মেইন ম্যেনু

শিশু জিহাদের মৃত্যু

ডিবির অধিকতর তদন্তে ঝুলে আছে বিচার

রাজধানীর শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির ওয়াসার পানির পাম্পের পাইপে পড়ে শিশু জিহাদের (৩) মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অধিকতর তদন্তে ঝুলে আছে।

এ মামলা দায়েরের চার মাস পর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে শাহজাহানপুর থানা পুলিশ। কিন্তু ডিবি পুলিশ ৯ মাসেও মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। ফলে অনেকটাই থমকে আছে বিচার।

এ মামলার আদালতের নথি সূত্রে দেখা যায়, গত বছর ৪ জুন ঢাকা সিএমএম আদালত মামলার অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন ডিবি পুলিশকে। এরপর ৯ মাসে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আটটি ধার্য তারিখ পড়লেও আদালতে ডিবি পুলিশ কোনো প্রতিবেদন বা অগ্রগতি প্রতিবেদনও দাখিল করতে পারেনি। এমনকি অভিযুক্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার বা জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি। মামলায় আগামী ৩০ মার্চ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর দুপুর ৩টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরের রেলওয়ে মাঠসংলগ্ন ওয়াসার পানির পাম্পের পাইপে শিশু জিহাদ পড়ে যায়। এরপর গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। রাতভর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হয়। পরদিন দুপুরে শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করেন জনৈক মজিদ, লিটু ও আনোয়ার। তাদের তৈরি একটি ক্যাচারের মাধ্যমে জিহাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ওই ঘটনায় শিশু জিহাদের বাবা নাসির উদ্দিনের করা মামলায় চার মাসের মধ্যে গত বছর ৭ এপ্রিল শাহজাহানপুর থানার এসআই আবু জাফর দুই জনকে অভিযুক্ত করে দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় (অবহেলাজনিত মৃত্যু) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

সেই অভিযুক্ত দুইজন হলেন, রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএসআরের মালিক প্রকৌশলী আব্দুস সালাম ওরফে শফিকুল ইসলাম।

কিন্তু ওই অভিযোগপত্রে বাদী সন্তুষ্ট হতে না পারায় আরো চারজন ওই ঘটনায় দায়ী বলে নারাজী দাখিল করেন।

এরা হলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী (সেতু) নাসির উদ্দিন, সহকারী প্রকৌশলী (বিদুৎ) দীপক বাবু, সিনিয়র উপসহকারী প্রকৌশলী আবু জাফর ও মহাব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম।

ওই নারাজীর ভিত্তিতে গত বছর ৪ জুন ডিবিকে মামলার অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে যে, শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির মৈত্রী সংঘ মাঠের কোণে একটি পানির পাম্পের মুখ খোলা ছিল। এতে ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর দুপুর ৩টার দিকে নাসির উদ্দিনের ছেলে শিশু জিহাদ পাইপের ভেতরে পড়ে গিয়ে মারা যায়।রাইজিংবিডি






মন্তব্য চালু নেই