মেইন ম্যেনু

টিভিতে ভুল উত্তর, ফের পরীক্ষা দিয়েও তারাই সেরা

এসএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়া ১৩ শিক্ষার্থীর টিভি ইন্টারভিউ নিয়ে সারাদেশেই চলছে তোলপাড়। শিক্ষার্থীদের ভুলভাল উত্তরে শিক্ষার মান নিয়ে উঠছে। একই সঙ্গে ওভাবে হুট করে ক্যামেরার সামনে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করে শিক্ষার মান মূল্যায়ন করায় সাংবাদিকতার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

একই ঘটনা ঘটেছে ভারতের বিহারে। সেখানে উচ্চমাধ্যমিকে শীর্ষস্থান অধিকারীরাও টিভি ক্যামেরার সামনে অনেক সহজ প্রশ্নের হাস্যকর উত্তর দিয়েছেন। এই ঘটনাও ভারতে আলোচিত হয়েছে। ওই ১৪ শিক্ষার্থীর আবার পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা নিতে গিয়ে ঘটলো আরো অদ্ভূত ঘটনা।

বিহারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে শীর্ষ স্থানাধিকারী সৌরভ শ্রেষ্ঠ পরীক্ষা দিতে এসে রীতিমতো হুমকি দিয়ে বলেন, ‘বেশি প্রশ্ন করবেন না, তা হলে এখানেই আত্মহত্যা করবো’। তার এমন কথায় রীতিমতো ঘাবড়ে যান পরীক্ষকেরা। বেশি কিছু প্রশ্ন না করেই তাকে বাইরে পাঠিয়ে দেন তারা। তবে এদিন পরীক্ষা দিতে আসেননি কলা বিভাগের প্রথম স্থানাধিকারী রুবি রাই।

১৫ জনের একটি বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষা নেয়ার জন্য উপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষায় অবজেক্টিভ ও সাবজেক্টিভ দু’ধরনেরই প্রশ্ন ছিল। লেখা পরীক্ষার পর এক এক করে পরীক্ষার্থীদের ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হয়। সৌরভও হাজির হন। হলে ঢুকেই পরীক্ষকদের বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে মানসিক দিক থেকে খুব চাপে রয়েছেন। উত্তর দেয়ার অবস্থায় নেই।এরপরেই পরীক্ষকদের চমকে দিয়ে বলেন, ‘এমন কিছু প্রশ্ন করবেন না যাতে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হই।’

তার এই কথা শুনেই পরীক্ষকেরা ঘাবড়ে যান। তাকে জল খাইয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন।

১৫ জনের বিশেষজ্ঞ পরীক্ষকদের মধ্যে ১২ জন ছিলেন সাবজেক্ট এক্সপার্ট এবং তিনজন ছিলেন হ্যান্ডরাইটিং এক্সপার্ট। পরীক্ষা শেষে বিশেষজ্ঞ দল জানিয়েছে, বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীই সঠিক উত্তর দিয়েছে। তাদের মতামতের পর উচ্চমাধ্যমিক বোর্ডের অধ্যক্ষ লালকেশ্বর প্রসাদ সিংহ বলেছেন, ‘ভালো লেখক ভালো বক্তা হতে পারেন না।’

শীর্ষ স্থানাধিকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি আরো বলেন, ‘টিভি চ্যানেলের ক্যামেরা দেখে নার্ভাস হয়ে গিয়ে ছেলেমেয়েরা ভুল বলে ফেলেছে।’

রুবি রাই তা হলে কেন পরীক্ষা দিতে এলেন না? এই প্রশ্ন করাতে লালকেশ্বরবাবু বলেন, ‘শরীর খারাপের জন্য সে পরীক্ষা দিতে পারেনি।’

উচ্চমাধ্যমিকের ফল বেরনোর পর এক টিভি সাংবাদিক কলা বিভাগের প্রথম স্থানাধিকারী রুবি রাইকে প্রশ্ন করেন, ‘পলিটিক্যাল সায়েন্স কী?’ জবাবে রুবি বলে, ‘এটি একটি রান্না শেখানোর বিষয়।’ পলিটিক্যাল সায়েন্সকে তিনি উচ্চারণ করেন প্রডিক্যাল সায়েন্স। অন্যদিকে, বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম স্থানাধিকারী সৌরভ শ্রেষ্ঠকে বিজ্ঞান সংক্রান্ত সাধারণ মানের প্রশ্নেরও হাস্যকর উত্তর দেন।

আর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পিথাগোরাস, নিউটনের সূত্র ইত্যাদি বিষয় নিয়ে হাস্যকর উত্তর দিয়েছিল। ভারতের ওই টিভি সাংবাদিকের মতোই মাছরাঙা টিভির ওই সাংবাদিক রিপোর্টটি করে থাকেন তাহলে এটাই বলতে হয়, শিক্ষার্থীরা টিভি ক্যামেরার সামনে ঘাবড়ে গিয়েছিল। ক্যামেরায় ভুল উত্তর দিয়েছিল বলেই তারা খারাপ ছাত্র নয়।






মন্তব্য চালু নেই