মেইন ম্যেনু

টেলিভিশনে শব্দ ও আলোর বেগ সমান!

অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়, অবাস্তব ব্যাপার! শব্দের বেগ কখনো আলোর বেগের সমান হতে পারে না। শুধু শব্দের বেগ কেন, আইনস্টাইনের থিয়োরি অব রিলেটিভির মতে কোনো বস্তুর বেগই আলোর বেগের সমান হতে পারে না। আইনস্টাইনের এই তত্ত্ব পরিক্ষিত সত্য।

আলোর বেগ সেকেণ্ডে তিন লাখ কিলোমিটার আর শব্দের বেগ বায়ুমাধ্যমে মাত্র ৩৪০ মিটার। তরল বা কঠিন মাধ্যমে টেনেটুনে একটু এদিক-ওদিক করা যেতে পারে। তাই বলে বেগের সমান কল্পনা করাটা নির্বুদ্ধিতা ছাড়া কিছুই নয়।

অনেকেই হয়তো একথায় দ্বিমত পোষণ করে বলতে পারে– ‘টেলিভিশনে তো আলোর বেগ আর শব্দের বেগ সমান।’

খোলাচোখে সেটা মনে হওয়ায় স্বাভাবিক। কারণ, টেলিভিশনে একই সাথে ছবি দেখা ও শব্দ শোনা যায়। ছবি হলো আলোক শক্তি তা আলোর বেগেই আসবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু শব্দ?

এই ব্যাপারটাই অনেকে বুঝতে পারে না, আসলে টেলিভিশনে আমরা যে ছবি দেখি এবং শব্দ শুনি শব্দের গতি আলোর গতির সমান হওয়ার দরকার নেই। শক্তির নিত্যতা সূত্রেই বলা হয়েছে শক্তিকে এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় রূপান্তরিত করা যায়। সেই কথা মাথায় রেখে টেলিভিশন সম্প্রচার কেন্দ্রে একটা ট্রান্সফরমার বসানো হয়। সেই ট্রান্সফরমার শব্দকে প্রথমে বিদ্যুৎ চুম্বকীয় শক্তিতে পরিণত করে, তেমনি ছবি বা আলোক শক্তিকেও বিদ্যুৎ চুম্বকীয় শক্তিতে রূপান্তর করে।

বিদ্যুৎ চুম্বকীয় শক্তিও এক ধরনের আলোক শক্তি। তাই এর বেগ ও আলোর বেগের সমান। এখন আর আলোকশক্তি ও পরিবর্তিত শব্দ শক্তিকে একসাথে একইবেগে চলতে বাধা থাকল না।

বিদ্যুৎ চুম্বকীয় শক্তিতে পরিবর্তিত শব্দ ও আলোক শক্তি টেলিভিশনের এন্টেনায় ধরা পড়ার পর আরো একবার রূপান্তরিত হয়। এবার টেলিভিশনের ট্রান্সফরমার বিদ্যুৎ চুম্বকীয় শক্তিকে শব্দ ও আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। তখন আমরা একই টেলিভিশনে ছবি দেখি ও শব্দ শুনি।

রেডিওতে ছবি দেখা না গেলেও একই ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ প্রথমে শব্দ তরঙ্গকে বেতার তরঙ্গে পরিণত করা হয়। এই বেতার তরঙ্গও এক ধরনের বিদ্যুত চুম্বকীয় তরঙ্গ। তারপর রেডিওর ট্রান্সফরমার সেই বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গকে আবার শব্দ তরঙ্গে পরিণত করে আমাদের শোনায়।

বলতে পারেন এটা কেন করা হয়? রেডিওতে তো ছবি দেখানোর ঝামেলা নেই! সেটা ঠিক! ছবি আর শব্দে গড়মিল হওয়ার ভয় রেডিওতে নেই। কিন্তু দূরত্বের একটা ব্যাপার আছে।

রেডিও স্টেশন থেকে হাজার মাইল দূরে বসে কোনো যদি রেডিও শোনো তাহলে তার কতটুকু সময় লাগবে ভেবে দেখুন তো। ৪০ মিটার বেগে চলা শব্দ হাজার মাইল যেতে কয়েক মিনিট সময় লেগে যাবে। অর্থাৎ সব শ্রোতা এক সময়ে একই খবর শুনতে পাবে না। কিন্তু আলোর বেগে চললে সেই শব্দ হাজার মাইল পৌঁছে যাবে মুহূর্তের মধ্যে।






মন্তব্য চালু নেই