মেইন ম্যেনু

টেকনাফে ৪টি ইউনিয়নে প্রতীক বরাদ্ধ শেষ: প্রচারনা শুরু

ফয়েজুল ইসলাম রানা, টেকনাফ: টেকনাফ উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে প্রতীক বরাদ্বের নির্ধারিত দিনে উৎসব ও আমেজে তৃণমূলের নির্বাচন জমে উঠেছে। ৩ মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ৪টি ইউনিয়নের ২৮জন চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের সদস্য প্রার্থী কর্মী সমর্থক নিয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসে জড়ো হতে থাকে। প্রত্যাশিত প্রতীক পাওয়ার সাথে সাথেই কর্মী সমর্থকরা প্রতীক নিয়ে শুরু করে আনন্দ মিছিল। শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে নির্বাচনী এলাকা। অনেকেই গাড়ীর বহর নিয়ে নির্বাচনি এলাকায় ছুটতে থাকে। উপজেলার গোটা এলাকা প্রার্থীদের মাইকিং পোস্টারিং ও প্রচার-প্রচারণায় উৎসবে পরিণত হয়েছে। আগামী ২২ মার্চ ৬টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত থাকায় প্রতীক বরাদ্ধ বন্ধ রয়েছে। ফলে উপজেলার সেন্টমার্টিন, সাবরাং, বাহারছড়া ও টেকনাফ সদরসহ ৪টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ,বিএনপি, জাতীয় পার্টি, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র ২৮ চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্ধ দেয় সংশ্লিষ্ট রিটানিং অফিসার। নির্ধারিত দিনে উৎসব মুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে টেকনাফ উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানদের দলীয় এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্যদের জন্য নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়।উপজেলা নির্বাচন অফিসার নুরুল ইসলাম, বাহারছড়া ও সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটানিং কর্মকর্তা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শামসুল আলম কুতুবী সকাল ১০ টা থেকে প্রার্থীদের পছন্দ করা এবং লটারির মাধ্যমে প্রতীকগুলো বাছাই করে প্রার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়।প্রার্থীদের উপস্থিতিতে এ সকল প্রতীক বরাদ্দ দেন। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পরপরই প্রার্থীরা সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে প্রচারণায় নেমে পড়েন। যার যার সমর্থকদের আনন্দমূখর শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে গোটা নির্বাচনী এলাকা। অনেক প্রার্থী প্রতীক নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসে আসার সময় চাঁন্দের গাড়ী, অটোরিক্সায় মাইক বেঁধে নেচে গেয়ে বিপুল সমর্থক নিয়ে উৎসব করতে থাকেন।উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে আগামী ২২ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সীমানা জঠিলতার কারনে হোয়াইক্যং ও হ্নীলা ইউপি নিবাচন হাইকোর্ট কর্তৃক স্থগিত ঘোষনা করায় বাকী ৪ ইউনিয়নে ২৮ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করবেন। এরা হচ্ছেন টেকনাফ সদরে ৬ জন প্রার্থী। এর মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল আলম (আঃলীগ), জিয়াউর রহমান জিহাদ (বিএনপি), মোঃ ইসমাইল (জাতীয়পার্টি), আব্দুর রহমান (সতন্ত্র), দিদার মিয়া (সতন্ত্র), শাহজাহান মিয়া (সতন্ত্র) ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী, মুক্তার আহমদ (সতন্ত্র)। বাহারছড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৯ জন। এর মধ্যে আজিজ উদ্দীন (আঃলীগ), মোঃ সেকান্দর (বিএনপি), জসিম উদ্দীন (জাতীয় পাটি), মাওঃ হাবিব উল্লাহ চেয়ারম্যান (সতন্ত্র), হাসিনা আক্তার (সতন্ত্র), সাইফ উল্লাহ (সতন্ত্র), মোঃ রফিক উল্লাহ (সতন্ত্র), মোঃ মোশারফ হোসেন চৌং (সতন্ত্র), হুমায়ুন কাদের (সতন্ত্র)। সাবরাং ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৮ জন। এর মধ্যে সোলতান আহমদ (বিএনপি), সোনা আলী (আঃলীগ), মোঃ আয়াজ (জাতীয়পার্টি), হামিদুর রহমান চেয়ারম্যান (সতন্ত্র), আবুল ফয়েজ (সতন্ত্র), নুর হোসেন (সতন্ত্র) আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী, জাহেদ হোসাইন (সতন্ত্র) ও মোঃ ইসমাইল (সতন্ত্র)। সেন্টমার্টিনদ্বীপে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৫ জন। এর মধ্যে মোঃ মুজিবুর রহমান (আঃলীগ) ও মৌলভী আব্দুর রহমান (বিএনপি), নুর আহমদ (সতন্ত্র) আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী, মোঃ কেফায়েত উল্লাহ (সতন্ত্র), আবদুর রহমান (সতন্ত্র) আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নির্বাচন বন্ধের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের লিখিত আদেশ পেয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে নির্বাচন স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে হ্নীলা-হোয়াইক্যং এর কয়েকজন প্রার্থীর দায়ের করা আপীলের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সেই স্থগিতাদেশ আগামী ৪ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করলেও লিখিত আদেশ না পৌছায় যথারীতি নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি।






মন্তব্য চালু নেই