মেইন ম্যেনু

ট্রাস্ট গঠনে পৃথক আইন লাগবে না

এখন থেকে আর সরকারি-বেসরকারি ট্রাস্ট গঠনে পৃথক আইনের প্রয়োজন হবে না।

একটি আইনের মাধ্যমে ট্রাস্ট গঠন করা যাবে। এই সুযোগ রেখে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট আইন ২০১৫ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভুইঞা এ তথ্য জানান।

সচিব বলেন, ‘বেসরকারি ট্রাস্ট গঠন ও পরিচালনার জন্য আইন থাকলেও এতদিন সরকারি খাতে ট্রাস্ট গঠনের জন্য কোনো আইন ছিল না। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমব্রেলা আইন তথা একক আইনের মাধ্যমে যাতে সরকারি-বেসরকারি ট্রাস্ট গঠন করা যায় তার জন্য একটি আইনের প্রয়োজন দেখা দেয়।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগকে মৌখিকভাবে নতুন আইন প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারা এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া তৈরি করে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য নিয়ে আসলে এটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

মোশাররাফ হোসাইন ভুইঞা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট আইন -২০১৫ এর খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের ফলে এখন থেকে সরকারি-বেসরকারি খাতে ট্রাস্ট গঠনের জন্য আলাদা আলাদা কোনো আইন লাগবে না। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে আইনমন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

সচিব বলেন, নতুন আইনে ১৮টি ধারা রয়েছে। এসব ধারায় ট্রাস্টের গঠন পদ্ধতি, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, ব্যবস্থাপনা, ট্রাস্টি বোর্ড গঠন ও এর কাজ, বোর্ডের সভা, তহবিল সংরক্ষণ, বাজেট ও হিসাব ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।’

তিনি জানান, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রী ১৩ সদস্যের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন। এই মন্ত্রণালয়ের সচিব হবেন ট্রাস্টের সহ-সভাপতি। এছাড়া ট্রাস্টিবোর্ডে থাকবেন আইসিটি, শিক্ষা, জনপ্রশাসন, অর্থ, আইন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রতিনিধি ও দু’জন অধ্যাপক।

সচিব বলেন, বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও ফেলোশিপ ট্রাস্ট আইনের অধীনে সরকার বিধিমালা প্রণয়ন করতে পারবে। ট্রাস্ট প্রবিধানমালাও করা যাবে এই আইনে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সরকারের টাকায় ট্রাস্টের তহবিল গঠন করা হবে। অন্য উৎস থেকেও তহবিলের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা যাবে। যাতে তহবিলটা সাসটেইন্যাবল হয়।’

তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে যারা গবেষণা করেন তাদের ফেলোশিপ দেওয়াই মূলত ট্রাস্টের উদ্দেশ্য। আর ফেলোশিপের কাজটি টেকসই করার জন্য এ আইন করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে গবেষণার জন্য ‘বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ’ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘মাস্টার্স, পিএইচডি এবং পোস্ট ডক্টরাল গবেষকদের এই আইনের মাধ্যমে সহায়তা করা হবে। গবেষণা উন্নয়ন করাও যাবে এ আইনের আওতায়। এছাড়া উৎপানশীলতা বৃদ্ধির জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা কিভাবে কাজে লাগানো যায় তা নিয়েও কাজ করবে ট্রাস্ট।






মন্তব্য চালু নেই