান। সেখান থেকে জল বা অলিম্পিক্স কমিটির অনুমোদন পাওয়া অন্য এনার্জি ড্রিঙ্ক সরবরাহ করা যায়। যেহেতু জৈশার ক্ষেত্রে ভারতের কোনও প্রতিনিধিদের নিয়ে কোনও ডেস্কই ছিল না, তাঁকে শুধুই অলিম্পিক্স কমিটির তৈরি বুথ থেকে পাওয়া জলের ওপর ভরসা করতে হয়।

অ্যাথলেটিক্স সংস্থার কর্তারা সারাদিন ধরেই যদিও জৈশার দাবিকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করে গেলেন। একটি নিউজ চ্যানেলের ফুটেজে দেখা গিয়েছে, জৈশা সত্যিই হাঁপাতে হাঁপাতে ফিনিশিং লাইনে পৌঁছে পড়ে যান। সেই ফুটেজে ভারতীয় কোনও কর্তাকে তাঁর সাহায্যে আসতে দেখা যায়নি। দেখা গিয়েছে, রিও অলিম্পিক্সের স্বেচ্ছাসেবিকারা তাঁকে স্ট্রেচারে তুলে দৌড়ে দৌড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ভারতের জাতীয় পতাকা লাগানো জায়গাতে ডেস্ক থাকলেও কোনও প্রতিনিধি যে ছিল না, এই ফুটেজে সেটাও দেখা গিয়েছে।

এরপরেও কর্তারা দাবি করে যাচ্ছেন, তাঁরা সাহায্যের জন্য ছিলেন। জৈশা এবং কোচের কথাতেই তাঁরা ডেস্কে বসতে পারেননি। এমনও বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে যে, ম্যারাথনের নিয়ম মেনেই জৈশাদের দাবি মতো ভারতীয় ডেস্কে কাউকে রাখা হয়নি। অথচ, পুরুষদের ম্যারাথনে কিন্তু ভারতীয় কর্তারা ছিলেন। অন্য এক ম্যারাথন রানার কবিতা রউত মঙ্গলবার জানিয়েছেন, তিনি কোনও সমস্যার সম্মুখীন হননি। তাতে জৈশা নিয়ে রহস্য আরও বেড়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, তাহলে কি খারাপ ফল ঢাকতেই এমন বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন? ম্যারাথনে ৮৯তম হিসাবে শেষ করেন জৈশা। টাইমিংও খারাপ ছিল।

জৈশা যার উত্তরে একটাই কথা বলছেন। ‘‘আমার রেকর্ড দেখুন। কখনও অভিযোগ করিনি।’’ অ্যাথলেটিক্স সংস্থার কর্তারা যে যুক্তিও মানতে নারাজ। জাতীয় অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সচিব সি কে ওয়ালসন বলেছেন, জৈশার কোচই অতিরিক্ত পানীয় এবং খাদ্য নিতে অস্বীকার করেছিলেন। এমনও দাবি করেছেন সংস্থার কর্তারা যে, জৈশা সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছেন।

অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘জৈশাকে বিদেশি কোচের অধীনে রেখে সংস্থা ঠিকভাবে তৈরি করার চেষ্টা করেছে। তারপরেও এমন ভুল তথ্য কেন তিনি মিডিয়ার সামনে দিলেন, তা দেখে আমরা অবাক হয়ে যাচ্ছি’। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, রিও সংগঠকেরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে জৈশাকে হাসপাতালে পাঠান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় টিম ম্যানেজার এবং অ্যাথলেটিক্স দলের সহকার কোচ।

পি ভি সিন্ধু, দীপা কর্মকারদের বরণ করার মধ্যেই ও পি জৈশা নিয়ে সত্য উদঘাটনের দিকে এখন তাকিয়ে দেশ।






মন্তব্য চালু নেই