মেইন ম্যেনু

ট্যালকম পাউডার কী আসলেই ওভারিয়ান ক্যান্সারের কারণ হতে পারে?

বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে ট্যালকম পাউডারের সাথে ওভারিয়ান ক্যান্সারের যোগসূত্র নিয়ে বিভিন্ন তর্ক-বিতর্ক। আমাদের দেশে এই ধারনাটা নতুন হলেও পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে এ ব্যাপারে আলোচনা নতুন নয়। ব্যাপারটা আবারো আলোচনায় নতুন করে উঠে এসেছে কারণ আমেরিকার এক কোর্ট থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে ওভারিয়ান ক্যান্সারে নিহত এক নারীর পরিবারকে। জনসন অ্যান্ড জনসন কোম্পানির ট্যালকম পাউডারের বিরুদ্ধে আসলে এই জরিমানা করা হয়। সেই নারী অনেকদিন ধরেই ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করতেন। তাহলে কী এখন আমরাও ট্যালকম পাউডার ব্যবহার বন্ধ করে দেব? বিজ্ঞান কী বলে?

ট্যালকম পাউডার আসলে কী? এটা হলো এক ধরণের ম্যাগনেসিয়াম সিলিকেট। প্রাচীন আরবিয় সময় থেকেই ট্যাল্ক নামের দ্রব্যটা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটাকে আমরা মূলত ত্বকে প্রয়োগের প্রসাধনী বলেই চিনি। কিন্তু এর অনেক ব্যবহার আছে। যেমন শিল্প কারখানায় কনভেয়র বেল্টের চলাচল মসৃণ রাখতে ট্যাল্ক ব্যবহার করা হয়। কারখানায় আরও বেশি পরিমাণে ট্যাল্কের সংস্পর্শে আসে মানুষ। এই ট্যাল্কের মাঝে কিছু পরিমাণে অ্যাসবেসটস নামের পদার্থ থাকে বলে তাতে মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা থাকে। ১৯৬০ সালের দিকে এসব শ্রমিকদের ওভারিয়ান ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা নিয়ে কথা ওঠে কারণ দেখা যায় অ্যাসবেস্টোসের কারণে ফুসফুসের ক্যান্সার হতে পারে। ১৯৭০ সালের থেকে ট্যাল্ক থেকে অ্যাসবেস্টোস দূর করে দেওয়া হয় কিন্তু এ নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েই যায়।

ট্যাল্ক সহজে আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে বলে এখন অনেকেই ত্বকে ব্যবহার করেন ট্যালকম পাউডার। নারীরা ব্যক্তিগত প্রসাধনী হিসেবেও একে ব্যবহার করেন। কিন্তু ধারণা করা হয় এটা অনেক সময়ে ভ্যাজিনা, ইউটেরাস এবং ফ্যালোপিয়ান টিউবের মধ্য দিয়ে ওভারিতে চলে যেতে পারে।

ওভারিয়ান ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশ কিছু ব্যাপারের ওপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন গবেষণায় বিভিন্ন রকমের ফলাফল দেখা যায়।
– আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি কিছু গবেষণা থেকে এই সিদ্ধান্তে আসে যে ট্যালকম পাউডার থেকে ওভারিয়ান ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকলেও সেই ঝুঁকি ছোটখাটো ঝুঁকি হবে, বেশি নয়।
– ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ অন ক্যান্সারের মত অনুযায়ী, দু-পায়ের মাঝে আর্দ্রতা শোষণ করতে যদি ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করা হয় তবে ওভারিয়ান ক্যান্সারের ঝুঁকি কম হলেও নিয়মিত এবং এই ঝুঁকি সময়ের সাথে বাড়ে।
– ইউরোপিয়ান ট্যাল্ক ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন এমন এক গবেষণার তথ্য সমর্থন করে যাতে বলা হয়, ওভারিয়ান ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ার সাথে ট্যালকম পাউডার ব্যবহারের কোনো সম্পর্ক নেই।
– ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে থেকে জানা যায়, তারা এই ব্যাপারে ঠিক পরিষ্কার নয় এবং কোনো ঝুঁকি থাকলেও তা হবে বেশ কম।

কিন্তু আরও সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, ট্যাল্ক ব্যবহার এবং এপিথেলিয়াল ওভারিয়ান ক্যান্সারের মাঝে আসলেই যোগসূত্র আছে। ২০১৩ সালের এক অ্যানালাইসিসে দেখা যায়, কম থেকে মাঝারি ধরণের ঝুঁকি থাকে পায়ের মাঝে ট্যালকম পাউডার ব্যবহারে। এতে বাড়ে বর্ডারলাইন এবং ইনভেসিভ ওভারিয়ান ক্যান্সারের ঝুঁকি। তারা এই মত দেয় যে, স্ত্রী-অঙ্গে, অন্তর্বাস এবং স্যানিটারি ন্যাপকিনে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার বন্ধ করাটাই এক্ষেত্রে উত্তম। এক্ষেত্রে ট্যালকম পাউডারের বদলে এমন পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে যাতে প্রাকৃতিক কর্নস্টার্চ আছে। কর্নস্টার্চের ব্যবহারের ফলে কোনো ঝুঁকি এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি।






মন্তব্য চালু নেই