মেইন ম্যেনু

ট্রেনভর্তি অভিবাসী মিউনিখ ও ভিয়েনায় পৌঁছেছে

হাঙ্গেরি সীমান্ত পার হওয়া অভিবাসীরা ট্রেনে চড়ে জার্মানির মিউনিখ ও অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় পৌঁছেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সোমবার দিবাগত রাতে (মঙ্গলবার) অভিবাসীদের একাংশ এই দুই শহরে পৌঁছেছে।

বিশ্বজুড়ে মানবিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয়ের শিকার এসব মানুষ চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর উন্মুক্ত সীমান্ত পার হতে ভাগ্যের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে তাদের। একই সঙ্গে ইইউ দেশগুলো অভিবাসীদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে।

হাঙ্গেরি তাদের দেশে ঢুকতে দিয়েছে ভাগ্যহত অভিবাসীদের। এদের মধ্যে বেশির ভাগই এসেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীরাও রয়েছে।

অনেক অভিবাসী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভিয়েনায় পৌঁছায়। সেখান থেকে ট্রেনে করে তারা জার্মানির মিউনিখের পথে যাত্রা শুরু করে। ভিয়েনা পুলিশ অভিবাসীদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

‘জার্মানি, তোমাকে ধন্যবাদ’ : সোমবার মধ্যরাতে যখন অভিবাসীরা মিউনিখ কেন্দ্রীয় স্টেশনে পৌঁছায়, তখন স্থানীয়রা তাদের স্বাগত জানিয়ে গান গেয়ে ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় অভিবাসীরা বলতে থাকে, ‘জার্মানি, তোমাকে ধন্যবাদ।’

মিউনিখ পুলিশ জানিয়েছে, ট্রেনে প্রায় ৫০০ অভিবাসী এসেছে। তাদের বাসযোগে আশ্রয়শিবিরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়শিবিরে তাদের নিবন্ধন করানো হবে।

ইইউর অন্য দেশের তুলনায় জার্মানি বেশি অভিবাসীদের আশ্রয় দিয়েছে। সোমবার জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল অন্য দেশের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছেন, অভিবাসীদের প্রতি তারা যেন সহনশীল হয়।

এদিকে অস্ট্রিয়ার কর্তৃপক্ষ হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্ট থেকে আসা কয়েক শ অভিবাসীকে পথে আটকে দেয়। এ সময় তাদের হাতে ধরা পড়ে মানব পাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্য। হাঙ্গেরি থেকে মানব পাচারকারীরা বিভিন্ন কৌশলে ইউরোপে অন্য দেশে অভিবাসীদের ঢুকিয়ে দেওয়ার চুক্তি করে। এতে অনেক অভিবাসীর মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সোমবার ভিয়েনায় প্রায় ২ হাজার মানুষ অভিবাসীদের সম্মান ও নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি জানিয়ে সমাবেশ করেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলো থেকে আসা এসব অভিবাসীকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।

একই সঙ্গে ভিয়েনার সমাবেশকারীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তারা স্লোগান দিতে থাকেন, ‘কোনো মানুষই অবৈধ নয়, মানবাধিকার সীমান্তের ঊর্ধ্বে।’

তথ্যসূত্র : আলজাজিরা অনলাইন।






মন্তব্য চালু নেই