মেইন ম্যেনু

টানা ২মাস কেবল পানি খেয়ে বেঁচে আছেন যিনি!

পানির অপর নাম জীবন— এ কথার সত্যতা বাদানি দেবির মত আর কে বুঝেছে বলুন। ৮২ বছরের এই বৃদ্ধা গত দু’ মাস ধরে বেঁচে আছেন কেবল পানি খেয়ে। প্রতিদিন তিনি সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের সময় কয়েক চামচে তুলে পানি খান। সারাদিনে এটিই তার খাবার।

বাদানি দেবী ভারতের রাজস্থান প্রদেশের বাসিন্দা। জয়পুর শহর থেকে প্রায় সাড়ে তিনশ’ কিলোমিটা দূরের বিকানের এলাকায় তার বাড়ি। তিন ছেলেমেয়ে আর নাতি নাতনিদের নিয়ে তার পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য গ্রহণ না করার ফলে তিনি বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছেন। কথা বলতেও তার কষ্ট হয়। পানি খাওয়ার সময় তিনি কেবল আঙুলটি তোলেন। তখন আপনজনেরা তার মুখে কয়েক চামচ পানি তুলে দেন। তেষ্টা মিটে গেলে তিনি ফের হাত তোলেন।

কোনো অসুস্থতার কারণে বাদানি দেবী খেতে পারছেন না এমন নয়। তিনি জৈন ধর্মের অনুসারী এবং ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করতে গিয়েই তার এ দশা। প্রাচীন জৈন ধর্মে স্বেচ্ছামৃত্যু বা ‘সান্থারা’ প্রথা’ রয়েছে, যাকে তারা বলে— মোক্ষলাভ। এ ধর্মীয় ঐতিহ্য মেনে নিয়েই স্বেচ্ছায় সকল প্রকার খাদ্য বর্জন করেছেন ৮২ বছরের এ বৃদ্ধা।

গত মাসে জৈনদের এই স্বেচ্ছামৃত্যুবরণের ঐতিহ্যকে বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন রাজস্থানের এক আদালত। এরপরই বাদানি দেবীর এই অনাহারে থাকার কাহিনী সামনে আসে। তবে আদালতের এই রায়ের সমালোচনা করে ভারতের মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এর মাধ্যমে আত্মহত্যাকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

ভারতে প্রতিবছরই কিছু জৈন নারী-পুরুষ খাদ্য ও পানীয় ত্যাগ করে স্বেচ্ছামৃত্যুর প্রচেষ্টা চালান। শত বছর ধরেই তাদের এ ঐতিহ্যটি চলে আসছে। যদিও বর্তমানে এই প্রথা অনেকটাই বিরল হয়ে গিয়েছে।

বাদানি দেবীও স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য গত জুলাই মাস থেকে খাদ্য বর্জন করেছেন। তার এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য তার সন্তানরা অনেক চেষ্টা করেছেন। এ সম্পর্কে তার পুত্র কিরণ দাগা স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি’কে বলেছেন,‘আমার মায়ের আত্মা খুবই পবিত্র এবং তিনি অত্যন্ত ধার্মিক। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই তিনি পার্থিব কাজকর্ম থেকে ধীরে ধীরে সরে গিয়ে নিজেকে আধ্যাত্মিক সাধনায় সংযুক্ত করেছেন।’

গত সপ্তাহে জয়পুরসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার জৈন ধর্মাবলম্বী স্বেচ্ছামৃত্যু বা ‘সান্তাহারা’ প্রথাটি নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। যার প্রেক্ষিতে তাদের এ ঐতিহ্যকে বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ের পরপরই বাদানি দেবির খাদ্য বর্জনের খবর প্রকাশিত হয়। এর আগে তার ছেলেমেয়েদের ভয় ছিল, মায়ের এই স্বেচ্ছামৃত্যুর প্রচেষ্টা প্রকাশিত হলে তারা আইন অমান্য করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হতে পারেন। জুলাই মাসে একবার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়ায় প্রথমবারের মত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছিলেন বাদানি দেবী। তবে এরপর থেকেই তিনি খাদ্য বর্জন করেছেন।

কিন্তু ওই জৈন প্রথাটিকে আদালতকর্তৃক স্বীকৃত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ ভারতের মানবাধিকার কর্মীরা। সান্তাহারা প্রথাটি পুনরায় নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে নিখিল সোনি নামের এক কর্মী বলেন, ‘আদালতের এ রায় ত্রুটিপূর্ণ। এটিকে বৈধ ঘোষণা করার ফলে জৈন সম্পদায়ের বয়স্ক সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যেসব পরিবার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখভাল করতে চান না, তারা এ রায়ের সুযোগ নেবেন।’

তবে বাদানি দেবীর সন্তানরা বলছেন, তাদের মনে এ ধরনের কোনো পাপ নেই। তারা তাদের মাকে খুবই ভালবাসেন। তাদের মা একজন একনিষ্ঠ জৈন হিসেবে সান্তাহার প্রথাটি পালন করছেন। মোয়ের এ সিদ্ধান্তকে তারা সম্মান করেন।






মন্তব্য চালু নেই