মেইন ম্যেনু

টিউবওয়েল থেকে বেরোচ্ছে গরম পানি!

আশ্চর্য হলেও সত্যি। এক দিন বা দুই দিন নয়, প্রায় ৫০ বছর ধরে টিউবওয়েল চাপলেই বেরোচ্ছে গরম পানি। এই গরম পানি থেকে রক্ষা পেতে অনেকেই একটার জায়গায় বসিয়েছেন একাধিক টিউবওয়েল। তবু শেষ রক্ষা হচ্ছে না। কিছুক্ষণ চাপলেই বেরোচ্ছে গরম পানি। এ ঘটনা ঘটছে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার ধলা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে।

শুক্রবার সরেজমিনে জেলার তাড়াইল উপজেলার ধলা ইউনিয়নের কাওয়াখালী, ভেইয়ারকোনা, সিকদারপাড়া, নয়াপাড়া ও আজবপুর গ্রাম ঘুরে অন্তত ১০টি টিউবওয়েলের পানি দেখে এর সত্যতা পাওয়া যায়।

কাওয়াখালী বাজারের পাশে যেতেই একটি চায়ের দোকানের সামনে ১০-১৫ জন লোককে বসে থাকতে দেখা গেল। এর মধ্যে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সবুজ মিয়াও রয়েছেন। টিউবওয়েল থেকে গরম পানি বের হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সবাই একযোগে বলেন, একটি বা দুটি নয়, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ৫০টির বেশি টিউবওয়েল থেকে দীর্ঘদিন ধরে গরম পানি আসছে। এ থেকে রেহাই পেতে অনেকের বাড়িতে একটির পরিবর্তে তিনটি পর্যন্ত টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। তবু পানির কোনো পরিবর্তন নেই।

কত দিন থেকে গরম পানি আসছে—জানতে চাইলে মো. সংগ্রাম মিয়া নামের একজন বলেন, ‘আমি ১৯৭১ সালে সংগ্রামের সময় হয়েছিলাম বলে মা-বাবা নাম রেখেছে সংগ্রাম।’ তিনি আঙুল তুলে বাজারের মসজিদের পাশের টিউবওয়েলটি দেখিয়ে বলেন, ‘যখন থেকে বুঝতে শিখি, তখন থেকে ওই টিউবওয়েলে গরম পানি বের হতে দেখছি। বছর দশেক আগে ঠান্ডা পানির আশায় টিউবওয়েলটিকে মসজিদের দক্ষিণ পাশ থেকে উত্তর পাশে নিয়ে নতুন করে বসানো হয়। কিন্তু পানির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ইউপি সদস্য সবুজ মিয়া বলেন, এই টিউবওয়েলগুলো চাপলে প্রথম এক-দুই মিনিট পানি হাতে ছোঁয়া যায়। এরপরই ফুটন্ত গরম পানির মতো পানি বের হতে থাকে। হাতে বা শরীরে লাগালে অনেক সময় ফোসকা পড়ে যায়।

একই এলাকার ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মো. আরফন আলী বাড়িতে ডেকে নিয়ে একটি পুরোনো টিউবওয়েল চেপে গরম পানি বের করে দেখান। বলেন, এটি প্রায় ৫০ বছর আগে তাঁর বাবা এখানে বসিয়েছিলেন। তখন থেকেই এই টিউবওয়েল দিয়ে গরম পানি বেরোচ্ছে। এর প্রায় ১৫ গজ দূরের আরেকটি নতুন টিউবওয়েল দেখিয়ে বলেন, গত বছর এই টিউবওয়েলটি বসানো হয়েছে। এটা থেকেও গরম পানি আসে।

পাশের সিকদারপাড়া গ্রামে গিয়েও একই অবস্থা পাওয়া গেল। ওই গ্রামের সৈয়দ বানু (৬০) ও মনোয়ারা বেগম (৫০) বলেন, গরম পানি থেকে রক্ষা পেতে তাঁদের বাড়িতে পাশাপাশি পরপর তিনটি টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। কিন্তু সব কটি থেকেই কিছুক্ষণ চাপার পর গরম পানি বের হতে থাকে।

কাওয়াখালী বাজারের স্বর্ণকার নন্দন দেবনাথ জানালেন, এ পানি সোনা বা রুপায় ব্যবহার করলে রং নষ্ট হয়ে কালচে হয়ে যায়।

কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এই পানি অন্য এলাকার পানির মতো খেতে স্বাদ লাগে না। সাবানের পানির মতো পানি অনেকটা পিচ্ছিল এবং গন্ধটাও অন্য রকম। এখানকার মাটির নিচে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। তবে এ পানি দূষিত কি না, স্থানীয় বাসিন্দারা তা জানেন না। এমনকি জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও কেউ যাননি বা পরীক্ষা করেননি।

কিশোরগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তোজাম্মেল হক বলেন, টিউবওয়েল থেকে গরম পানি বের হলে ওই জায়গায় মাটির নিচে গ্যাস থাকতে পারে। গ্যাসের পানিটা কিছুক্ষণ রাখলে ঠান্ডা হয়ে গ্যাস বেরিয়ে যায়, তখন তেমন একটা স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে না। তবে পানিতে যদি গন্ধ থাকে বা পিচ্ছিল হয়, তাহলে অন্য কোনো খনিজ পদার্থ থাকতে পারে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে, বিশেষ করে শিশুদের। তবে পানি পরীক্ষা করার পর এর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। খোঁজ নিয়ে দ্রুত পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আ ন ম নৌশাদ খান বলেন, টিউবওয়েল থেকে যদি দীর্ঘদিন ফুটন্ত পানির মতো গরম পানি বের হয় এবং সেটা যদি স্বাভাবিক পানির মতো স্বাদ বা গন্ধ না হয়; তাহলে অবশ্যই সেটা পরীক্ষা করে ব্যবহার করা উচিত; না–হয় স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকতে পারে।






মন্তব্য চালু নেই