মেইন ম্যেনু

ডিপ্রেশন কমাতে ব্যবহার করুন ঠান্ডা পানি!

আপনি যদি কাউকে হাইড্রোথেরাপি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন তাহলে সে হয়ত খুবই অদ্ভুত চোখে তাকাবে আপনার দিকে। কারণ হাইড্রোথারাপি বা পানির থেরাপি এখনও ততটা প্রচলিত নয়। পানি গরম হোক বা ঠান্ডা তা কোন মানসিক রোগে কাজে লাগতে পারে এই ধারণাই বেশীরভাগ মানুষের নেই।

Centre for Disease Control and Prevention (CDC) এর হিসেব মতে, আমেরিকানদের মধ্যে ৫ শতাংশ মানুষ ডিপ্রেশনে ভোগেন। এই সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তির উপায় বের করতে গবেষণা করে চলেছেন বিজ্ঞানীরা। ভেবে দেখুন তো, কি অদ্ভুত! সমাধান হিসেবে তারা পেলেন ঠান্ডা পানি!

আসুন জেনে নিই বিস্তারিত-

ঠান্ডা পানি স্বাস্থের জন্য ভাল
যারা শীতে সাঁতার কাটতে পছন্দ করে এবং যারা নিয়মিত চিকিরসাধীন থাকেন উভয়ের উপর গবেষণা করে এই সিদ্ধান্তে পোছানো গেছে যে, আমাদের শরীর ঠান্ডা পানিতে কোন না কোন প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে এবং পছন্দও করে। ঠান্ডা পানির সাঁতারুরা এবং যারা গোসলে ঠান্ডা পানি ব্যবহার করতে পছন্দ করেন দেখা গেছে তাদের মুড ভাল থাকে, স্ট্রেস কম থাকে, তারা অনেক এনার্জি পায়, কাজ করতে ভাল লাগে এবং শরীরের অনেক ব্যাথা থেকে তারা মুক্তি পায়।

ডিপ্রেসন কমায়
ডা. নিকোলাই শেভচুকের মতে, আমাদের যাদের চূড়ান্ত পর্যায়ের স্ট্রেসের সমস্যা রয়েছে তাদের ঠান্ডা পানির থেরাপি নেওয়া উচিৎ। কোল্ড ওয়াটার শক ট্রিটমেন্ট আমাদের মস্তিষ্কে বেটা-এন্ডরফিন এবং নোরাড্রেনালাইনকে কর্মক্ষম করে। ডিপ্রেশন কাটাতে এদের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন পড়ে। সাধারণত মেডিকেশনের মাধ্যমে বাড়ানো হয়। তবে ঠান্ডা পানির শক প্রাকৃতিক উপায়েই এক্ষেত্রে ফলপ্রসু হয়। কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই, ফলে একজন রোগীর জন্য এর চেয়ে নিরাপদ চিকিৎসা আর হয় না।

ঠান্ডা পানির শকটি অনেক দিক থেকেই বৈদ্যুতিক শকের সমকক্ষ। বৈদ্যুতিক শকে বিদ্যুৎ আমাদের নার্ভের মধ্য দিয়ে বয়ে যায়, অনেকখানি যাত্রার পর সে পৌছায় মস্তিষ্কে। একইভাবে শেভচুকের এই গবেষণা একই ফল দিতে পারে ডিপ্রেশন দূর করার জন্য।

ইউরিক এসিড কমায়
বোনাস সংবাদ হল, একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঠান্ডা পানিতে গোসল ইউরিক এসিডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এই মাত্রা যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে তাহলে আপনি হয়ত কষ্টদায়ক কিডনীর সমস্যায় ভুগবেন।

ত্বক ভাল রাখে
ডার্মাটলজিস্ট ডা. নেইল শুলজ এর মতে, ঠান্ডা পানিতে গোসল আমাদের ত্বকের জন্যও খুবই উপকারী। প্রথমে গরম পানিতে মুখ ধুয়ে এরপর ঠান্ডা পানির ব্যবহার আপনার ত্বকের জন্য কার্যকরি ভূমিকা রাখে। এতে চোখের লালচে ভাব, চোখের নিচে ফোলাভাব কেটে যাবে। আপনি অবাক হয়ে লক্ষ্য করবেন, এভাবে মুখ ধোঁয়া বা গোসল করা শুধু আপনার ত্বকের উপকারই করবে না আপনার মনও ভাল করে দেবে।

ঠান্ডা পানির অনেক উপকার। কিন্তু গরম আবহাওয়ায় হঠাৎ বরফ শীতল পানির ব্যবহার আপনাকে অসুস্থ করে দিতে পারে। বাইরে থেকে ফিরে আগে কিছুক্ষণ রেস্ট নিন। সহনীয় মাত্রার ঠান্ডা পানি ব্যবহার করুন। আপনার যদি ঘন ঘন ঠান্ডা লাগা বা এ জাতীয় কোন সমস্যা থেকে থাকে তাহলে আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।






মন্তব্য চালু নেই