মেইন ম্যেনু

ট্রেন থেকে খালা-ভাগ্নিকে অপহরণ করে গণধর্ষণ

সুনামগঞ্জের ছাতকে সিলেটগামী ট্রেন থেকে অপহরণ করে এক কিশোরীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। তার সঙ্গে থাকা ১৩ বছর বয়সী ভাগ্নিরও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে।

অপহরণের দুইদিন পর জিম্মিদশা থেকে পুলিশ ওই দুই কিশোরীকে উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও নির্যাতিত কিশোরীরা জানায়, সিলেট নগরীর খোজারখোলা রেলওয়ে কলোনীর বাসিন্দা ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী তার এক ভাগ্নিকে নিয়ে ৭ অক্টোবর সকালে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোপালনগর গ্রামে ভগ্নিপতির বাড়িতে বেড়াতে আসে।

১১ অক্টোবর বিকালে ওই বাড়ি থেকে সিলেট যাওয়ার উদ্দেশ্যে ছাতকের ছৈলা-আফজালাবাদ রেল স্টেশনে পৌঁছে। স্টেশন থেকেই ৬-৭জন বখাটে ওই কিশোরীদের পিছু নেয়। কিশোরীরা ট্রেনে উঠলে বখাটেরাও ট্রেনে উঠে।

ট্রেনটি সামেনের সৎপুর রেলস্টেশনে পৌঁছামাত্র বখাটে বারিক তার সহযোগীরা ওই কিশোরীদের মুখ বেঁধে ট্রেন থেকে তাদের অপহরণ করে। পরে তাদের বিশ্বনাথের মান্দাবাজের একটি বাড়িতে নেয়া হয়। সেখানে দুইদিন আটকে রেখে বখাটেরা ষোড়শীকে গণধর্ষণ করে। আর ১৩ বছর বয়সী কিশোরীও শারীরিক নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি। নির্যাতনের পর তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে বুধবার বিকালে ছাতক থানা পুলিশের একটি দল ওই দুই কিশোরীকে উদ্ধার করে।

পুলিশি অভিযানে বিশ্বনাথ উপজেলার মান্দাবাজ গ্রামের সোনা আলী ঠাকুরের ছেলে আবদুল বারিক (২৮) ও তার সহযোগী একই গ্রামের আবদুল মন্নানের ছেলে রোমান মিয়াকে (৩০) গ্রেফতার হয়।

পরে দুই কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সার্ভিসে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। পরে আটক দুইজনকে বিশ্বনাথ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ধর্ষিতা কিশোরীর ভগ্নিপতি বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে রাত বিশ্বনাথ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

বিশ্বনাথ থানার ওসি মো. মনিরুল গণধর্ষণের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আগে থেকে ছাতক থানা পুলিশ আমাদের থানা এলাকায় অভিযানের বিষয়টি অবহিত করেনি। আমাদেরকে আগে জানানো হলে দ্রুত ভিকটিমদের উদ্ধার করা যেতো। পাশপাশি অন্য আসামিদেরও গ্রেফতার করা যেতো।’

ছাতক থানার ওসি মো. আশেক সুজা মামুন বলেন, ‘বিশ্বনাথ থানায় মামলা হওয়ায় ওই থানা পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করবে। ঘটনাস্থল নিশ্চিত হওয়ার পরই আমরা ওই থানা এলাকায় অভিযান চালিয়েছিলাম।’






মন্তব্য চালু নেই