মেইন ম্যেনু

জয়পুরহাটে জেলা পরিষদ প্রশাসকের বিরুদ্ধে এক বিধবা’র সংবাদ সম্মেলন

জয়পুরহাটে ৩৫বছর ধরে দখলে থাকা দোকান ঘরের ইজারা বাতিল করে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ এনে জেলা পরিষদ প্রশাসক এসএম সোলায়মান আলীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শহরের আমতলী এলাকার বাসিন্দা মৃত গিয়াস উদ্দিনের বিধাব স্ত্রী- আনোয়ারা বেওয়া। স্বামীর নামে শহরের শহীদ ডা.আবুল কাশেম ময়দানের পার্শ্ববতী তার জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন জেলা পরিষদের কাছ থেকে নেয়া দোকান ঘরের ইজারা বাতিল হওয়ায় এখন প্রতিবন্ধী এক সন্তান নিয়ে তাকে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে।

আজ সোমবার দুপুরে জয়পুরহাট প্রেসক্লাব ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ারা বেওয়া লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন।

তিনি অভিযোগে বলেন, তার স্বামী গিয়াস আহম্মেদ চাষ যোগ্য জমি বিক্রি করে সে টাকায় জয়পুরহাট শহরের প্রধান সড়কের শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানের গেটের পাশ ঘেঁসে জেলা পরিষদের গড়ে তোলা বিপনী বিতান-১ এর চার নম্বর দোকান ঘরটি তৎকালীন বগুড়া জেলা পরিষদ অফিস থেকে ইজারা নেন।

সে সময় তিনি রশিদ মুলে ইজারার ২২হাজার ৩১টাকা ৯৯পয়সা জমা দেন বগুড়া জেলা পরিষদ কার্যালয়ে। তখন থেকে তার স্বামী ওই দোকান ঘরটিতে ঘড়ির ব্যবসা করছিলেন। কিন্তু স্বামীর অসুস্থ্যতার কারণে ঘড়ির ব্যবসা বন্ধ করে ঘরটি ২০০৬ সালের দিকে হানিফ পরিবহনের(হানিফ এন্টারপ্রাইজ) কাছে ভাড়া দেন। এমনি অবস্থায় ২০০৯ সালের ১৭মার্চ তার স্বামী মারা গেলে সেই থেকে হানিফ পরিবহনের কাছে দেয়া ঘরটির ভাড়ার টাকায় কোন রকমে তার সংসার চলছিল।

আনোয়ারা বেওয়া অভিযোগ করেন,বিগত ৩৫ বছর ধরে ঘরটি ভোগ দখল করার পর সাবলীজ প্রদান করার অভিযোগ এনে জেলা পরিষদ থেকে গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারী দোকান ঘর বরাদ্দ বাতিলের জন্য তাঁকে চিঠি প্রেরণ করা হয়। অথচ জেলা পরিষদ মার্কেটের দোকান বরাদ্দ নিয়ে অধিকাংশ মালিকরা সাবলীজ দিয়ে ভাড়া আদায় করলেও প্রশাসক মহোদয় সেখানে নীরব রয়েছেন। এ অবস্থায় গত মার্চ মাসে স্বামীর নামে নেওয়া ওই ঘরের বরাদ্দ বাতিল করে ঘরটি শহরের আরাফাত নগরের মেসার্স মদিনা এন্টারপ্রাইজ প্রোঃ এনায়েতুল্লাহ আকন্দের নামে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

আনোয়ারা বেওয়া আরও অভিযোগ করেন যে, মদিনা এন্টারপ্রাইজের মালিক এনায়েতল্লাহ আকন্দ জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এসএম সোলায়মান আলীর শ্যালক।তিনি শ্যালকে ঘরটি পাইয়ে দেয়ার জন্যই কৌশলে তার ইজারা বাতিল করে তাকে জোর করে ওই দোকান ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

তবে এ সংবাদ সম্মেলনে আনা এ অভিযোগ সম্পূর্ন অস্বীকার করেছেন জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সোলায়মান আলী । তিনি জানান, ওই দোকান ঘর বরাদ্দের বিষয়ে কোন অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি করা হয়নি। নিয়ম মেনেই তার ইজারা বাতিল করা হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই