মেইন ম্যেনু

জোট ছাড়লো ব্রিটেন, অন্যদের কী প্রতিক্রিয়া

অবশেষে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষেই ভোট দিল ব্রিটেনের মানুষ। অথচ ২৮টি দেশের এই জোটে যোগ দিতে ১৯৭৫ সালের গণভোটে এই জনগণই পক্ষে রায় দিয়েছিল। যদিও সাধারণ মুদ্রা ইউরোকে তারা গ্রহণ করেনি। ৪১ বছর পর সেই জোটে থাকা না থাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার আবারো গণভোট হলো। আর তাতে ৫২ শতাংশ মানুষই জোট ছাড়ার পক্ষে ভোট দিল।

ব্রিটেনের গণভোটের এ ফলাফল পর্যবেক্ষণে ছিল জোটের অন্য ২৭ দেশ। এখন আগামী দিনে অন্যরাও ব্রিটেনের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে কি না সে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। ব্রিটেনের মতো একটি শক্তিশালী সদস্য বের হয়ে যাওয়াতে জোটের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

ফলাফল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে আসায় প্রচারণা চালানো ইউকে ইন্ডিপেন্ডেন্স পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজ বলেন, ‘আজ যুক্তরাজ্যের স্বাধীনতা দিবস।’ তিনি এ ফলাফলকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবেও অ্যাখ্যায়িত করেন।

একই সঙ্গে গণভোটের ফলাফলের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত পদত্যাগ করতে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের প্রতি আহ্বান জানান ইউকে ইন্ডিপেন্ডেন্স পার্টির এ নেতা। ইইউ ছাড়ার পক্ষে রায় ঘোষণার পর ব্রিটেনের বিরোধী লেবার পার্টি তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ঠিক করছে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

গণভোটের এ ফলাফল প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এদিকে গণভোটে ইইউ ছাড়ার পক্ষে রায় গেলেও সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডেভিড ক্যামেরুনকে চিঠি দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের ৮৪ এমপি। এদের মধ্যে ইইউ ছাড়ার পক্ষের নেতা বরিস জনসন ও মাইকেল গোভও রয়েছেন।

ফলাফল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জোটের শরিক সদস্য দেশের নীতিনির্ধারকদের অনেকে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকলম টার্নবুল বলেছেন, ব্রিটেনের ভোটের এ ফলাফলের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার ওপর পড়বে না, কেননা এ প্রক্রিয়া থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যেতে বেশ কয়েকবছর সময় লাগবে। তবে ইতোমধ্যে মুদ্রাবাজার ও পুঁজিবাজারে এ ফলাফলের নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক ওয়ালটার স্টেইনমেয়ার বলেছেন, ব্রিটেনের এ সংবাদ সত্যি মর্মাহত হওয়ার মতো। দিনটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ব্রিটেনের জন্য দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সভাপতি মার্টিন শুলজ বলেছেন, ‘গণরায় শ্রদ্ধা করছি। এখন সময় হচ্ছে দায়িত্বশীল আচরণের। ডেভিড ক্যামেরনের দায়িত্ব রয়েছে তার দেশের জন্য, আমাদের দায়িত্ব রয়েছে ইইউ’র ভবিষ্যতের জন্য কাজ করার। ফলাফলের পর ব্রিটিশ মুদ্রা ফাউন্ড স্টালিংয়ের মতো ইইউ মুদ্রা ইউরোর পতন আমরা নিশ্চই দেখতে চাইব না।’

যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকবে কি না, তা নিয়ে গণভোটের ঘোষণা গত বছর দিয়েই দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসেছিলেন ৪৯ বছর বয়সী ক্যামেরন। ক্যামেরন গণভোটে ইইউতে থাকার পক্ষে অবস্থান নিলেও তার দলের অনেক নেতা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। ভোটে হেরে গিয়ে তিনি জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন।






মন্তব্য চালু নেই