মেইন ম্যেনু

ডিএমপির দেওয়া তথ্য ফরম : ২০ লাখ পরিবারের সাড়া

ঢাকা মহানগরের বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটেদের তথ্য চেয়ে বিতরণ করা ২২ লাখ ফরমের মধ্যে প্রায় ২০ লাখ ফরম তথ্যসহ ফেরত পেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শুরু হয়েছে ডেটাবেজ তৈরির কাজ।

জমা পড়া ফরমগুলোর মধ্য থেকে এ পর্যন্ত এক লাখ ফরমে থাকা নাগরিকের তথ্য সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (সিআইএমএস) সংরক্ষণ করা হয়েছে। জানা গেছে, বাকি তথ্য এ বছরের মধ্যেই সিআইএমএস-এ সংরক্ষণ করা হবে। পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ প্রস্তুত হলে রাজধানীর অপরাধ আরও হ্রাস পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ডিএমপি।

বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মাসিক অপরাধ বিষয়ক সভায় তথ্য ফরম সংরক্ষণ ও কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। এসময় তিনি প্রতিটি থানাকে তথ্য ফরম সিআইএমএস-এ সংরক্ষণের নির্দেশনা দেন। এ বছরের মধ্যে তথ্য ফরম সিআইএমএস-এ ইনপুট হিসেবে দেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

সভায় জানানো হয়, ডিএমপি থেকে মোট ২২ লাখ ফরম নগরীতে ছাড়া হয়েছিল। এরমধ্যে ১৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৯৭টি ফরম পূরণ করে ফেরত দিয়েছে নগরবাসী। নাগরিকদের এসব তথ্য সংরক্ষণের জন্য সফটওয়্যারের মাধ্যমে একটি ডেটাবেজ প্রস্তুত করা হয়েছে, যেটি সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিআইএমএস) হিসেবে পরিচিত। গত ১ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় সিআইএমএস এর উদ্বোধন করেন ডিএমপি কমিশনার। প্রায় এক লাখ ফরমের তথ্য সেখানে ইনপুট হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন ধরনের নাশকতা-অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থামানোর লক্ষ্যে ২০১৫ সালে ডিএমপি নগরীর সকল ভাড়াটের তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়। গত বছর এ বিষয়ে তেমন কোনও পুলিশি উদ্যোগ না থাকলেও ২০১৬-এর শুরু থেকে তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেন। এক পৃষ্ঠার একটি সাদা ফরম ভাড়াটেদের পূরণ করতে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে ভাড়াটের ছবির পাশাপাশি তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর, ফোন নম্বর, জন্ম তারিখ, পেশাসহ বাসার বাসিন্দা এবং গৃহকর্মী ও ড্রাইভারের তথ্য চাওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের লোগো সম্বলিত ওই ফরমের ফটোকপি বাড়ি-বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আবার তা সংগ্রহ করছেন পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশের এই উদ্যোগের পর রাজধানীবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ-কেউ আন্তরিকতার সঙ্গে ফরম পূরণ করে দিলেও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যক্তিগত তথ্য পুলিশকে জানাবেন কেন। অনেকে অভিযোগ করেছেন, ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। পুলিশ সেই অধিকার ভঙ্গ করতে পারে না। পুলিশের এই কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে গত ৫ মার্চ আদালতে রিট আবেদন করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। যদিও রিটটি পরবর্তীতে খারিজ হয়ে যায়।

এর আগে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে রাজধানীতে বসবাসকারী নাগরিকদের তাদের তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সিআরপিসি’র ৪২ ধারা অনুযায়ী পুলিশকে সহায়তা করতে প্রতিটি নাগরিক বাধ্য। তারা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হলেও তথ্য ফরম পূরণ করে পুলিশকে সহায়তা করবেন।’

পুলিশ জানিয়েছে, তথ্য ফরম সংগ্রহের পর অপরাধ দমন ও জনগণের নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিআইএমএস) চালু করা হয়েছে। সিআইএমএস প্রকল্পের আওতায় নাগরিকদের সকল তথ্য গোপনীয়তা অবলম্বন করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিশেষ ডেটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে।

পুলিশ কমিশনার বুধবারের সভায় ওসিদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রতিটি থানায় তথ্য ফরম ডেটাবেজে এন্ট্রি দিতে হবে। এর ওপর ভিত্তি করে আগামীতে থানার কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে। এটা করা সম্ভব হলে অপরাধ আরও নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এজন্য প্রতিটি থানায় লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে।’

অবশিষ্ট ২ লাখ ২৯ হাজার ৩টি ফরম বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটেরা ফেরত দেয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। আরও জানানো হয়, যেহেতু এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, পুলিশ আশা করছে বাকি ফরমগুলোও ক্রমে জমা পড়বে।






মন্তব্য চালু নেই