মেইন ম্যেনু

ট্রেনের কামরাই যখন বসতবাড়ি

ট্রেনে চড়তে অনেকেই ভালোবাসেন৷ কিন্তু ট্রেনের মধ্যে পাকাপাকিভাবে থেকে যাওয়ার কথা শুনেছেন কি? এক দম্পতি রেলের কামরা কিনে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব বাসা৷ অভিনব এই প্রকল্পের জন্য তাঁদের কম পরিশ্রম করতে হয়নি৷

জার্মানির উত্তর পশ্চিমে মার্ল শহরের শিল্প এলাকার এক প্রান্তে দুটি ট্রেনের কামরা শোভা পাচ্ছে৷ মাঝে একটি বাড়ি৷ বাড়ির মালিক এক ফটোগ্রাফার দম্পতি৷ নাম মার্কো স্টেপনিয়াক ও ভানেসা স্টালবাউম৷ এই অদ্ভুত বাড়ি সৃষ্টি করতে বছর দুয়েক সময় লেগেছে৷ তাঁরাই প্রথম এমন এক প্রকল্প কার্যকর করছেন বলে অন্যের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ পাননি৷

২০০৯ সালে তাঁরা ৪০,০০০ ইউরো খরচ করে ইন্টারনেটে ট্রেনের দু’টি অংশ কেনেন৷ সবার আগে ট্রেনের গা থেকে ৩০ বছরের পুরানো রং দূর করতে হয়েছে৷ তারপর ট্রেন, বিশাল ট্রাক ও ক্রেনে করে সেগুলি গন্তব্যে পৌঁছাল৷ পরিবহণের খরচ ২৬,০০০ ইউরো, সময় লেগেছে তিনদিন৷ খোলনলচে বদলানোর কাজ করতে প্রায় ১০ মাস লেগে গেছে৷ ২০১০ সালের শুরুতে দুই রেল কামরার মাঝে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়৷

তারপর একই বছরের ডিসেম্বর মাসে এই দম্পতি গৃহপ্রবেশ করেন৷ দেড় বছর ধরে অবসর সময়ের সবটাই কাজে লাগিয়ে তিলে তিলে নতুন বাসা গড়ে তুলেছিলেন তাঁরা৷ মার্কো স্টেপনিয়াক বলেন, ‘‘কাজের কিছুই দেখা যায় না৷ মাসের পর মাস রেলের কামরায় থেকেও নয়৷ জানালার সিলিং খুলেছি, ফ্রেম রং করেছি, চোখে পড়ে না এমন অনেক জিনিস বাদ দিয়েছি৷ এ যেন এক মনস্তাত্ত্বিক নিপীড়ন৷”

তখনো বাড়ি তৈরির কাজ শেষ হয়নি৷ রান্নাঘরের দেওয়ালে তাক লাগাতে হবে৷ সত্তরের দশকে এই সব খোপে চিঠিপত্র রাখা হতো৷ এখন সেখানে গ্লাস, প্লেট ও কাঁটাচামচের জায়গা করতে হবে৷ ফুটো করা কঠিন কাজ, কারণ রেলের কামরার দেওয়াল ধাতুর তৈরি৷

মার্কো বলেন, ‘‘স্কুলে থাকতেই ক্যারাভ্যানের আইডিয়া মাথায় এসেছিল৷ এতদিনে সেটা করতে পারলাম৷ যারা এখানে ছিল, তাদের অনেকের মনে পড়েছে যে আমি স্কুলজীবনে এ কথা বলেছিলাম৷ আমি কিন্তু রেলের বড় ফ্যান নই৷ আমি শুধু এমন জায়গায় থাকতে চেয়েছিলাম৷”

রেলের দুই বিশাল অংশের তুলনায় মাঝের বাড়িটি ছোট দেখায়৷ একটি ওয়াগানের ওজন ৪১ টন৷ দৈর্ঘ্য ২৭ মিটার, প্রস্থ ৩ মিটার৷ জমির জায়গা বেশি নয়৷ তাই রেলের কামরা দু’টো সমান্তরালভাবে রাখা হয়েছে৷ একেবারে রেললাইনের উপর৷ ২০১১ সালের আগস্ট মাসে রান্নাঘরের কাজ শেষ হলো৷ ডাক বিভাগের রেল কামরার আমেজ পেতে মালিকরা মূল জিনিসপত্র যতটা সম্ভব অক্ষত রেখে নতুন আসবাবপত্র ও যন্ত্র বসিয়েছেন৷

তবে কী থাকবে, কী বাদ পড়বে সে বিষয়ে সব সময়ে তাঁরা মোটেই একমত ছিলেন না৷ ভানেসা স্টালবাউম বলেন, ‘‘আসলে মার্কোই সাধারণত সবকিছু জমিয়ে রাখতে, সত্তরের দশকের আদলে সবকিছু অক্ষত রাখতে ভালোবাসে৷

রেলের সবুজ রঙের প্লাস্টিক টয়লেট ফেলতে চায়নি৷ সে বললো, স্টিম দিয়ে পরিষ্কার করা যেতে পারে৷ মৌলিক এই জিনিসটি বেশ খাপ খেয়ে যাচ্ছে৷ আমি রাজি না হওয়ায় সে একটু মুষড়ে পড়েছিল৷ আমি বিকল্প চেয়েছিলাম৷ এভাবে ঝগড়া লাগতে পারে৷”

প্রায় আড়াই লাখ ইউরো খরচ করে এই দম্পতি তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন৷ আবার স্বাভাবিক বাড়িঘরে থাকার কথা তাঁরা আর ভাবতেই পারেন না৷-ডিডব্লিউ






মন্তব্য চালু নেই