মেইন ম্যেনু

টেস্টের ১৫ বছর, কি পেল বাংলাদেশ?

২০০০ সালের ১০ নভেম্বর। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ঐতিহাসিক দিন। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলতে নামলো বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ভারত।

সে হিসেবে টেস্ট আঙ্গিনায় আজ ১৫ বছর পূর্ণ করলো বাংলাদেশ। এই ১৫ বছরে মোট ৯৩ টেস্ট খেলেছে টাইগাররা। এরমধ্যে জয় মাত্র ৭টিতে। হারতে হয়েছে ৭১ ম্যাচ। আর ড্র হয়েছে ১৫ ম্যাচ। ওয়ানডে ক্রিকেটের তুলনায় পরিসংখ্যানটা মোটেও সুখের নয়। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ বড় দল হয়ে ওঠলেও টেস্ট আঙ্গিনায় সেভাবে দাপট দেখাতে পারছে না টাইগাররা। মানে ৫ দিনের ম্যাচে বাংলাদেশের উন্নতি অত্যন্ত ধীর গতির।

কিন্তু কেন? বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম মনে করেন, ঘরোয়া লঙ্গার ভার্সন ক্রিকেটকে গুরুত্ব না দেওয়াই এর আসল কারণ। বুলবুল বলেন,‘ টেস্টে আমরা অত্যন্ত মন্থর গতিতে এগুচ্ছি। কারণ আগে থেকে টেস্ট নিয়ে বিশেষভাবে কোন পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। ওয়ানডে ক্রিকেটেকেই সবসময় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হ্যাঁ, ইদানীং কিছু ভালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগগুলো আগে নিলে ওয়ানডের মতো টেস্টে বাংলাদেশ শক্তিশালী দল হয়ে যেত।’

১৯৯৭ সালে কুয়ালালামপুরে আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ। ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার পর টেস্ট স্ট্যাটাসের লক্ষ্য স্থীর করে বিসিবি। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড ও পাকিস্তানকে হারিয়ে টেস্ট স্ট্যাটাসের আবেদন জোরালো করে তুলে বাংলাদেশ। তখনকার বোর্ড প্রধান সাবের হোসেন চৌধুরীর প্রচেষ্টায়ও ছিল প্রশংসনীয়। অবশেষে ২০০০ সালের ২৬ জুন দশম টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ।

তবে নানা সময় মাঠে বাজে পারফরম্যান্সের সুযোগে বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাসের বিপক্ষে অনেকেই কথা বলেন। তাদের মধ্যে আছেন ইংল্যান্ডের ব্যাটিং গ্রেট জিওফ বয়কট এবং ভারতের নভজোৎ সিং সিধু। তবে সমালোচকদের মুখ আস্তে আস্তে বন্ধ করে দিচ্ছে টাইগাররা, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে।অনেক দেরীতে হলেও টেস্টেও বড় দল হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সেটাই বলে দিচ্ছে।

তবে বুলবুলের মতো নাঈমুর রহমান দুর্জও মনে করেন আগে থেকে গুরুত্ব দিলে টেস্টেও এখন বাংলাদেশ বড় দল থাকতো। বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের অধিনায়ক বলেন,‘ ওয়ানডে ক্রিকেটে আমরা অসাধারণ খেলছি। আমরা বড় বড় দলকে হারিয়ে দিচ্ছে। টানা সিরিজ জিতছি। কিন্তু ঐ দলগুলোর বিপক্ষেই ৫ দিনের ম্যাচে ভালো করতে পারছি না। কারণ আমরা ওয়ানডে নিয়েই বেশী ব্যস্ত থেকেছি। ৫ দিনের ক্রিকেটকে সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আমার মনে হয় টেস্ট ক্রিকেকে আরো গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ।’






মন্তব্য চালু নেই