মেইন ম্যেনু

‘টিকফা বৈঠকের পর জিএসপি ফেরত’

বাণিজ্য ও বিনিয়োাগ সহযোগিতা কাঠামো (টিকফা) বৈঠকের পর বাংলাদেশ জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রিফারেন্সেস (জিএসপি) সুবিধা ফেরত পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

এর পাশাপাশি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাট মনে করেন, টিকফা বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ তার হারানো জিএসপি ফেরত পেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আগামী ২৩ নভেম্বর টিকফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের একথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল দেখা করে। ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

এসময় বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত সচিব (মহাপরিচালক, ডব্লিউটিও সেল) অমিতাভ চক্রবর্তী, অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) জহিরউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে মূলত টিকফা ও জিএসপি ফেরত পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানানো হয়।

আগামী ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পররাষ্ট্র এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিবসহ মোট পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল টিকফা বৈঠকে অংশগ্রহণ করবে বলে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকেদের অবহিত করেন।

বানিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাস্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েই চরছে। চলতি অর্থ বছরের গত চার মাসের রপ্তানি বৃদ্ধি হয়েছে ১৭ ভাগ। গত ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করেছে ৫৭৮৩ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলার, একই সময়ে আমদানি করেছে ৭৬১ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য। অর্থাৎ বাংলাদেশ ৫০২২ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ডলার বেশি মূল্যের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, টিকফা বৈঠকে কি কি বিষয় উত্থাপন করা যায় সে বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে এরই মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, টিকফা বৈঠকে শুরুতেই জিএসপি সুবিধা ফেরত পাওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। আমি মনে করি টিকফা বৈঠকের মাধ্যমে জিএসপির ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হবে। এছাড়া টিকফা বৈঠকে ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) নিয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশ যাতে টিপিপির অন্তর্ভুক্ত হয় সে বিষয়ে আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের শিল্প কারখানাগুলো আন্তর্জাতিক মানের ও নিরাপদ। শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে কারখানার শ্রমিক কর্মচারিদের অধিকার, কাজের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক খুবই ভালো। কাজের পরিবেশও চমৎকার। ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ অনেক রাষ্ট্রদূত ইতোমধ্যে বিভিন্ন তৈরী পোশাক কারখানা পরিদর্শন করেছেন। তারা সবাই কারখানার নিরাপদ পরিবেশ, শ্রমিকদের অধিকার ও সার্বিক ব্যাবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জিএসপি ফিরে পেতে আর কোন বাধা থাকার কারণ নেই।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, তাদের সমর্থনের জন্যই আমরা মেধাস্বত্ব ছাড় সুবিধা পেয়েছি। তাদের সমর্থন না পেলে এটা পাওয়া সম্ভব হতো না। আর দশম ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন (ডব্লিউটিও) সম্মেলনে রুলস অব অরিজিন শিথিল করা বিষয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি সার্ভিস ওয়েভার পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হবে। আশা করি দুটি সুবিধাই আমরা পাব।

তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে। আগের চেয়ে রপ্তানি ১৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে এ দুই দেশের মধ্যে কীভাবে বাণিজ্য বাড়ানো যায় সে বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাট বলেন, আমি বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের জিএসপি প্রত্যাহার করা হয়নি। শ্রমিকদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা না থাকার কারণে এটা বাতিল হয়েছে। এ সুবিধা কি ভাবে ফিরে পাওয়া যায় সে বিষয়ে টিকফা বৈঠকে আলোচনা হবে। আমি মনে করি বাংলাদেশ টিকফা বৈঠকের মাধ্যমে হারানো জিএসপি ফেরত পাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে।

তিনি বলেন, রানা প্লাজা ধসের ঘটনার আগেও গার্মেন্টস সেক্টরে শ্রমিকদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। এসব বিষয় আন্তর্জাতিক মানে মানোন্নয়ন করার জন্য আমরা বলে আসছিলাম। ইতোমধ্যে এসব সমস্যার অনেকটাই সমাধান করা হয়েছে। বর্তমানের এসব অভিযোগ কমে গেছে। তাই আমি মনে করি সব কিছু বিবেচনায় বাংলাদেশ জিএসপি ফিরে পেতে পারে। এ সুবিধা ফিরে পাওয়ার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।

বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ভালো বন্ধু। দুই দেশের বাণিজ্যিক উন্নয়নে বাংলাদেশকে সার্বিক সহায়তা দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ শতাংশ। আগামীতে এটা আরও বাড়বে। তবে দুই দেশের মধ্যে কিভাবে বাণিজ্য বাড়ানো যায় সে বিষয়ে আলোচনা হবে।






মন্তব্য চালু নেই