মেইন ম্যেনু

ট্রাম্পকে জেতাতে মরিয়া পুতিন!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগামী নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা এই মুহূর্তে তুঙ্গে। তবে এই নির্বাচনী প্রচারণায় বিরোধী শিবিরে একটি অভিযোগ এখন সবার মুখে মুখে ফিরছে। এই অভিযোগ শুরু হয়েছে বিশ্বপরিমণ্ডলে দেশটির প্রধান বিরোধী প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যভাবে বলা যায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ঘিরে।

বিরোধীদের অভিযোগ, হোয়াইট হাউজে যাওয়ার লড়াইয়ে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ও রাশিয়ার বন্ধু ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জেতাতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

গত সপ্তাহে হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনী প্রচারণার ম্যানেজার রোবিই মুক এক টকশোতে অংশ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কথা প্রকাশ করেন। রাশিয়ার হ্যাকাররা ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির (ডিএনসি) ই-মেইল হ্যাক করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্সকে মনোনয়ন দৌড়ে হারাতে তার দল সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে।

এই তত্ত্বকে ঘিরে বেশ সন্দেহ তৈরি হয়। এর ফলাফলও অনুমেয়, যথাসময়ে এই ষড়যন্ত্র ফাঁস করা হয়; ফিলাডেলফিয়ায় চলতি সপ্তাহে ডেমোক্র্যাট শিবিরের সমাবেশের আগে এবং ক্লিভল্যান্ডে রিপাবলিকান দলের সম্মেলনের পর এটি করা হয়।

বার্নি স্যান্ডার্সের কট্টরপন্থী সমর্থকরা বিক্ষোভ করলেও ডেমোক্র্যাট দলের হিলারির ম্যানেজার স্যান্ডার্সকে ধন্যবাদ জানান এবং কনভেনশনে দেয়া বক্তব্যে হিলারির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান স্যান্ডার্স। তিনি বলেছেন, হিলারিরই পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হওয়া উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের চেয়ে হিলারি অনেক বেশি যোগ্য। তার চিন্তা এবং নেতৃত্বের জন্য তিনিই দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য। আর এ কারণে নিজের সমর্থকদের ট্রাম্পকে ভোট না দিয়ে হিলারিকে ভোট দেয়ার আহ্বানও জানান স্যান্ডার্স।

তবে ডেমোক্র্যাট দলের ই-মেইল ফাঁসের জন্য কে দায়ী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত। ইউরোপের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে এ ধরনের কাজে ক্রেমলিনের দীর্ঘদিনের রেকর্ড রয়েছে। এর আগে, গত জুনে যখন ডিএনসি হ্যাকের শিকার হয় তখন রাশিয়ার অ্যাজেন্টকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

ট্রাম্পকে জয়ী করতে ক্রেমলিনের আগ্রহের একটি কারণ রয়েছে। ন্যাটোকে দুর্বল করতে এবং এতে বিভক্তি আনতে রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক স্বার্থের বিষয়টি জড়িত। এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলোর ওপর পুনঃনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও রয়েছে। রিপাবলিকান দলের প্রার্থীর মনোভাব রাশিয়ার এই স্বার্থ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে।

এর আগে, শুধুমাত্র দৃঢ় মানসিকতা এবং প্রত্যয়ী হিসেবে পুতিনের প্রশংসা করেননি ট্রাম্প। গত সপ্তাহে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ন্যাটোভূক্ত বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোকে রাশিয়ার হুমকি থেকে রক্ষা করবে না যুক্তরাষ্ট্র। যতক্ষণ না তারা জোটে তাদের অংশীদারিত্ব চুক্তি যথাযথভাবে পূরণ করে।

শুধুমাত্র এতেই শেষ নয়। হিলারির ম্যানেজার রোবিই মুক পরে দাবি করেছেন, রিপাবলিকান প্লাটফর্মে ট্রাম্পের ম্যানেজারের শক্ত অবস্থান নেই। একটি ব্রিটিশ পার্টির নির্বাচনী ইশতেহারের মতো ট্রাম্পের নির্বাচনী ইশতেহার অত্যন্ত দুর্বল। যেখানে ইউক্রেনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। আর এই অঙ্গীকারের বিষয়টি মাথায় রেখে সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র মস্কো যে কোনো উপায়ে রিপাবলিকান প্রার্থীকে নিয়ন্ত্রণে আনার সব উপায় অবলম্বন করছে।

এদিকে, ট্রাম্পের দল থেকে এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড জুনিয়র এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে মুককে লজ্জিত হওয়া উচিত। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার চেয়ারম্যান পল ম্যানাফর্ট বলেছেন, রাশিয়ার সহায়তার বিষয়টি হাস্যকর।

তবে রিপাবলিকান প্রার্থীকে হোয়াইট হাউজে বসাতে রাশিয়ার সহায়তা করা নিয়ে যে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ফাঁস হয়েছে সে বিষয়টিকে একেবারে উড়িয়ে দিতে চাচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। চার দশক আগে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির ঘটনাও ঘটেছিল। শেষ পর্যন্ত তা নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে। সেই সময়ে এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বে রাজনীতিকদের শারীরিক উপস্থিতি ছিল। এবারে তা ভিন্ন; ইলেক্ট্রনিক ষড়যন্ত্র (রুশ হ্যাকাররা ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির ইমেইল হ্যাকিংয়ের পর ফাঁসের অভিযোগ)। কিন্তু এর শেষ কোথায়?

সূত্র : দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, টাইম অব ইন্ডিয়া, নিউ ইয়র্ক টাইমস।






মন্তব্য চালু নেই