মেইন ম্যেনু

ঝড়ে গেল মেধাবি প্রাণ

মোঃ সেলিম রেজা : ছেলেটির নাম ললিত রায়।একবুক আশা ও সপ্ন মনের ভিতর নিয়ে এসেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। কিন্তু আশা পূরন হল না সপ্ন সত্যি হল না। তাকে হার মানতে হল সমাজের কাছে বাস্তবতার কাছে শিক্ষার কাছে সে এই পৃথিবকে ধিক্কার দিয়েছে যৃণা করে গেছে এই পৃথিবীর মানুষকে। যে সমাজ তাকে বাঁচতে দিল না যে মানুষগুলো তার র্দুবলতাকে নিয়ে তীলে তিলে ঠেকিয়ে দিয়েছিল মৃত্যুর দাড়প্রান্তে।

দরিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে ২০১২-২০১৩শিক্ষাবর্ষে বাংলা বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ললিতকে প্রথম প্রথম বেশ হাসিখুশি মুখেই দেখা গিয়েছিল।কিন্তু সে হাসি মলিত হতে বেশীদিন সময় লাগে নি।দারিদ্রতা তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। বাবা দিনমজুর বাবার কাছথেকে কতটা সাপোর্ট পাওয়া সম্ভব সেটা বুঝতে পেরেছিল সে।তার বড় ভাই নীললফামারি সরকারি কলেজ থেকে ইংলিশ বিষয়ে স্নাতোকত্তর কিন্তু ভাগ্যেজোটেনি চাকরি তাই তেমন সহযোগিতা করতে পারত না।ছোট ভাই দিনমজুরের কাজ করে কিছু টাকা পাঠাত ললিতকে।ছোটভাইকে পড়াশুনা না করায়ে তার দিনমজুরির টাকায় লেখাপড়ার খরচ চালানোটা ললিতের কাছে একজন মানষ হিসেবে কতটা যন্ত্রনা দায়ক ছিল সেটা বুঝতে পেরেছিল।কিন্তু এভাবেই আর কত দিন চলা যায়? সে টিশনির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল কিন্তু ভাগ্য টিউশনিও জুটে নি।দরিদ্রতা তাকে সব সময় হিনমন্য করে রাখতো ।

ক্লাসে খুবই নিরব থাকত।পৃথিবীতে এত মানুষ কিন্তু একজন ললিতোর দুঃখ বোঝার মতো কোনো মানুষ পাওয়া যেত না।অনেকেই তাকে নানা ভাবে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করত।তাকে সব মুখবুজে সহ্য করতে হত।কিন্তু সে আর কত সহ্য করবে পৃথিবী তার প্রতি বড়ই নির্মম।একদিকে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে লেখাপড়া চালানোর চিন্তা অপর দিকে ডিপার্টমেন্টের দীর্ঘ সেশন জট তাকে হতাশাগ্রস্ত করেছিল।সে পারি নি তার প্রতি সমাজের অবহেলাকে সহ্য করতে। হতাশাগ্রস্ত জীবন তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন করে তুলেছিল।বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে বাড়ীতে থাকতে হয়েছিল। সে সুস্থ হতে চেয়েছিল বাবা মায়ের আশা পূরন করতে চেয়েছিল কিন্তু দরিদ্র পিতা পুত্রের উন্নত চিকিৎসা নিতে পারে নি।সে দিনে দিনে নিজেকে অভিশপ্ত মনে করে ছিল।নিজেকে শেষ করেছে সে ,গ্রহন করেছে গ্যাস ট্যাবলেট।ফিরবে না ললিত আর হারিয়ে গেছে অনেক দূরে যেখান থেকে ফিরে আসা সম্ভব না।

ললতি চলে যাওয়ার পেছনে আমরা কি দায়ি না? সমাজ কি কম দায়ি?আমরা কেউ দায় এড়াতে পারব না।আমরা এতগুলো সহপাঠী, বড়ভাই, শিক্ষক কারও চোখে পড়ল না ললিত না পড়ার কথা না কারন সে অতি দরিদ্র তার ভাল পোষাক নেই সে ভাল হোটেলে খেতে পারে না।আমরা শুধু সুযোগ সন্ধানী আমরা সবসময় ভালোটা নিয়ে ব্যস্ত ওরকম ললিত হারিয়ে গেলে আমাদের কিচ্ছু হবে না।না কিছু হবে না তবে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে আমরা হারিয়ে ফেলছি একজন রবিন্দ্র, নজরুল কিংবা জগদীশ চন্দ্রকে।আমরা হারিয়ে ফেলছি মানবতাকে ,হারিয়ে ফেলছি বিবেক কে।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই