মেইন ম্যেনু

টানা ছয় ঘণ্টা রাজপথে খালেদা!

গত এপ্রিলে সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চষে বেড়িয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এরপর সোমবার প্রথমবারের মতো তিনি রাজধানীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে বেড়িয়েছেন এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তবে উপলক্ষ ছিল ভিন্ন।

প্রয়াত স্বামী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর‌্যন্ত টানা ছয় ঘণ্টা পথে পথে দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন তিনি।

কেন্দ্র ঘোষিত তিন দিনের কর্মসূচির প্রথম দিনে খালেদা জিয়া রাজধানীর প্রায় ১৮টি পয়েন্টে দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে গুলশানের বাসা থেকে বের হন খালেদা জিয়া। সাড়ে ১১টার দিকে তিনি শেরেবাংলা নগরে জিয়ার সমাধিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। পরে সেখানে ওলামা দলের আয়োজনে মিলাদ ও দোয়ায় অংশ নিয়ে বেরিয়ে পড়েন দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণের জন্য। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে সোয়া ১২টায় স্থানীয় এই কর্মসূচি শুরু হয়। সন্ধ্যার দিকে এই কর্মসূচির শেষ হয় বাংলামোটরে।

তবে জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নিলেও বাকি সময়জুড়ে তাদের কয়েকজনকে মাত্র দেখা গেছে। শীর্ষ নেতারা দমে গেলেও ক্লান্ত হননি সাবেক প্রধানমন্ত্রী। দুপুরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু করা খাবার বিতরণ কর্মসূচি শেষ হয় সন্ধ্যা ছয়টার দিকে। টানা ছয় ঘণ্টার মধ্যে বিকাল পাঁচটার পর অল্প সময় বিশ্রামে নেন তিনি।

১২টি পয়েন্টে খাবার বিতরণ শেষে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার‌্যালয়ে যান খালেদা জিয়া।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও ঢাকা মহানগরের এক থানা, কোথাও আবার একাধিক থানা ও ইউনিটের নেতারা বিভিন্ন স্থানে দিবসটি উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণের আয়োজন করেন। আর এ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নির্ধারিত সময়ের আগে থেকে মিছিল নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হন।পরে খালেদা জিয়া সেখানে পৌঁছে মানুষের হাতে খাবার তুলে দিয়ে নিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করে ছোটেন অন্য স্পটের উদ্দেশে।

এদিনের বিভিন্ন স্পটের পরিস্থিতি দেখে মনে হয়েছে ঢাকা যেন বিএনপির দখলে চলে গেছে! কারণ খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের সামনে-পেছনে প্রায় শতাধিক মটোরসাইকেল, বেশ কিছু প্রাইভেট কারে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতারা নেত্রীর সঙ্গে ছুটেছেন সমানতালে। যদিও এদের অনেকেই অন্য সময় প্রকাশ্যে খুন বেশি দেখা যায় না।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে এ সময় তার গাড়িতে ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান। অন্যান্য নেতার মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বিএনপির অর্থনৈতিক সম্পাদক আবদুস সালাম, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু,ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান,সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার প্রমুখ খালেদা জিয়ার কর্মসূচিতে অংশ নেন।

বেলা সাড়ে ১১টায় মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে খালেদা জিয়া একে একে খাবার বিতরণ করেন মোহাম্মদপুর টাউন হল,ধানমন্ডির সুগন্ধা কমিউনিটি সেন্টার, কলাবাগান, আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ, মৌলভীবাজার, হাইকোর্ট, কাপ্তান বাজার, জজকোর্ট, নয়াবাজার, বংশাল, বিজয়নগরে। বংশাল মোড়ে ছাত্রদলের আয়োজনে দুস্থদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন খালেদা জিয়া।

সেখান থেকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে খালেদা জিয়া কিছু সময়ের জন্য বিশ্রাম নেন। এরপর শান্তিনগর বাজার, শাহজাহানপুর, মতিঝিল কলোনি,পল্টন কমিউনিটি সেন্টার হয়ে বাংলামোটরে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করে এদিনের কর্মসূচি শেষ করেন তিনি।

এদিকে গোটা দিনে দেখা গেছে, খালেদা জিয়ার গাড়িবহর যেসব এলাকা প্রদক্ষিণ করেছে, সেসব এলাকার দোকানপাট, বাসাবাড়ি থেকে সাধারণ মানুষ উদগ্রিব হয়ে তাকে দেখার চেষ্টা করেছেন।

খাবার বিতরণ কর্মসূচির সময় নেতাকর্মীদের ভিড়ের কারণে কিছু কিছু এলাকায় যানজটেরও সৃষ্টি হয়। তবে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে নির্বিঘ্নে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে ট্রাফিক পুলিশকে তৎপর দেখা গেছে।

মঙ্গলবার ও বুধবার একই কর্মসূচি ঢাকার অন্য এলাকায় করার কথা রয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই