মেইন ম্যেনু

ঠিকাদারের ঘরের ওপরই হেলে পড়ল নির্মাণাধীন ভবন

ঢাকার কেরানীগঞ্জে পুকুরের ওপর নির্মিত টিনের ঘরের ওপর হেলে পড়েছে নির্মাণাধীন চারতলা একটি ভবন। এতে টিনশেডের তিনটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই ঘরগুলো হেলে পড়া ভবনটির ঠিকাদারের। গতকাল সোমবার রাত নয়টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার শুভাঢ্যা পশ্চিমপাড়া পুরান কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

হেলে পড়া ভবনটির মালিক শহিদুল ইসলাম। শহিদুল ইসলামের ভাষ্য, তিন থেকে চার মাস আগে ওই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। নির্মাণকাজের ঠিকাদার তাঁর বড়ভাই মো. মতিউর রহমান। টিনের যে বাড়িটির ওপর ভবনটি হেলে পড়েছে, এটি ঠিকাদার মতিউর রহমানের। তাঁর দাবি, হেলে পড়া ভবনটি তাঁদের ঘরের ওপর পড়ায় প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলী বলেন, ভবনটি নির্মাণকালে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করা হয়েছে। রাজউকের নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া পাইলিং ছাড়া ভবন নির্মাণের কারণে এ ঘটনাটি ঘটে। এখন এ ভবনটিতে গুঁড়িয়ে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।

ভবনটির মালিক শহিদুল বলেন, ‘নির্মাণের জন্য আমার বড় ভাই মতিউর রহমানকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি ঠিকমতো কাজ করেননি।’

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক ও ভবনের ঠিকাদার মতিউর রহমানের মেয়ে মুক্তা বেগম বলেন, ‘গতকাল রাত থেকে আমরা অন্যের বাসায় আশ্রয় নিয়েছি। নির্মাণাধীন ভবনটি আমাদের টিনশেডের ঘরের ওপর হেলে পড়ায় ঘরের সব মালামাল পানিতে তলিয়ে গেছে।’ মুক্তার দাবি, ভবনটি নির্মাণ করেছেন শহিদুল ইসলাম। অযথা তাঁর বাবার ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত টিনের বাড়ির মালিক মতিউর রহমানের ছোট মেয়ে ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শারমিন আক্তারের ভাষ্য, ‘আমি আমার দুই ভাগনি নাসরিন ও জান্নাতকে নিয়ে টিভি দেখছিলাম। এমন সময় বিকট শব্দ শুনতে পাই। বের হয়ে ভবনটি হেলে পড়তে দেখি। সঙ্গে সঙ্গে দৌঁড়ে দুই ভাগ্নিকে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভবনটি আমাদের ঘরের ওপর ধসে পড়ে।’

আজ সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, যেখানে ভবনটি হেলে পড়েছে, তার পশ্চিম পাশে প্রতিবেশী নূরজাহান বেগম ঘরের মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। মতিউর রহমানের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত টিনশেডের ঘর থেকে মালপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।

দ‌ক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন মীরের ভাষ্য, ঘটনার পর থেকে সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।






মন্তব্য চালু নেই