মেইন ম্যেনু

টেকনাফে ভারীবর্ষণে বসত-বাড়ি মৎস্যঘের ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত : যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্থ

সীমান্ত জনপদ টেকনাফে গত কয়েকদিনের টানা ভারীবর্ষণে জন-জীবন ব্যাহত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ী ঢল ও বৃষ্টির পানির প্লাবনে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার বসত-বাড়ি, সড়ক, মৎস্যঘের ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডুবে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্থ হয়ে উঠেছে। জেলা ও স্থানীয় প্রশাসন জানমাল ও সম্পদ রক্ষায় জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য সর্তকতা জারী করেছে। অবিলম্বে সরকারী উদ্যোগে পদক্ষেপ না নিলে রোগ-ব্যাধির সংক্রামনসহ পরিস্থিতি মারাতœক আকার ধারন করতে পারে।

সরেজমিনে উপজেলার উপজেলার উপকূলের বেড়িবাঁধ বিধ্বস্থ শাহপরীরদ্বীপ ও সাবরাং ইউনিয়নের মানবিক বিপর্যয়ে করুণ দশার সৃষ্টি হয়েছে। লোকজন কোন প্রকারে প্রতিবেশী গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান জানান-প্রবল ঝড়ো বাতাসে ৭/৮ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং জোয়ারের পানিতে ঘোলার পাড়া, জালিয়াপাড়া, মাঝের পাড়ার প্রায় ২শতাধিক বসত-বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ জনসাধারণ পাশ্ববর্তী উঁচু গ্রামে আশ্রয় নিয়ে রাত যাপন করছে।

এখানে বলতে গেলে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। টেকনাফ পৌর এলাকার কলেজ পাড়া, জালিয়াপাড়ায় পানিতে প্রাইমারী স্কুল ও রাস্তা-ঘাট ডুবে গেছে। অলিয়াবাদের ফকিরার মোরায় পাহাড়ী ঢল ও জোয়ারের পানিতে কাঁচা ঘর-বাড়ির ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বৃহত্তর নাইট্যংপাড়ায় পাহাড়ী ঢলে কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ এবং স্থানীয় গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় জনসাধারণের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়রের নিকট জানতে চাইলে মুঠোফোন রিসিভ না হওয়ায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে সদর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড ডেইলপাড়ায় খলিলুর রহমানের পুত্র ইউছুপ জালাল বাহাদুর সরকারী কালভার্ট ও ড্রেন বন্ধ করে দেওয়াল নির্মাণ করায় ২শতাধিক পরিবারের পুরো গ্রাম পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে বলে ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।

এছাড়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব গোদারবিল,হাবিরছড়া,মিঠাপানির ছড়ায় প্রবল ঝড়ো হাওয়া এবং পাহাড়ীঢলে গ্রামীণ জনপদের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। অপরদিকে হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম নয়াপাড়া,রঙ্গিখালী লামারপাড়া,উলুচামরী কোনারপাড়া, চৌধুরীপাড়া, নাটমোরাপাড়া, জালিয়াপাড়া, ফুলের ডেইল, সুলিশ পাড়া, হোয়াব্রাং, পশ্চিম সিকদারপাড়া,পূর্ব পানখালী, আলী আকবর পাড়া, মৌলভী বাজার, লামারপাড়ায় ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে বসত-বাড়ি, মৎস্যঘের এবং রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গেছে।

হ্নীলা ইউপি সচিব হাকিম উদ্দিন পাহাড়ী জানান, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে অত্র ইউনিয়নের নিম্মাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট, মৎস্যঘের ও বসত-বাড়ি প্লাবিত হয়েছে এবং ভূমি ধ্বসে প্রাণহানি এড়াতে ব্যাপক প্রচারনা চালিয়ে জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাংখালী, নয়াবাজার, রইক্ষ্যং ও উলুবনিয়া এলাকায় পাহাড়ী ঢল ও জোয়ারের পানিতে ৮০/৯০ ভাগ মৎস্যঘের ভেসে এবং কিছুটা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী জানান। উপকূলীয় বাহারছড়ায় ৫নং হলবনিয়া গ্রামে সকালে প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় একটি বড় শিশু গাছ মাদ্রাসায় পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

এছাড়া পরিকল্পিত নালা না থাকায় পাহাড়ী ঢলে ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে খালের সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান মৌঃ হাবিব উল্লাহ জানান-এখানে তেমন ক্ষতি না হলেও প্রচারনা চালিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। ৬নং সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ৯নং দক্ষিণ পাড়ায় টর্ণেডোর আঘাতে ১০টি বাড়ির মধ্যে ৫বাড়ি নিশ্চিহ্ন এবং অপর ৫টি বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে সেন্টমার্টিনের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান জানান।

এছাড়া হ্নীলা রঙ্গিখালী মঈন উদ্দিন মেমোরিয়াল সংলগ্ন প্রধান সড়ক ডুবে যাওয়া, পূর্ব পানখালীর কালভার্ট ভেঙ্গে যাওয়া এবং হোয়াব্রাংয়ের কালভার্ট ধ্বসে যাওয়ায় যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে ধারনা করা হচ্ছে পুরো উপজেলায় কোটি কোটি টাকার গ্রামীণ জনপদ, ব্রীজ-কালভার্ট, মৎস্যঘের ,বসত-বাড়ির ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

এদিকে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোজাহিদ উদ্দিন জেলা প্রশাসক আলী হোসেনের নির্দেশে এক ক্ষুদে বার্তায় পুরো উপজেলায় মাইকিং করে ভূমি ধ্বস ও ভারী বৃষ্টিপাত হতে জানমাল রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। এই ধরনের দূর্যোগপূর্ণ পরিবেশ অব্যাহত থাকায় জনসাধারণের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।






মন্তব্য চালু নেই