মেইন ম্যেনু

টানা বৃষ্টিতে রাজধানী জুড়ে অস্বস্তি

প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করা নগরবাসী দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি কামনা করছিলেন। তবে গত কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি স্বস্তির বদলে ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে রাজধানী বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা স্বাভাবিক জীবনযাপনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও, মৌচাক, শান্তিনগর, বেইলী রোড, কাকরাইল ও পল্টনসহ বিভিন্ন এলাকায় লোকজনের নানা ভোগান্তি চোখে পড়ছে।

বৃষ্টির পানি জমার কারণে কোনো কোনো এলাকায় হাটুসমান পানি জমেছে। রাস্তার গর্ত বা ঢাকনাছাড়া ম্যানহোলগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।বড় গাড়ি থেকে শুরু করে রিকশা, ভ্যান ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

রোববার রাজধানীর মালিবাগের আবুল হোটেলের সামনে দিয়ে খিলগাঁওয়ের দিকে যাচ্ছিল লাল রংয়ের একটি প্রাইভেট কার। কিছুদূর যাওয়ার পর গর্তে গাড়িটির সামনের চাকা আটকে যায়।এ সময় গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা চালক কাজী শরীফ বলেন, ‘একটি গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে গর্তে পড়ে গেছি। এখন চেষ্টা করেও গাড়ি ওঠাতে পারছি না। অন্য গাড়ির সাহায্য নেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছি।’

আবুল হোটেল থেকে সামনে মালিবাগ রেলগেটের দিকে যেতে জায়গায় জায়গায় আরো অনেক গর্ত চোখে পড়ে। এর ওপর কয়েক বছর ধরে চলমান মালিবাগ ও মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় এ রাস্তার অবস্থা আরো বেহাল।

মালিবাগ রেলগেটের কাছে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করেন শামসুল ইসলাম। তিনি ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘শুকনো মৌসুমে ধুলা আর বর্ষা এলেই রাস্তায় পানি জমে খুবই বাজে অবস্থার সৃষ্টি হয়। কিছুদিন আগে রাস্তা ঠিক করা হলেও এ বর্ষায় তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আরিফ মৌচাক থেকে শান্তিনগরের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন। রাস্তার এই করুণ দশার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সড়কে কেউ যদি জলের ঢেউ দেখতে চান, তাহলে এখানে আসলেই চলবে। যানজটে অনেক সময় গাড়ি থেকে নেমে যাই। হেঁটে যাবার উপায়ও নেই। সম্পূর্ণ রাস্তা কাদাপানিতে ভরা। গাড়ি একটু জোরে চললে কাদাপানি ছিটকে এসে গায়ে লাগে।

বর্ষায় মাঝেমাঝেই শান্তিনগর মোড়ে এক অদ্ভুত ব্যবসা চোখে পড়ে। শান্তিনগর মোড়ে হাটুপানি পার হতে রিকশায় মাথাপিছু পাঁচ টাকা আদায় করতে দেখা গেছে।

এ ছাড়া মালিবাগ রেলগেট থেকে মৌচাক ও শান্তিনগর এলাকায় বর্তমানে মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভারের পিলার তৈরির কাজ চলছে। রাস্তায় পড়ে থাকা মাটির স্তূপ বর্ষার পানিতে ধুয়ে পুরো কর্দমাক্ত হয়ে রাস্তা। বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। পানি থাকায় পথচারী ও চালকরা বুঝতে পারছেন না, কোথায় গর্ত আর গর্তের গভীরতা কতটুকু। ফলে স্কুল ও কর্মস্থলগামী মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।

রিকশাচালক শাহাজাহান মিয়া বলেন, ‘একবার যদি এ রাস্তা দিয়ে যাত্রী নিয়ে পার হই, তাহলে রিকশার যেমন ক্ষতি হয় তেমনি সারা শরীরে ব্যথা হয়ে যায়। জায়গায় জায়গায় গর্ত, রিকশা টানতে বড় কষ্ট হয়। যাত্রীরাও ভয়ে উঠতে চান না। লোড গাড়ি নিয়ে এ রাস্তায় চালানো যায় না। গাড়ির অনেক ক্ষতি হয়। প্রায়ই গাড়ির স্ক্রু ছুটে যায়। যা কামাই করি তার অনেকটাই গাড়ি মেরামত করতে চলে যায়।’






মন্তব্য চালু নেই