মেইন ম্যেনু

ডিমলায় বরাদ্দকৃত প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় মামলা : দুদকের তদন্ত


হামিদা আক্তার, নীলফামারী থেকে :
কাজের বিনিময়ে খাদ্য প্রকল্পের বরাদ্দকৃত সমুদয় অর্থ কাজ না করেই আত্মসাৎ ও দায়রা জজ আদালতে মামলার ঘটনায় দুদকের তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কোর্টের মামলা ও দুদক বরাবরে অভিযোগে সূত্র ধরে জানা যায়, নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে বরাদ্দকৃত ১১ মেট্রিকটন চাউল প্রকল্পের আওতায় নুরুল ইসলামের বাড়ী হতে আজমের বাড়ীর পাশ দিয়ে মেহের আলীর বাড়ী পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা মেরামতের কোন কাজ না করেই পুরো অর্থ প্রকল্পের চেয়ারম্যান খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার তফেল উদ্দিন আত্মসাৎ করেছেন।

এ ঘটনায় ঐ এলাকার মৃত সমছের আলী পুত্র অলিযার রহমান প্রতিকার চেয়ে গত ২২অক্টোবর’১৬ দায়রা জজ ও সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত, নীলফামারীতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার পিঠিশন নম্বর-০৯/২০১৬। পিটিশনে তফেল উদ্দিন, সহির উদ্দিন, সিজরাতুল মোন্তাহা ওরফে লাকি, দুলাল হোসেন, অনেশ চন্দ্র ও মশিয়ার রহমানকে আসামী করা হয়। পিটিশনে অভিযোগ করা হয়, উক্ত অর্থ বছরের রাস্তা সংস্কার প্রকল্প ২য় পর্যায়ের ৯নং প্রকল্পের জন্য ১১ মেঃ টন চাউল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তৎকালীন সময়ে যার মূল্য ৩লাখ ৯০হাজার ২৯১টাকা। প্রকল্প চেয়ারম্যান তফেল উদ্দিন ভূঁয়া কমিটি সাজিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন করে অত্মসাৎ করেন। ফলে গত ২৯ জুলাই/১৫ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ দাখিল করা হয়। দরখাস্তকারীদের বরাবরে গত ৬ আগষ্ট/১৫ তদন্তের জন্য নোটিশ প্রদান করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তদন্তের দিন ধার্য্য ছিলো ১০ আগষ্ট/১৫। নোটিশ অনুযায়ী তদন্ত না হওয়ায় পুনরায় বাদীগণ ২৭ আগষ্ট/১৫ জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দাখিল করে অনুলিপি দুদক বরাবরে প্রেরণ করেন। সে সময়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের ঘটনা উল্লেখ করে খবর প্রকাশিত হয়। এলাকাবাসীরা সে সময়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেন এর বিচার দাবীতেমামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে দুর্ণীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়, দিনাজপুর স্মারক নং-দুদক/সজেকা/দিনাজ/৩১৮/১(৭) বিবাদীদেরকে জানানো হয় প্রকল্পের পরিমাপ গ্রহনের সময় প্রকল্প স্থানে উপস্থিত থাকা প্রসঙ্গে, সূত্র: দুর্ণীতি দমন কমশিন, বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহী স্মারক নং-দুদক/সি/বিকা/৬৬-২০১৬/দিনাজপুর/৩৫০১তাং-৪ ডিসেম্বর/১৬ এবং বিজ্ঞ দায়রা জজ ও সিনিয়র জজ আদালত. নীলফামারী পিটিশন নং০৯/১৬। উল্লেখ পুর্বক ডিমলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান (তৎকালীণ), প্রকল্পের চেয়ারম্যান তফেল উদ্দিন, সেক্রেটারী সহির উদ্দিন ( ধৌলু), প্রকল্প সদস্য ও ইউপি সদস্যা সিজরাতুল মোন্তাহা ওরফে লাকি, সদস্য দুলাল হোসেন, সদস্য অনেশ চন্দ্র ও বাদী অলিযার রহমানকে ২৮ ফ্রেব্রুয়ারী/১৭ সকাল ১০ ঘটিকায় নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশ প্রদান করেন।

নির্ধারিত তারিখে দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ নির্ধারিত সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না হয়ে প্রায় ৫ ঘন্টা বিলম্বে উপস্থিত হওয়ায় স্বাক্ষীগণ স্বাক্ষ দিতে পারেন নাই মর্মে অভিযোগ করে উক্ত প্রকল্পের সেক্রেটারী সহির উদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়ের বরাবের গত ১৩ মার্চ/১৭ একটি লিখিত প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। উক্ত প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, দুদক, দিনাজপুর কার্যালয়ের পিঃনং-৯/১৬ মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করনে সত্য উদঘাটন করে ১নং আসামী তফেল উদ্দন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে দোষী করিয়া তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিলসহ আমার নাম বাদ দিতে আবেদন করছি।

তিনি আবেদনে বলেন, গত ২০ ফ্রেব্রুয়ারী/১৭ দুদক,দিনাজপুর হতে আমার নামে একটি নোটিশ আসে। স্মারক নং-৩১৮/১(৭)। অপরদিকে ৯/১৬ পিটিশন এর কপি তুলে দেখি সেখানে আমাকে ২নং আসামী করা হয়েছে। ঐ প্রকল্পের বরাদ্দকৃত টাকা আমাকে সেক্রেটারী বানিয়ে উক্ত অর্থ উত্তোলন করে কোন কাজ না করেই প্রকল্প চেয়ারম্যান সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেন।

তিনি একটি ভূঁয়া কমিটি দেখিয়ে এই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। যা আমার বিরুদ্ধে মামলা ও নোটিশ হওয়ার পূর্বদিন পর্যন্ত জানতাম না। প্রকল্প চেয়ারম্যান ভূঁয়া কমিটি ও জ্বাল স্বাক্ষরে মাষ্টার রোল সাজিয়েছেন। সহির উদ্দিন প্রকল্প সেক্রেটারী অভিযোগে বলেন, প্রকল্প চেয়ারম্যান উক্ত বরাদ্দকৃত ১১ মেঃটন চাউল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। প্রকল্পটি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দোষী সাবস্ত করে এবং দোষী নয় এমন ব্যাক্তিদের এ ঘটনা থেকে অব্যাহতি দিতে দুদকের কাছে আবেদন করেছেন।






মন্তব্য চালু নেই