মেইন ম্যেনু

ঠাকুরগাঁওয়ে ফেয়ার প্রাইজের কার্ডেও সুবিধাভোগী নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

শরিফুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ”চেয়ারম্যান মেম্বার লা তো কানা হই গেছে ।উমরা মোক দেখা পায়না।মোক ১০ টাকা কামাই করার লোক নাই,মুই সারা বছর কিনে খাও,তাহু মোক দেয়নি ১০ টাকা কেজির চাউলের কার্ড-এ প্রতিক্রিয়া জানালেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ক্যাথলিক মিশনের পাশে রেলের জমিতে দোচালা ঘর তৈরী করে বসবাসকারী বালাশ^রী বেওয়া।লোকে ডাকে লংকের মা বলে ।

বয়স অনুমান ৯০ বছর।প্রায় ৪০ বছর পূর্বে স্বামী গত হয়েছে।একমাত্র ছেলে লংকে তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে আলাদা জায়গায় থাকে। শরীরে কাজের ক্ষমতা নেই।কোমর বাঁকা করে হাটে।তার উপর কাঁধে এসে বসেছে একমাত্র কন্যা সনিতা দাস ওরফে হেদেলী।হাবাগোবা হওয়ায় বিয়ের কিছুদিনের মাথায় নববধূকে রেখে পালিয়ে যায় স্বামী ।সেই থেকে হেদেলীও মায়ের সঙ্গে বসবাস করছে। বৃদ্ধা বালাশ^রী ব্র্যাকের হতদরিদ্র তালিকাভুক্ত হয়ে দুটি গরু পেয়েছে।ওই গরু দুটি দেখে কন্যা হেদেলী আর মা বাঁশের আসবাবপত্র তৈরী করে জীবন যাপন করে আসছে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১নং রুহিয়া ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজিতে চাল ক্রয়ের সুবিধাভোগী নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।প্রকৃত হতদরিদ্রদের পাশ কাটিয়ে পাকা বাড়ির মালিক ও অবস্থাসমপন্ন ব্যক্তিদের মাঝে কার্ডধারী হিসেবে তালিকা প্রনয়ন করা হয়েছে।

খাদ্য বিভাগের আওতায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১নং রুহিয়া ইউনিয়নে হত দরিদ্রদের ১০ টাকা কেজিতে চাল ক্রয়ের জন্য ১ হাজার ৯৯টি কার্ড বরাদ্দ দিলেও বালাশ^রীর ভাগ্যে জুটেনি এ কার্ড।অথচ ঘনিমহেশপুর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ললিত কুমার রায় নিজের পাকাবাড়ি হাসকিং মিল চাতাল ও ১০-১৫টি পাকা দোকান থাকার পরও তার ছেলে অর্জুন চন্দ্র কে হতদরিদ্র দেখিয়ে ফেয়ার প্রাইজের তালিকাভুক্ত করেছে। একই অবস্থা নরেশ চন্দ্র দাশের।

তার অবস্থাও অনুরুপ।তিনিও ছেলে হিটলারকে ফেয়ার প্রাইজের সুবিধাভোগী নির্বাচন করেছেন।ঘনিমহেশপুর গ্রামের আফাজ উদ্দীনের ছেলে মজিবর রহমানের রয়েছে পাকাবাড়ি।তার স্ত্রী মিনারা বেগমের নামে ১০ টাকা কেজিতে চাল ক্রয়ের সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হয়েছে।আঃ সোবাহানের ছেলে আব্দুল গফুর তার মায়েও ফেয়ার প্রাইজের কার্ড বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।অথচ তার ছেলে ফারুক মোটা বেতনে বিদেশে (কাতার) চাকুরী করে আসছে।

সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম তার স্ত্রী কুলসুম বেগম সহ একই অন্নে থাকলেও স্বামী স্ত্রীর নামে পৃথক দুটি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।আর স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে একই পরিবারে ৪টি কার্ড বরাদ্দ প্রদান করেছেন একই গ্রামের সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার হালিমা বেগম।তিনি তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম,ভাসুর খাদেমুল ইসলাম,দেবর জাহেরুল ইসলাম কালই এবং দেবরপুত্র সুলতার আলমের নামে ৪টি কার্ড বরাদ্দ প্রদান করেছেন।এ ব্যাপারে আনোয়ার হোসেন নামে একজন ইউপি সদস্য জানান, ফেয়ার প্রাইজের কার্ড বিতণের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করা হলেও ইউপি সদস্যদের কমিটিতে না রেখে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

আইনুল হক নামে একজন ইউপি সদস্য জানান,ফেয়ার প্রাইজের কার্ড জেনারেল বরাদ্দ,নির্বাচিত মেম্বার চেয়ারম্যান সুবিধা ভোগী নির্বাচন করার কথা।কিন্তু নির্বাচিত মেম্বারদের মাধ্যমে কার্ড বরাদ্দ না দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে সুবিধাভোগীর তালিকা প্রনয়ন করা হয়েছে।ইউনিয়ন ফেয়ার প্রাইজ কমিটির সভাপতি একজন সরকারি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) ও সদস্য সচীব সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সচিব। ইউপি চেয়ারম্যান ওই কমিটির সদস্য মাত্র।তারপরও ট্যাগ অফিসারকে না ডেকে কিংবা সভা না করে ইউপি চেয়ারম্যান তার ইচ্ছেমতো লোককে নিয়ে সুবিধাভোগীদের তালিকা চুড়ান্ত করে সভাপতির স্থলে স্বাক্ষর করেছেন।

এ ব্যাপারে রুহিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক বাবু অনিয়মের মাধ্যমে কার্ড বিতরণের অভিযোগ এড়িয়ে গিয়ে বলেন,ফেয়ার প্রাইজের কার্ডের অনিয়মের ব্যাপারে তার কোন দায় দায়িত্ব নেই।কারণ তিনি ওই কমিটির একজন সদস্য মাত্র।

অপরদিকে রুহিয়া ইউপি ফেয়ার প্রাইজ কমিটির সভাপতি ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা সহঃ মৎস্য কর্মকর্তা আব্বাাস আলী জানান,তাকে ট্যাগ অফিসার নির্বাচন করা হলেও এখন পর্যন্ত ইউপি চেয়ারম্যান কিংবা সচীব কোন ব্যাপারে আবগত করেনি।কাজেই সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্যাটাগরি কি তা তার জানা নেই।একইভাবে কাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে সেটাও তিনি জানেন না।

ঠাকুরগাঁও সদও উপজেলার প্রায় সব ইউনয়নে এভাবে অনিয়মের মাধ্যমে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হয়েছে।
অপরদিকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হাফিজ উদ্দীন জানান,সরকার মূলতঃ সমাজ থেকে ভিক্ষাবৃত্তি তুলে দেওয়ার জন্য হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। সে হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের তালিকা প্রনয়নের মাধ্যমে কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।তবে কোন ইউনিয়নে সুবিধাভোগী নির্বাচনে অভিযোগ পাওয়া গেলে কার্ড বাতিল করা হবে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর সদও উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নে ফেয়ার প্রাইজের চাল বিক্রির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ^াস।তারপও বাস্তবে এখনো কোন ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়নি।






মন্তব্য চালু নেই