মেইন ম্যেনু

টিকিট যেন সোনার হরিণ!

টিকিট যেন সোনার হরিণ। টিকিট পাওয়া যেন যুদ্ধ ক্ষেত্র। কোথাও বিন্দু মাত্র ঢাই নেই। তার পরেও টিকিট বিক্রি করতে না করতে শেষ হয়ে যাচ্ছে। কোথাও মিলছে না টিকিট। সর্বত্র টিকিটের জন্য হাহাকার। বাস ও ট্রেন সব স্থানেই একই অবস্থা।

ফলে ঈদে ঘরেমুখো মানুষ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার জন্য টিকিটের জন্য যেন যুদ্ধে নেমেছেন। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের পর কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করার আগেই ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ।

অভিযোগ রয়েছে, টিকিট বিক্রির আগেই তা উধাও হয়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত দিনে টিকিটের জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তার পরেও বিক্রি শুরুর কিছুক্ষণ পরই কাউন্টার থেকে বলা হচ্ছে, টিকিট শেষ হয়ে গেছে। এতে করে বিষয়টি নিয়ে রেল যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

এদিকে, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। ওইদিন বিক্রি হয় ২৭ সেপ্টেম্বরের টিকিট। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিক্রি হয় ২৮ সেপ্টেম্বরের টিকিট, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিক্রি হয় ২৯ সেপ্টেম্বরের টিকিট। আর শনিবার ৩০ সেপ্টেম্বরের টিকিট দেওয়া হয়। এ ছাড়া গত রোববার বিক্রি হয় ১ অক্টোবরের ফিরতি ট্রেনের আগাম টিকিট।

ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মচারী রাসেদুজ্জামান বলেন, টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাউন্টার থেকেই টিকিট কেটে রাখছেন রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মচারী। এসি কিংবা নন এসি টিকিটের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে আগেই। এর মধ্যে থেকে কিছু টিকিট কালোবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। কিছু দেওয়া হচ্ছে বেশি দামে তদবিরকারী টিকিট প্রত্যাশীদের। ফলে কাউন্টারে বিক্রি শুরুর পর পরই টিকিট শেষ হয়ে যাচ্ছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলের নবনিযুক্ত সুপারিনটেন্ডেট আমজাদ হোসেন বলেন, তিনি কালোবাজারির বিষয়টি নাকচ করে দেন এমন তথ্য তার জানা নেই। ঈদের টিকিট কালোবাজারি ও অসাধু চক্র ঠেকাতে তাদের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। কেউ কালোবাজারির চেষ্টা করলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হবে। রেলের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের মধ্যে কেউ এ ধরনের অপতৎপরতার সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অপরদিকে বাসের টিকিটেরও বেহাল দশা। ফিরতি টিকিট ২ অক্টোবর পর্যন্ত শেষ হয়ে গেছে। ফলে যেসব ব্যক্তি অগ্রিম টিকিট কাটেন নি তারা বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েছেন। কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে তারা সমস্যায় রয়েছেন। বিকল্প কোনো পথ তারা খুঁজে পাচ্ছেন না।

যাত্রী জাহিদ হাসান জানান, আমাকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। কিন্তু কোনো কাউন্টার থেকেই টিকিট পাচ্ছি না। সব কাউন্টার থেকেই বলা হচ্ছে, ২ অক্টোবর পর্যন্ত টিকিট পাওয়া যাবে না। ফলে কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে সমস্যার মধ্যে আছি। দেখি কিভাবে যাওয়া যায়। নাহলে বাদুর ঝোলা ঝুলে যেতে হবে।

শ্যামলী পরিবহনের রাজশাহী কাউন্টারের ম্যানেজার কবীর হোসেন জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ঈদের পূর্ব দিন পর্যন্ত বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী কোন টিকিট নেই।

তিনি আরো বলেন, আগামী ২ অক্টোবর পর্যন্ত টিকিট পাওয়া যাবে না। শ্যামলী পরিবহনের বর্তমানে ভাড়া রাজশাহী থেকে ঢাকা ৫০০ টাকা, রাজশাহী থেকে সিলেট ৮০০ টাকা, রাজশাহী থেকে চট্রগ্রাম ৮০০ টাকা, রাজশাহী থেকে কাপ্তাই ৯০০ টাকা এবং রাজশাহী থেকে কক্সবাজার ১১০০ টাকা।

ফলে আগামী ২ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীমুখী প্রায় সব কোচের টিকিট ফুরিয়ে গেছে। এখানে তাদের করার কিছু নেই। তবে ৩ অক্টোবর থেকে চাপ কমবে বলে জানান তিনি।

বর্তমানে হানিফ এন্টার প্রাইজের ননএসি রাজশাহী থেকে ঢাকা ৫০০ টাকা, রাজশাহী থেকে চট্রগ্রাম ১২৫০ টাকা এবং রাজশাহী থেকে ঢাকা এসি ১৫০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।






মন্তব্য চালু নেই