মেইন ম্যেনু

ডিজিটাল বাংলার সপ্নপূরণে স্বাস্থ্যখাতে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার

বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটি মানুষের বসবাস। দেশের বিভিন্ন সরকারী হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬০০-রও বেশি স্পর্শকাতর ইলেক্ট্রোমেডিকেল যন্ত্রপাতি রয়েছে। ব্যায়বহুল এসব যন্ত্রপাতির সঠিক ক্যালিব্রেশন, ব্যাবহার, রক্ষণাবেক্ষণ, চালনা, মাননিয়ন্ত্রণ ও মেরামত না করা হলে রোগীদের মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনা অবস্যম্ভাবি। একমাত্র বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়াররাই এসব যন্ত্রপাতির সঠিক পর্যালোচনা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাবহার নিশ্চিত করতে পারে।

১৬ কোটির এই বৃহৎ জনসংখ্যার জন্য কার্যকরী, নিরাপদ, ব্যায়সাপেক্ষ ও প্রযুক্তিবান্ধব স্বাস্থ্যসসেবা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি হয়ে পড়েছে। এ জন্যই দক্ষ বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারদের তত্ত্বাবধায়নে এই খাতকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, বাংলাদেশের সরকারী বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫৬ শতাংশ যন্ত্রপাতি অব্যাবহৃত এবং ৮০ শতাংশের বেশি যন্ত্রপাতি অলসভাবে পড়ে আছে। আরও জানা গেছে, ৫০ শতাংশেরও বেশী প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি বিভিন্ন হাসপাতালে পড়ে আছে। বিশ্বব্যাংকের এই জরিপটি স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি জনসংখ্যা সেক্টর প্রোগ্রামে ২০০৬-২০১১ সালে পরিচালিত হয়েছে।

এছাড়া নেদারল্যান্ডের একটি দল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাহায্যে ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগে ৫০টির হাসপাতালে পরিচালিত এক জরিপ থেকে জানা গেছে যে, এ সকল গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য কোন দক্ষ কর্মকর্তা ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার নেই।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতকে এগিয়ে নিয়ে এবং এই খাতে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগ দেয়ার অভিষ্ট লক্ষে গত ২০ আগষ্ট ২০১৫ তারিখে অধ্যাপক ড. আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান (পরিচালক, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও লাইন ডাইরেক্টর, সিডিসি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা) এর নেতৃত্বে এবং গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল ফিজিক্স এন্ড বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের ১৯ জন বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার গ্র্যাজুয়েটদের উপস্থিতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্দ্যোগে এক জরুরী পরামর্শের সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সকল বক্তারা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারদের অন্তর্ভুক্তির জোর দাবি জানান।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশের গড়ার যে ভিশন হাতে নিয়েছেন তাতে স্বাস্থ্যখাতকে পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তিবান্ধব ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিষচিত করতে হলে যতদ্রুত সম্ভব সরকারী প্রতিটি হাসপাতালে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার ও মেডিকেল ফিজিসিস্টদের পদসৃষ্টি ও অন্তর্ভুক্তি দরকার। তা না হলে ডিজিটাল ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া কখনই সম্ভব হবে না।






মন্তব্য চালু নেই